Search This Blog

FCO Travel Advice

Bangladesh Travel Advice

AFRICA Travel Widget

Asia Travel Widget

Wednesday, October 27, 2010

বান্দরবান ভ্রমন - ১

বান্দরবান ভ্রমন - ১



বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান । ওখানের সৌন্দর্যের কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা, পাহাড়ের ঐ স্বপ্নপুরী দেখার জন্য অনেকদিনই প্রহর গুনেছি । শেষ পর্যন্ত আমার কয়েকজন বন্ধুর সাথে ঈদের পর পরই আমরা বান্দরবানে পৌছাই । আমার এই বন্ধুদের সাথে অতীত ভ্রমন অভিজ্ঞতা সুখকর ছিলনা, তাই কিছুটা সংকা নিয়েই ওদের সাথে গেলাম ।
সবচাইতে টেনশানে ছিলাম, আগে হোটেল বুক করতে না পেরে । ঈদ পরবর্তী এই সময়ে ঐসব এলাকায় পর্যটকদের উপচে পরা ভীর, হোটেল না পেলে সমস্যায় পড়ার আশংকা যোল আনা । কিন্তু ভাগ্য আমাদের অতি সুপ্রশন্ন, বান্ধরবানে ঢুকার মূহুর্তে পর্যটনের যেই মোটেল রয়েছে ওখানে আমরা রুম পেয়ে যাই ।

এবার আসি বন্ধুদের কথায়, ওদের সাথে আমার অতীত ভ্রমন অভিজ্ঞতা সুখের হয়নি কেন, গত ঈদ পরবর্তী সময় ওদের সাথে রাঙামাটি গিয়েছিলাম, ওরা গাড়িতে বসে কিংবা ট্রলারে বসেই রাঙামাটি ভ্রমন শেষ করেছিল, আমি চেয়েছিলাম গভীরে গিয়ে আরো ভালোভাবে রাঙামাটিকে দেখতে, কিন্তু ওরা পাহাড়ে চড়তে ভয় পায় বিধায় আমারও আর যাওয়া হয়নি । এবার ও ওদের সাথে গিয়ে আমার সেই একই অভিজ্ঞতা হয় । অর্থাৎ ভালোভাবে বান্দরবানকে দেখতে পারিনি আমার ননীর পুতুল বন্ধুদের জন্য । গাড়িতে থেকে যতটুকু দেখা যায় ততটুকুতেই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয় ।

বান্দরবানে ছিলাম আমরা মাত্র একদিন, ঐ একদিনকে আমি সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা তিনটি অংশে বিভক্ত করে তিনটি পোষ্ট দিব । আজ সকাল বেলার অভিজ্ঞতাটা বর্ণনা করবো ।


পর্যটনের এই মোটেলে ছিল আমাদের থাকার ব্যবস্থা, ইহা বান্দরবান শহরে ঢুকার ৫ কিলোমিটার আগে ।


সকালে নাস্তা সেরে মেঘলা পর্যটনের ১০ টাকার টিকিট কেটে নেমে যাই তার ভিতরে, আর সেখানেই বিশাল পুকুর না হৃদ ঠিক জানিনা তার ওপরে ঝুলে আছে এই অচেনা রঙের চেনা ফুল ।


দুটি ঝুলন্ত সেতুর একটি বেয়ে চলে গেলাম ওপাড়ে পাহাড়ে ।


বান্দরবানে বান্দর বলতে ওদেরকেই দেখলাম মেঘলা পর্যটনের পাহাড়ের ওপরে খাচায় বন্দি ।


বান্দরদে অতিক্রম করে পাহাড়ের আরো উচুতে চড়ার পর কলমি ফুলের ন্যায় এই ফুলটা দেখতে পাই, কিন্তু গাছের পাতা বলে এগুলো কলমী ফুল না ।


পাহাড়ে চড়ে টায়ার্ড হয়ে গেছেন ? নো চিন্তা, আপনার তৃষ্ণা নিবারণ এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য সব রকমের ব্যবস্থাই রেখেছে পাহাড়ি ললনারা ।







নেমে আসার পথে আরো কিছু পাহাড়ি ফুল


ক্যামেরাম্যান সহ অভিযাত্রীদের ছবি ।
লেখক: কামাল উদ্দিন
SOURCE: prothom-aloblog

বেড়া নো : ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল

বেড়া নো : ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল

আতাউর রহমান কাজল
চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল। পাহাড়, অরণ্য, হাওর আর সবুজ চা-বাগান ঘেরা শ্রীমঙ্গল। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার এখনি সময়। প্রকৃতির সুরম্য নিকেতন শ্রীমঙ্গলে দেখার আছে চা-বাগানের পর চা-বাগান, চা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র, লাউয়াছড়া রেইনফরেস্ট, মাগুরছড়া গ্যাসকূপ, চা গবেষণা কেন্দ্র, লাউয়াছড়া ইন্সপেকশন বাংলো, খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরীপাড়া, হাইল-হাওর, ডিনস্টন সিমেট্রি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নির্মাই শিববাড়ি, টি-রিসোর্ট, ভাড়াউড়া লেক, হাজার প্রজাতির গাছ-গাছালি, দিগন্তজোড়া হাওর প্রভৃতি।
চা শিল্পের জন্য শ্রীমঙ্গলের সুনাম ও পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জনপদের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে সারা দেশের। ভ্রমণবিলাসীদের কাছে এ এলাকাটি যেন তীর্থস্থান।
কী কী দেখবেন
চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) : চারদিকে সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, চা-বাগান আর চা-বাগান। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দেশের একমাত্র চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। এ ক্যাম্পাসে আছে সারিবদ্ধ পাম, ইউক্যালিপটাস ইত্যাদি বৃক্ষের শোভা। লেকের জলে ফুটন্ত লাল জলপদ্ম। এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি চা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র। পরিচালকের অনুমতি সাপেক্ষে চা কারখানাসহ পুরো এলাকাটি আপনি দেখে নিতে পারেন। টি রিসোর্ট : শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশে ভাড়াউড়া চা-বাগান সংলগ্ন ২৫.৮৩ একর জায়গার ওপর টি রিসোর্টের অবস্থান। অন্যান্য সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য সুইমিংপুলসহ একটি অত্যাধুনিক টেনিস কোর্ট ও একটি ব্যাডমিন্টন কোর্টও রয়েছে এখানে। ২ রুম বিশিস্ট কটেজের ভাড়া ৩ হাজার টাকা এবং ৩ রুমবিশিষ্ট কটেজের ভাড়া ৪ হাজার টাকা। ভিআইপি রুম ২ হাজার টাকা এবং আইপি রুম দেড় হাজার টাকা।
সিতেশবাবুর চিড়িয়াখানা : দুর্দান্ত সাহসী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ সিতেশরঞ্জন দেব। এ মানুষটির সখ্য বনের পশু-পাখিদের সঙ্গে। সেই সখ্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ শহরের মিশন রোড এলাকায় তার নিজ বাসভবনে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা মিনি-চিড়িয়াখানাটি।
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক : শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ন্যাশনাল পার্ক লাউয়াছড়ার অবস্থান। শ্রীমঙ্গল থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে অথবা বাসে চড়ে আপনি আসতে পারেন এই বনে। এখানে একটি পিকনিক স্পট আছে। এর নাম শ্যামলী। শ্যামলী থেকে আর কিছুদূর পথ গেলে লাউয়াছড়া বন বিট অফিস ও ইন্সপেকশন বাংলো চোখে পড়বে। বন বিট কার্যালয়ের সামনে দেখতে পাবেন দক্ষিণ এশিয়ার বিরল প্রজাতির ‘আফ্রিকান টিক ওক’ বৃক্ষ যা দীর্ঘকাল থেকে ক্লোরোফর্ম বৃক্ষ নামে পরিচিত। এখানে পৌঁছার পর আপনি ইচ্ছে করলে হারিয়ে যেতে পারেন ঘন সবুজ অরণ্যে। দেখতে পাবেন উল্লুক, বনমোরগ, খরগোশ, বানর, হনুমান, হরিণ, ভল্লুক, চিতাবাঘসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি। এসব প্রাণী দেখতে বনের একটু গভীরে যেতে হবে। ভেতরে যেতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ইকো-ট্যুর গাইডের সাহায্য নিতে পারেন।
ভাড়াউড়া লেক : শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে জেমস ফিনলে কোম্পানির চা-বাগান ভাড়াউড়ায় রয়েছে একটি লেক। লেকে রয়েছে জলপদ্মের মেলা। চা -বাগানের বুকে এই লেকটির আকর্ষণ কম নয়। এখানে আছে বানর আর হনুমানের বিচরণ। শীতে দলবেঁধে আসে অতিথি পাখি। পাহাড়ের কাছাকাছি গেলেই দেখতে পাবেন একসঙ্গে অনেক বানর। চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। দেখবেন বানরগুলো আপনাকে ভেংচি কাটছে।
নির্মাই শিববাড়ি : আজ থেকে প্রায় ৫৫২ বছর আগে ১৪৫৪ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে নির্মাই শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে বালিশিরা অঞ্চলে ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। প্রবল শক্তিশালী এ রাজার বিরুদ্ধে ‘কুকি’ সামন্তরাজা প্রায়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন। এরকম কোনো একদিন কুকিরাজার বিদ্রোহের সংবাদ পেয়ে মহারাজা একদল সৈন্য পাঠান বিদ্রোহ দমন করতে। তুমুল এ যুদ্ধে কুকিরা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি রণক্ষেত্রে নিহত হন। বিয়ের অল্প ক’বছরের মধ্যেই স্বামীহারা হন মহারাজা কন্যা নির্মাই। তখনকার দিনে ভারতবর্ষে সহমরণ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু রাজকন্যা সহমরণে রাজি না হয়ে স্বামী নিহত হওয়ার স্থানে এসে শিবের আরাধনা শুরু করেন এবং সিদ্ধিও লাভ করেন। তার নামেই শিববাড়ির নামকরণ করা হয় নির্মাই শিববাড়ি। ঐতিহাসিক এই স্থানটি ধর্মীয় পৌরাণিক কাহিনী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আচার-আচরণে একটি অন্যতম তীর্থস্থানের মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে লাইটেস, কার ও টেম্পোযোগে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই এখানে পৌঁছা যায়।
হাইল-হাওর : শ্রীমঙ্গল শহরের পশ্চিম প্রান্তে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আছে এককালে বৃহত্তর সিলেটের মত্স্যভাণ্ডার বলে খ্যাত বিখ্যাত হাইল-হাওর। এই হাওরে শীত মৌসুমে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে আসে অতিথি পাখিরা। তারা দল বেঁধে হাওরে সাঁতার কেটে বেড়ায়। নৌকায় চড়ে অতিথি পাখিদের সাঁতার কাটা, জলকেলি ও জেলেদের মা ছধরার দৃশ্য দেখতে পারেন। হাওরের বাইক্কা বিলে নির্মিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে অতিথি পাখিদের দেখতে পারবেন। শীত মৌসুমে বাইক্কা বিলে হাজার হাজার পাখির অবাধ বিচরণের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি : বনবাদাড় আর গাছপালার সবুজ সমুদ্রের বুক চিরে চলে যাওয়া সড়ক আর রেলপথ পেরুলেই রয়েছে খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি পুঞ্জি। এ পুঞ্জির নাম মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। মাটির সিঁড়ি বেয়ে আপনি উঠে যেতে পারেন টিলা-পাহাড়ের মাথায়। ছোট ছোট অনেক টিলার উপর তারা গড়ে তুলেছেন নিজ নিজ বসতবাড়ি। তাদের ভাষায় একে বলে পুঞ্জি। খাসিয়া সম্প্রদায় গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বাস করে এখানে। প্রতিটি পুঞ্জিতে একজন করে মন্ত্রী (খাসিয়াদের প্রধান) থাকেন। পুঞ্জির মানুষের জীবনযাত্রাকে জানতে হলে মন্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। খাসিয়ারা থাকে শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মেজাজে, ভিন্ন পরিবেশে। একটু চোখ ফেরালেই দেখতে পাবেন পানের বরজ। খাসিয়া পুঞ্জি ঘুরে আপনি সহজেই খাসিয়াদের স্বতন্ত্র এবং বিচিত্র জীবনধারা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসকূপ : ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন গভীর রাতে এ গ্যাসকূপে ড্রিলিংয়ের সময় অগ্নিবিস্ফোরণে আশপাশের খাসিয়া পুঞ্জি, চা-বাগান, রেললাইন, সবুজ বনাঞ্চল সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই গ্যাসকূপটি এখন পরিত্যক্ত এবং সংরক্ষিত এলাকা। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া। গত ৮ বছর ধরে এ এলাকাটিতে আবার সজীবতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বন বিভাগ। আগুনে পোড়া গাছগুলো এখনও কালের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মাগুরছড়ায়। দর্শনার্থীরা এ এলাকায় বেড়াতে এসে অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করে মাগুরছড়ার দৃশ্যাবলি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিলুপ্ত জীববৈচিত্র্য অচিরেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়েও রয়েছে সংশয়। মাগুরছড়ার এ এলাকাকে এখন অনুপম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা যায়। শ্রীমঙ্গল থেকে সড়কপথে এখানে আসতে নয়ন ভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন কেবল উদ্যোগ আর আন্তরিকতার।
ডিনস্টন সিমেট্রি : শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ডিনস্টন চা-বাগানে এর অবস্থান। শতাধিক বছর আগে শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন চা-বাগানে ডিনস্টন সিমেট্রি’র গোড়াপত্তন হয়। ১৮৮০ সালে শ্রীমঙ্গল অঞ্চলে ব্রিটিশদের দ্বারা বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হওয়ার পর সুদূর ব্রিটেন থেকে এখানে টি প্ল্যান্টারদের আগমন ঘটতে থাকে। সেই যুগে যেসব বিদেশি এই অঞ্চলে মারা যান, সেসব বিদেশিকে সমাহিত করা হয় শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন সিমেট্রিতে। উঁচু-নিচু পাহাড় টিলায় ঘেরা চিরসবুজ চা-বাগানের মাঝে অবস্থিত এই সিমেট্রিতে বিদেশিদের কবর রয়েছে ৪৬টি।
কীভাবে আসবেন : প্রতিদিন ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের পথে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রা করে। ৫ ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন শ্রীমঙ্গল। পারাবত এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৬টায়, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস দুপুর ২টায় এবং উপবন রাত সাড়ে ১০টায়। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের চেয়ারকোচের ভাড়া ১৩৫ টাকা, ১ম চেয়ার ২০০ টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ৩০০ টাকা এবং স্লিপিং কোচে ৩৬০ টাকা। টিকিট সংগ্রহ করা যাবে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে। বাসে যেতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। বাস ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এসি বাসে খরচ পড়বে ২৫০ টাকা।
কোথায় থাকবেন : শ্রীমঙ্গল শহরে ২০টিরও বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভালো দেখে যে কোনো একটিতে উঠতে পারেন। ভাড়া মোটামুটি কম। শ্রীমঙ্গল শহরের উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হলো—টি টাউন রেস্ট হাউস, হোটেল সন্ধ্যা, এলাহী প্লাজা, হোটেল বিরতি, আল-রহমান, হোটেল মুক্তা ও হোটেল নীলিমা। এছাড়াও সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থাগুলোর বেশকিছু বাংলো রয়েছে এখানে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে এখানে উঠতে পারেন। শ্রীমঙ্গলের সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে হলে অন্তত ৩-৪ দিন সময় নিয়ে এলেই ভালো হয়। সপরিবারে যেতে পারেন আবার বন্ধু-বান্ধব মিলে একত্রেও যেতে পারেন। শহরে খাওয়া-দাওয়ার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। নূর ফুডস, শাহ হোটেল, নোয়াখালী হোটেলের যে কোনো একটিতে আপনি স্বল্প খরচে খাওয়ার কাজ সেরে
নিতে পারেন।

Sunday, October 17, 2010

খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের উপচে পড়াভিড়

খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের উপচে পড়াভিড়

আব্দুল্লাহ আল- মামুন, খাগড়াছড়ি থেকে :

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি। এখানে পাহাড়, ঝরনা, নদী, আকাশ মিলেমিশে একাকার। এখানকার প্রকৃতির নির্মল পটে দেশী বিদেশি পর্যটক ছুটে আসছে। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি এ জনপদ এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে শহরের হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস এবং গেস্টহাউসগুলো অনেক আগেই বুকিং হয়েছে। কোথাও সীট না পেয়ে পর্যটকদের শেষ ঠিকানা উপজাতিদের বসত-বাড়ি। অজানা অচেনা অতিথির আশ্রয় মিলছে তাদের ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরে। পাহাড়িদের অতিথি আপ্যায়নে আগন্তুকরাও মুগ্ধ। পর্যটন শহর খাগড়াছড়ির ছায়া ঢাকা মায়া ভরা গ্রামগুলোতে এখন প্রতিদিন পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলা বসছে। কেউ আবার বেড়াতে এসেও হোটেল-মোটেলে সীট না পেয়ে জেলা শহর থেকে উপজেলা শহরগুলোর পর্যটন স্পটের কাছাকাছি হোটেল অথবা পরিচিত জনদের ঠিকানায় অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছে।
কোথায় যাবেন?
খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো হচ্ছে- খাগড়াছড়ি জেলা শহরের অদূরেই অবস্থিত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। এ পাহাড় চূড়ায় বসে এক পলকে পুরো খাগড়াছড়ি শহরের অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করা যাবে। তখন আপনার কা্ছে মনে হবে আপনি নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে অবস্থান করছেন। কারণ খাগড়াছড়ির মতই নেপাল শহরটি পাহাড় ঘেরা নির্মল পরিবেশে অবস্থিত। খাগড়াছড়ির এ দৃশ্য অনেকের কাছে কল্পনার দার্জিলিং হিসেবে খ্যাত। আলুটিলা পাহাড়ের নিচেই সিঁড়ি বেয়ে নেমে দেখতে পাবেন রহস্যময় কৃষ্ণ কালো গুহা। যেখানে মশাল জ্বালিয়ে যেতে হয়। এর এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বেড়িয়ে আসার পথে আপনাকে নিজে যাওয়া হবে রহস্যের অন্য কোন ভুবনে। এ গুহার নিচে স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা, মাথার কাছে বাদুরের ঝাক আরও কত কিছু...। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রিসাং ঝরনা, এই ঝরনাধারায় অনবরত ঝরনা ধারা ঝরঝর শিরশির বইছে; আর হাতছানিতে আপনাকেই ডাকছে। এখানে গোসলটাও সেরে নিতে পারেন। অনুমতি সাপেক্ষে শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত সেনাবাহিনীর রিজিয়ন কর্তৃক সৃষ্ট গিরী সোভা হ্রদকে ঘিরে গড়ে ওঠা নান্দনিক সাজে সজ্জিত নতুন পর্যটন কেন্দ্র সত্যি আপনাকে অন্য ভুবনে নিয়ে যাবে। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেবতা পুকুর, পথে দেখা মিলবে পাহাড়ে পাহাড়ে উপজাতিদের সৃজিত জুম ধানের ক্ষেত, এখানে আসার পথে মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা উপজাতির ঐতিহ্যবাহী ও বৈচিত্রময় জীবনধারা দেখা যাবে, শহরের প্রবেশমুখে রয়েছে নবনির্মিত আনসার ও ভিডিপির নান্দনিকতার ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত হেরিটেজ পার্ক, এখানে বসে এঁকে বেঁকে বয়ে যাওয়া চেঙ্গি নদী, উঁচু ঢেউ তোলা পাহাড়, দূরের নিল আকাশে সাদা মেঘের খেলা দেখার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। যা পর্যটকদের জন্য নতুন সংযোজন। খাগড়াছড়ি শহরের মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রকে ঘিরে হরেক রঙের ফুল,ফলজ, বনজ ও ভেষজ বাগান, পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে ছোট্ট একটি হ্রদ ও লোহার ব্রিজ। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা থেকে একটু ভিতরে রয়েছে এশিয়া উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তর বৌদ্ধমূর্তি। এই মূর্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা বিশাল আয়তনের অরণ্য কুটির আপনাকে নিয়ে যাবে চীন, জাপান, কোরিয়ার মত মঙ্গোলীয়ন কোন একদেশের বুড্ডিস জগতে। পানছড়ি উপজেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে তবলছড়ি ঝরনাটিলা। এখানে একটি পাহাড় ছড়ায় ছোট বড় পাথরের উপর দিয়ে প্রবাহমান স্বচ্ছ পানি, কয়েকটি ঝরনা ও বিরাশি টিলার গায়ে আদা-হলুদ, কচু, বিভিন্ন সবজিসহ জুম চাষ দেখার সুযোগটি বেশ ব্যতিক্রম। এখানে গামারি, সেগুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ পাহাড়ে হরেক রকম পাখ-পাখালি ছাড়াও বন্য শুকুর, বন্য বানর, বন্য হরিণের হাক-ডাক আনাগোনার দৃশ্যটিও কি কম ব্যতিক্রম?
এছাড়াও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি বিশাল ঝরনা আবিষ্কৃত হয়েছে। যা দেশের সবচেয়ে বড় ঝরনা বলা হচ্ছে। তবে এখনই এ ঝরনায় যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। ওদিকে মাটিরাঙ্গার ১০ মাইল এলাকায় শতবর্শী বটবৃক্ষ, রামগড়ের বিডিআরের জন্মস্থানকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন ঝুলন্ত ব্রিজ ও লেক দেখার মত একটি স্থান। এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ব বিষয় রামগড় উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট পাহাড়ি ফেনী নদীর ওপারেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য অবস্থিত। যা কাঁটা তাঁরের বেড়া দারা পরিবেষ্টিত। দেশের মানচিত্রে গ্রথিত ও প্রায় চিকন একটি দাগের মত সংযুক্ত স্থানটিই হচ্ছে রামগড়। এই রামগড় সীমান্ত ঘেঁষে রয়েছে বিশাল আকারের একটি চা বাগান সেখানেও আপনারা হারিয়ে যেতে পারেন। যে কোন সময়ে, যে কোন মূহুর্তে...
কিভাবে যাবেন?
রাজধানী ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস খাগড়াছড়ি আসে। এস আলম, সৌদিয়া, স্টার লাইন(এসিসহ), শান্তি পরিবহন, শ্যামলী বাসযোগে খাগড়াছড়ি আসতে ভাড়া লাগবে ৩০০-৩৫০ টাকা। অভ্যন্তরীণভাবে পাহাড়ি পথে ঘোরাঘুরির জন্য চাঁদের গাড়ি (জীপ) সবচেয়ে ভালো। খোলা গাড়িতে বসে প্রকৃতিও দেখা হবে, ছবি তোলা যাবে। তাছাড়া এক জিপে ২০জন উঠলেও সমস্যা নেই। তাই ভাড়াও অনেক কম। এছাড়া মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার সবই পাওয়া যাবে। এখন খাগড়াছড়ি শহরে ঘোরারোর জন্য অসংখ্য বেটারি চালিত দূষণমুক্ত টমটম গাড়িতো রয়েছেই। টমটম গাড়িতে চেপে কম সময়ে শহরের নিউজিল্যান্ড পর্যটন কেন্দ্র, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের স্থান খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম, বিভিন্ন দোকানে কেনাকাটার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোথায় থাকবেন?
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের খুব কাছে পাহাড় চূড়ায় নবনির্মিত ইমাং রির্সোস এন্ড নেচারাল রেস্টুরেন্ট ডবল কক্ষ নন এসি ১০০০ টাকা, সিঙ্গেল নন এসি ৮০০ টাকা, ডবল এসি রুম ১৮০০ টাকা। শহরের প্রবেশমুখে চেঙ্গী নদীর পারে অবস্থিত পর্যটন মোটেলের ডবল রুম নন এসি ১০৫০ টাকা, ডবল এসি রুম ১৫০০ টাকা, ভিআইপি সুইট রুম ২৫০০ টাকা ও সিঙ্গেল রুম ৩০০ টাকা, এসি রুম ৬০০ নন এসি ডবল নন এসি ৫০০ টাকা, সিঙ্গেল রুম ২০০ টাকা। এছাড়া আরও কম মূল্যে খাগড়াছড়ি বাজার এলাকায় রয়েছে হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেল।

Source: www.dailysangram.com

রহস্যময় আলুটিলা আর নয়নাভিরাম রিসাং

রহস্যময় আলুটিলা আর নয়নাভিরাম রিসাং


এপ্রিলের এক রৌদ্রময় সকালে বেড়িয়ে পড়লাম পার্বত্য চট্টগ্রামের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। সঙ্গে আমার সবসময়কার ভ্রমণ সঙ্গী বন্ধু মুসা আহমেদ, সাকিব হোসেন আর আবদুর রউফ। শিক্ষাজীবন চট্টগ্রামে হওয়ায় এদের সঙ্গে চষে বেড়িয়েছি চট্টগ্রাম আর পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সব জায়গায়। এবার খাগড়াছড়ি ভ্রমনে আমাদের মূল গন্তব্য ছিলো আলুটিলা আর রিসাং ঝর্না।
বাস স্ট্যান্ডে গিয়েই পড়লাম বিপাকে। সকাল সকাল পৌঁছুলেও বাস মিস করলাম। কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা জানালো দু’ঘন্টার আগে আর কোন গাড়ি নেই। আমাদের তো মাথায় হাত! কারণ রাতেই আবার চট্টগ্রাম ফিরে আসতে হবে । উপায়ন্তর না দেখে চড়ে বসলাম লোকাল বাসে। আর এখানেই ভুলটা করে বসলাম। রীতিমত যুদ্ধ করে বাসে সিট দখল করতে হলো। একে তো মানুষের উপচে পড়া ভীড়। তার উপর বাসের পেছনের সিটে বসায় ঝাকি খেতে খেতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। তবে মাটিরাঙ্গা পৌঁছানোর পর অবস্থা পাল্টে গেলো। পথের দু’ ধারের মনকাড়া রূপ আস্তে আস্তে আমাদের ক্লান্তির অনেকখানিই প্রশমিত করে দিলো। সারি সারি উঁচু পাহাড় আর জুম ক্ষেত পেছনে ফেলে আমাদের বাস ছুটে চলেছে। আর আমরা একেকজন হারিয়ে গেলাম মায়াবী এক জগতে। কিছুক্ষণ পর আমাদের বাসটি উঁচু-নীচু রাস্তায় গিয়ে পৌঁছুলো। হঠাৎ বাসটি একবার খাড়া উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে তো এই আবার বিপদজনকভাবে নেমে আসছে। কিছু কিছু জায়গায় দেখলাম সেতুর আগে ঝুঁকিপূর্ণ সতর্ক নির্দেশ দেওয়া। খাগড়াছড়ির পথে পথে এরকম প্রচুর ছোট ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু চোখে পড়ে।
বাসের হেল্পারকে আগেই বলে রেখেছিলাম আলুটিলা নামিয়ে দিতে। তিন ঘন্টার বাস জার্নিটাকে চার ঘন্টা বানিয়ে খাগড়াছড়ি শহরের প্রায় ছয় কি.মি. আগে বাস নামিয়ে দিলো আমাদের গন্তব্যস্থল আলুটিলায়। অনেকেই হয়তো জানেন আলুটিলা বিখ্যাত তার রহস্যময় সুড়ঙ্গের কারনে। আমাদেরও ব্যাপারটা আগে থেকেই জানা ছিলো। তাই আলুটিলায় নেমেই আমাদের মধ্যে একটা অ্যাডভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার ভাব চলে এলো। পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম। প্রবেশ মুখেই দেখতে পেলাম পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আলুটিলা কর্তৃপক্ষের সাইনবোর্ড। অনেক খানি হেঁটে আর প্রায় শ’খানেক ধাপ সিড়ি ভাঙ্গার পর গিয়ে মিললো সুড়ঙ্গ মুখের দেখা। বন্ধু রউফ মোবাইল টর্চের আলোতে সুড়ঙ্গের ভেতর ঢুকে পড়লো। তবে কিছুদূর গিয়েই বোঝা গেলো এরকম ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুড়ঙ্গ জয় সম্ভব নয়। তাছাড়া কোন কারন ছাড়াই গা ছম ছম করছিলো। তাই আবার ফিরে গিয়ে মশাল কিনে আনলাম। সুড়ঙ্গের পথ কিছুটা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল। তলদেশে প্রবাহমান ঝর্না। মাথার উপর ঘুটঘুটে অন্ধকারে বাদুড়ের কর্কশ চিৎকার। পাহাড়ের নীচে খুব সাবধানে মশাল নিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতর যেতে হয়। এভাবে মিনিট দশেক যাওয়ার পর পাওয়া গেলো সুড়ঙ্গের অপর প্রান্ত। বেশ একটা অ্যাডভেঞ্চার হয়ে গেলো ভাব নিয়ে আমরা মনোযোগ দিলাম মশাল হাতে ফটোসেশনে।


এ সিড়ি বেয়ে নিচে নামলেই আলুটিলা সুড়ুঙ্গ







মশাল হাতে ফটোশেসন

আলুটিলা সুড়ঙ্গ জয় (!) শেষে আমরা বেরিয়ে এলাম। আলুটিলার উল্টোপাশেই রয়েছে আবাসিক হোটেল ‘ইমাং’। পাহাড়ের উপর অবস্থিত এ হোটেল থেকে খাগড়াছড়ি শহরটিকে ছবির মতো সুন্দর দেখায়। ইমাংয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমরা রওয়ানা হলাম রিসাংয়ের উদ্দেশ্যে। আলুটিলা থেকে প্রায় দেড় কি.মি. আগে রিসাং। সেখান থেকে ঝাড়া সোয়া দুই কিলো হাঁটা পথ । সমতল পথ নয়, জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ী পথ। যাওয়ার সময় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি সঙ্গী হওয়ায় হেঁটে যেতে তেমন কষ্ট হলোনা। কিন্তু ফেরার সময় প্রচন্ড রোদ থাকায় পাহাড়ী রাস্তায় চলতে চলতে আমাদের দম বের হওয়ার জোগাড়। স্থানীয়দের কাছে রিসাং ঝর্না ‘তেরাংতৈ কালাই ঝর্না’ নামে বেশি পরিচিত। আর মারমা ভাষায় ‘রিসাং’ মানে পাহাড় থেকে পানি পড়া।
রিসাং যাওয়ার পথে আদিবাসীদের ঘর-বাড়িগুলো চোখে পড়ার মত। বেশিরভাগ বাড়িই পাহাড়ি মাটির তৈরী। দেখতে চমৎকার। স্থানীয় একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো মাটির তৈরী হলেও বাড়িগুলো যথেষ্ট মজবুত। জানা গেলো, ওখানে টিপরা বা ত্রিপুরার অধিবাসীদের বাস।
হাঁটতে হাঁটতে পেয়ে গেলাম সিড়ির দেখা। কয়েকশো ধাপ। কিছু ধাপ পেরোতেই শুনতে পেলাম পাহাড় থেকে অনবরত জল পতনের ধ্বনি। বুঝে গেলাম রিসায়েংর খুব কাছে চলে এসছি। আরো কিছুটা নামার পর দেখা পাওয়া গেলো যৌবনবতী রিসাংয়ের। সিড়ির শেষ ধাপটি পেরিয়ে আর কাদাময় পিচ্ছিল পথ আর ছড়াটা অনেকটা দৌড়ে রিসাংয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। চোখ জুড়িয়ে গেলো, মন ছেয়ে গেলো প্রশাস্তিতে। আর দেরি করলাম না। কাপড়চোপড় নিয়েই আমরা নেমে পড়লাম ঝর্নার পানিতে শরীর জুড়াতে। দুঃসাহসী কয়েকজনকে দেখলাম ঝর্নার ঢালু অংশ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নীচের ছড়ায় পড়ছে। ব্যাপারটা আনন্দদায়ক সন্দেহ নেই কিন্তু বিপদজনকও বটে। রিসাংয়ে গিয়ে আমাদের কারোরই ফিরতে মন চাইছিলো না।


এ সিড়ি বেয়ে নিচে নামলেই রিসাং ঝর্না

রিসাং ঝর্না

রিসাং থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি শহরে গিয়ে পৌঁছালাম। রিসাংয়ের মায়াবী রূপ আমাদের আবার বাস মিস করিয়ে দিলো। শহরে পৌঁছে জানলাম বিরতহীন শেষ বাসটি মাত্রই ছেড়ে গিয়েছে। শেষ লোকাল বাসটি আর মিনিট বিশেক পর ছাড়বে। টিকিট কেটে তড়িঘড়ি করে কিছু খেয়ে নিলাম। ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে বাসে উঠে দেখি আমাদের সিটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একজন লোক বসে আছে। মাটিরাঙা পর্যন্ত তার স্ত্রী আর সন্তানকে বসতে দিতে লোকটি আমাদের অনুরোধ করলো। কী আর করা! ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীরে প্রায় অর্ধেকটা পথ বাসে দাঁড়িয়ে থাকলাম।
খাগড়াছড়িতে গেলে ফেরার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। পাহাড়ি রাস্তায় কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সন্ধ্যার পর বাস চলাচল করতে দেওয়া হয়না। পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জায়গাতেই সন্ধ্যার আগেই শেষ বাসটি ছেড়ে যায়।
যেভাবে যাবেন
একদিনের ভ্রমণ হওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরটি খুব ভালো করে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে বাস থেকে শহরটিকে মনে হয়েছে ছিমছাম সাজানো গোছানো। খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে ঢাকা থেকে যেকোন এসি বা নন-এসি পরিবহনে যাওয়া যাবে। এসি পরিবহন স্টারলাইনের ভাড়া ৪০০ টাকা। আর শ্যামলী, এস আলম সহ বিভিন্ন নন-এসি পরিবহনের ভাড়া ৩০০ টাকা। ট্রেনে গেলে প্রথমে চট্টগ্রাম নামতে হবে। তারপর যেতে হবে বাসে। চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে পাওয়া যাবে বিরতিহীন বাস ‘শান্তি’। ভাড়া ১৪০ টাকা। যেতে লাগবে তিন ঘন্টা। রিসাংয়ের কাছাকাছি থাকার জায়গা হচ্ছে পর্যটন মোটেল । আর আলুটিলার কাছে হচ্ছে হোটেল ইমাং। এছাড়া শহরে বিভিন্ন দরের হোটেল পাবেন। হেঁটে না গিয়ে জিপ বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেও রিসাং যেতে পারেন। তবে প্রকৃতির দুর্গমতাকে জয় করে সৌন্দর্য উপভোগ করার মজাটা কিন্তু একবারেই আলাদা। #

০৪ ঠা মে, ২০১০

By কাঊসার রুশো

Thursday, October 14, 2010

By the tranquil waters

Foy's Lake Resort is a unique place in Chittagong where you can stay in luxurious accommodation while enjoying the natural beauty of Foy's Lake and the entertainment of two theme parks.

Whether you are taking you children on holiday, enjoying a corporate retreat or on a romantic break, they have everything you need for an unforgettable experience.

Reservation procedure:
At least 50 percent of one day's rent is required to confirm booking in advance.
Booking has to be confirmed at least 24 hours ahead.

To make reservations, please call-
Dhaka: 8833786, 9896482, 01913531377-8, 01913531386-7
Chittagong: 031-2566080, 01913531480-1, 01913531554-5
Fax: 031-659406
web: www.foyslake.com

It had rained all night. On tiled floor of the bank of the lake rainwater fell like drizzle, losing its nightlong fury. The eerie silence of dawn was shattered by the roaring defiance of the shallow engine. As we waited for the boat to take us to our destination, repeated attempts at jumpstarting the machine failed. Rainwater had entered the engine, and hence its insubordination.

Over the placid waters of the lake, raindrops fell like mallets hitting the strings of the Indian Santoor. Just as the tranquil waters of Dal Lake had perhaps inspired compositions of the Santoor, the waters of Foy’s Lake, a mere 10 minute drive from the heart of Chittagong, concocted similar emotions to someone as musically deaf as myself.

Each drops of water stroke a mellifluous note on the string reiterating the bond that the sound of the stringed santoor seemed to share with water.

Standing at the ghaat – the bank of the lake – one could see the snaky waterway channel through the small hillocks. The hills made a firm ground for trees arching over the water or standing upright in search of light. Moss, ferns and foliage that changed hue with the changing season – a vibrant green in monsoon and subtler shades in the dry – enveloped the hills, making the soil disappear amidst the green.

The fauna, we were told, comprised of wild birds, reptiles, monkeys and deer even. I caught a glimpse of a pankauri gracefully afloat on the murky waters take a sudden flight, possibly at the ecstasy of catching fish.

The boat ride from the ghaat to the resort was a short one, but even in matters of minutes, Foy's Lake did not fail to make an impression. Truly, it was God's own country glimpse of a heavenly lake, bestowed with the lush bounty of nature.

The luxury resort that stood at the shores of the water was simple and complimented the serenity of the lake. The west side veranda of the room we occupied gave a wide view of the lake itself, some hills on the opposite banks and the Sea World theme park, which undoubtedly catered to the needs of a younger audience.

As the day progressed, the symphony of the rain had stopped, and the chirping sounds of children at the park took over. Children, and those young at heart alike, were seen to enjoy the adrenaline rush at the splash pool and water coaster ride, what seemed like the hallmark of the Sea World. The dry park featured at the entrance of the resort on the other end provided similar amusement opportunities.

Ever since Concord Group took over the management of the Foy's Lake through a tripartite agreement with Bangladesh Railway and Bangladesh Parjatan Corporation, it has been a struggle to strike balance between preserving the harmony of the lake and its surroundings, while evolving with the changing demands of time. The balance, it must be said, is a well struck one.

Every attempt has been made to cater to the needs of the people visiting the parks or opting to stay overnight at the resort with state of the art facilities in the form of restaurants, round the clock room service and splendid hospitality. There are facilities to arrange gatherings at the Chairman's Chamber, which over the years have proved successful with the corporate clientele.

Yet, the feature that stands apart is the preservation of the picturesque setting of the lake. The Foy's Lake and its surrounding area is a haven for the nature lover who can spend endless hours identifying the trees that grow in the area. Or simply relish the views of the lake from a paddleboat.

A climb to the observation point, although a mere 27 metres above the sea level is a daunting task for the physically unfit, can provide a birds' eye view of the lake and the landscape of Chittagong City on the opposite end.

At nightfall, we ventured out into the waters on a boat. Even the cacophonous engine was overshadowed by the songs of the fireflies. A constant buzz that completed the romantic setting.

As we maneuvered through the water, nature played it's game of light and shadow that would surely leave a haunting impression on the mind for many years to come.

We stepped out from the boat on the feet of a cottage, set in a desolate hill of the lake, far from the daily hubbub of the resort and the sounds of the commuters across the lake. A stray dog welcomed us with a bark and failed to respond to our loving gestures. But soon enough the canine grew accustomed to the shadowy figures of the night and as we left him, and the wonderfully maintained cottages behind, we could still see “Courage” wag its grey tail.

We left Foy's Lake the next morning, amidst pouring rain. Back into the asphalt streets of the city, the memory of the past one day would always remain as green as the hills by the water. The stillness of the lake and its silent surroundings would forever remind of the close proximity it took us to nature. And the waters of the lake will continue to play a Santoor in our hearts.

By Mannan Mashhur Zarif back from Chittagong
Photo: Sazzad Ibne Sayed
Special thanks to M Mahfuzur Rahman, Deputy Manager, Concord Entertainment Co. Ltd.

Source: Daily Star 20 July 2010

Tuesday, October 12, 2010

রেলের সহায়তা পেলে সিআরবি হতে পারে সুন্দর বিনোদন স্পট

রেলের সহায়তা পেলে সিআরবি হতে পারে সুন্দর বিনোদন স্পট

জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম
রেল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে চট্টগ্রামের রেলওয়ের সদর দফতর সিআরবিকে বিনোদন স্পট ও নান্দনিক সৌন্দর্যে রূপান্তরের পরিকল্পনা অকার্যকর হয়ে গেছে। গত বছরের মধ্যভাগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দশ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর আধুনিকতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। সিআরবিকে বিনোদন স্পট তৈরিতে রেল কর্তৃপক্ষের অনীহা থাকলেও স্থানীয় কিছু রেল কর্মকর্তার সহযোগিতায় সিআরবি ও তার আশপাশের এলাকায় অবৈধভাগে গড়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক বসতঘর ও দোকানপাট।
নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করে সিআরবি এলাকাকে চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি নেয় সিডিএ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা-ব্যবস্থাপক নুরুল আমিনের সঙ্গে সিডিএর চেয়ারম্যান এমএ ছালাম কয়েক দফায় বৈঠক করেন।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও রেলের কর্মকর্তার নেতিবাচক ভূমিকার কারণে এ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, সিআরবি এলাকাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান একটি পরিকল্পনা নিয়েছিল ১৫ মাস আগে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিআরবির সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও জনসাধারণের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো।
প্রকল্পটির ডিজাইন করেছিল সিডিএর আর্কিটেক্ট সাহরিনা জাফরীন। প্রকল্পের মধ্যে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়কে ঘিরে বিশাল এলাকা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। সিআরবির অভ্যন্তরে থাকা একটি খালকে কিছুটা বাড়িয়ে লেক তৈরিসহ লেকের উপর ব্রিজ নির্মাণ, লেকের পাড় দিয়ে হাঁটার পথ, পাহাড়ের উপর থেকে কৃত্রিম ঝর্ণা সৃষ্টি ছাড়াও লেকের ভেতরের ফোয়ারা থেকে পানির ফোয়ারা বাইরে ছড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাহাড়ের সঙ্গে পাহাড়ের সংযোগ সৃষ্টির জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ছাড়াও পাহাড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক আদলে সিঁড়ি তৈরির ব্যবস্থা। তদুপরি সিআরবি এলাকায় পায়ে হাঁটার জন্য দু’কিলোমিটার রাস্তা তৈরি। বসার জন্য বেঞ্চ নির্মাণ, লেকের উপর কাঠের পাটাতন দিয়ে বসার জায়গা তৈরি করার পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছিল। এছাড়াও সিআরবির নিচে খালি জায়গায় পড়ে থাকা নিচু স্থানে চার হাজার মানুষের উপভোগযোগ্য এম্পি থিয়েটার তৈরির পরিকল্পনা ছিল

Friday, October 8, 2010

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের এখনই সময়


খাগড়াছড়ি ভ্রমণের এখনই সময়

০০ তরুণ ভট্টাচার্য, খাগড়াছড়ি থেকে

বাংলাদেশের প্রধান বনজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চল হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। দেশের সমতল এলাকার তুলনায় এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি যেন সম্পূর্ণ আলাদা। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, ছোট আর বড় পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে এখানে রয়েছে পাহাড়ী ঝিরি বা ঝরণা, ছড়া আর ছড়ি। ঘন সবুজ অরণ্যভূমির বুক চিরে কল কল শব্দে আপন অরণ্য ভূমির খরস্রোতা নদী চেঙ্গী, ফেনী, মাইনী ও কর্ণফুলী বহমান। অনেকটা সুন্দরবনের মতো পরিব্যাপ্ত গহীন পার্বত্য অরণ্যানী ছড়িয়ে আছে চেঙ্গী, কাসালং ও মাইনী উপত্যকা জুড়ে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ ক্রমশ বাড়ছে। বর্ষার রেশ কেটে যাওয়ায় শরতের শান্ত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আকর্ষণে পর্যটকদের যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে খাগড়াছড়ি। শরৎ, হেমন্ত আর শীতের মৌসুমে পর্যটকদের আকর্ষণ খুব বেড়ে যায়। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেখানেই বিলিয়ে আছে সেখানেই ছুটে যায় প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসুরা। প্রকৃতির কিছু অপূর্ব সৃষ্ঠি অপার এ সৌন্দর্য্যকে করেছে মহিমান্বিত ও আকর্ষণীয়। এসব সৃষ্টিসমূহ হচ্ছে যথাক্রমে-

দেবতার পুকুর ঃ জেলার মাইসছড়ির নুনছড়ির সুউচ্চ পাহাড় এলাকায় রয়েছে ভিন্ন প্রকৃতির এক হ্রদ। তার নাম 'মাতাই পুখিরী'। এই হ্রদটি দেড়হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হলেও চারদিকে মালভূমি দ্বারা বেষ্টিত বলে হ্রদটি সমতল ভূমিতেই অবস্থিত মনে হয়। স্থানীয় আদিবাসী ত্রিপুরাদের মতে, পাহাড়ের উপরের এই হ্রদে কখনো পানি কমে না এবং পানি অপরিষ্কারও হয় না বলে তারা এর নাম দিয়েছে 'মাতাই পুখিরী' অর্থাৎ দেবতার পুকুর।

আলুটিলা ঃ চট্টগ্রামের বা ফেনীর কোন গাড়িতে চড়ে খাগড়াছড়ির সুউচ্চ আলুটিলা পর্যটন স্পটে গিয়ে বটমূলে দাঁড়িয়ে পূর্ব দিগন্তে দূর-বহুদূর দৃষ্টি ফেরালেই দেখা যাবে পার্বত্য শহর খাগড়াছড়ি। বন্ধুর এই পাহাড়ী উপত্যকায় গড়ে উঠেছে কত না সুদৃশ্য ভবন, সারি সারি ঘর-বাড়ি। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রৌদ্র ঝলমলে টিনের চালাঘর যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। সূর্যাস্তের পর আলুটিলা থেকে খাগড়াছড়ি দেখা অর্থাৎ রাতের খাগড়াছড়ি যেন আর এক মনোলোভা দৃশ্য। দূর থেকে দেখা যায় ঘন কালো অন্ধকারে লাখো বাতির মিটিমিটি আলো।

রহস্যময় সুরঙ্গ ঃ রহস্যময় সুরঙ্গ আলুটিলা পর্যটন কেন্দ পরিদর্শনকালে পর্যটকদের জন্য আরেকটি আকর্ষণ। 'পাহাড়ের চোরা এই সুরঙ্গ একাকী ভ্রমণ করতে অনেকেই ভয় পান। এই ভয়ের কারণ সুরঙ্গ ঘন কালো অন্ধকার বলে। এছাড়া সুরঙ্গে শত শত কলাবাদুরও থাকে। রাতে বা দিনে অবশ্যই টর্চ, মশাল কিংবা হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে ঢুকতে হয় এই সুরঙ্গে। স্থানীয়ভাবে মশাল কিনতে পাওয়া যায়। সুরঙ্গ দেখতে হলে দলে ভিড়ে দেখা ভাল।

বটবৃক্ষ, রিছাং ঝর্না ও রাজার দীঘি ঃ স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো দুইশ বছরের প্রায় ২০০ ফুট ব্যাসার্ধের বিশালাকৃতির এক বটবৃক্ষ দেখতে যাওয়া যায় আলুটিলার ১০ নম্বরে। খাগড়াছড়ি বা মাটিরাংগা থেকে চাদেঁর গাড়ি বা জীপ নিয়ে যাওয়া যায় ১০ নম্বরে। খাগড়াছড়ি ও মাটিরাংগার মাঝপথে আলুটিলা সল্ট প্রজেক্টের পাশ দিয়ে পায়ে হেঁেট যাওয়া যায় রিছাং ঝনর্া দেখতে।


মং রাজ বাড়ি ঃ খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা সদরে গিয়ে ঘুরে দেখা যায় শতাধিক বছরের পুরানো মারমা জাতিগোষ্ঠীর রাজা বা মং রাজার বাড়ি। প্রয়াত মং রাজার নিকটাত্মীয়ের অনুমতি নিয়ে ঐতিহ্যমন্ডিত অনেক কিছুই দেখা যায় এখানে। আলাপ করে জানা যায় অনেক ইতিহাস। তবে নতুন মং রাজার বাড়ী নির্মিত হয়েছে এখন খাগড়াছড়ি সদরের জিরো মাইল মহালছড়া এলাকায়। সে ভবনটিও স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো।

রামগড় লেক ও চা বাগান ঃ সীমান্ত শহর রামগড় উপজেলা সদরে নান্দনিক সৌন্দর্যমন্ডিত কৃত্রিম লেক নানাদিক থেকে আনন্দ যোগায় পর্যটকদের। রামগড় সদরের খুব কাছেই বাগান বাজার এলাকায় পাহাড়ী পরিবেশে চা-বাগান ও পিকনিক স্পট। এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন আদিবাসী সাওঁতালরা। আগ্রহ করে জানা যাবে তাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কে। চা-বাগানের অভ্যন্তরে রয়েছে শাপলা ফোটা বিশাল প্রাকৃতিক লেক। কিছুদিন পর এ লেকে আসবে শীতের নানান জাতের অতিথি পাখি।

বৌদ্ধ ও হিন্দুদের তীর্থস্থান ঃ বৌদ্ধ ও হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের ঘুরে দেখার মত তীর্থস্থান রয়েছে অনেকগুলো। বৌদ্ধ তীর্থ যাত্রীরা খাগড়াছড়ি এসে প্রাচীন য়ংড বৌদ্ধ বিহার, আলুটিলা পর্যটন কেন্দে র আলুটিলা নবগ্রহ ধাতু চৈতু্য, ধর্মপুর আর্য বন বিহার, পানছড়ি অরণ্য কুঠির ও দীঘিনালা বন বিহারে ঘুরে দেখার মত রয়েছে অনেক কিছুই। পানছড়ি অরণ্য কুঠিরে রয়েছে ৪৭ ফুট উঁচু দেশের সর্বোচ্চ বুদ্ধ মূর্তি। হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের জন্য রামগড়ের প্রাচীন দক্ষিণেশ্বরী কালী বাড়ি, খাগড়াছড়িতে নারায়ণবাড়ি ও সিঙ্গিনালায় লোকনাথ সেবাশ্রম, দীঘিনালায় প্রাচীন শিব মন্দির ঘুরে দেখার মত।

যাতায়াত ও থাকা খাওয়া ঃ প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত রূপনন্দিনী খাগড়াছড়িকে দেখতে আর জানতে পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সমিতির আরামদায়ক বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫টি। সাইদাবাদ, কমলাপুর, গাবতলী, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও টিটি পাড়া থেকে টিকেট সংগ্রহ করে এস আলম,স্টার লাইন, শ্যামলী, সৌদিয়া, শান্তি স্পেশাল ও খাগড়াছড়ি এক্সপ্রেসযোগে খাগড়াছড়ি আসা যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেনী এসেও হিলকিং অথবা হিল বার্ড বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি আসা যায়। চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকেও শান্তি স্পেশাল ও লোকাল বাসে উঠে আসা যায় খাগড়াছড়িতে। খাগড়াছড়িতে আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও মোটামুটি ভাল আছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন নির্মাণ করেছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এক সুবিশাল "মোটেল"।

Monday, October 4, 2010

শ র ত্ তা রু ণ্য

শ র ত্ তা রু ণ্য

সোহরাব শান্ত
শুভ্রতার প্রতীক শরত্। বর্ষার বিদায়ের পর চারদিকে শুভ্রতার আবেশ ছড়িয়ে আসে। বর্ষার পানি যেই কমতে শুরু করে অমনি শুরু হয় সবুজের সমারোহ। নদীর পাড়, বিস্তীর্ণ বিল-ঝিল এবং চরের মাটিতে জন্ম নেয়া কাশের মাথায় লাগে সাদার দোলা। অপরূপ কাশফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে চলে পালতোলা নৌকার মাঝিকে যাত্রী কিংবা পথচারীরাও কম যান না। শরতের এমন শুভ্র সৌন্দর্য এড়াতে পারে কে আছে এমন বাঙালি। ঝিরি ঝিরি বাতাসে যখন কাশবন দুলতে থাকে, তখন দুলতে থাকে মানুষের মনও। অপার মুগ্ধতা নিয়ে কাশফুলের সৌন্দর্য অবলোকন করা দর্শকের মনে খেলে যায় অসম্ভব এক ভালোলাগা। শিশু থেকে তরুণ, তরুণ থেকে বৃদ্ধ, মুগ্ধ হয় সবাই। বয়সভেদে মুগ্ধতার মাত্রাটাও হয় ভিন্ন। শিশু-কিশোরদের মাঝে কাশফুলের সৌন্দর্যকে নিজের করে নেয়ার এক ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাই তো তারা দল বেঁধে কাশফুল ছেঁড়ায় মেতে ওঠে। বিশেষ করে গ্রামীণ শিশুদের আনন্দ যেন আর ধরেই না।
তরুণদের কাছে শরত্ আসে অন্যভাবে। শরতের স্বাভাবিক প্রকৃতি তরুণ মনকে ভাবুক করে তোলে। সঙ্গে যদি থাকে ভালোবাসার মানুষটি তাহলে তো কথাই নেই। শরতের প্রকৃতি তরুণ মনে ভালোবাসার রং পাল্টাতে বিরাট ভূমিকা রাখে। শহুরে জীবনাচারে শরতের প্রকাশটা একটু ভিন্নই বলতে হবে। প্রগতিশীল তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সাদা-শুভ্র পোশাক-আশাক পরার প্রবণতা বিগত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে। শরেক কেন্দ্র করে তারা বিভিন্ন নকশার পোশাক তৈরি করছে। এ সময় দেশি সুতি কাপড় বেশ আরামদায়কও বটে। তরুণদের সাদার ওপর কাজ করা পাঞ্জাবিতে মানায় ভালো। তরুণীদের বেলায় শাড়ির কথা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। শারদীয় পোশাক যাকে বলে আর কি! প্রকৃতির মাঝেই যেন হারিয়ে যাওয়া। শুধু পোশাকই নয়, ফ্যাশন হাউসগুলো বর্তমানে দেশীয় অলঙ্কারকেই বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই অলঙ্কারগুলোও শরতের সাজে আনে ভিন্নমাত্রা। শরতের আরেক আকর্ষণ শিউলি ফুল। শিউলির আকর্ষণ এড়ানো সত্যিই কঠিন! শিল্পীর কণ্ঠে যেভাবে ধ্বনিত হয়—‘ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও/আমার শিউলি নাও।’ শিউলি কুড়ানোর অভিজ্ঞতা যাদের হয়নি, তারা সেই মজাটি বোঝার কথা নয়। তারপরও এক কথায় বলা যায়, শরতের প্রকৃতিতে কাশফুল আর শিউলি স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
উজ্জ্বল সাদা কাশফুলের মতোই শুভ্রতায় আচ্ছাদিত দেখা যায় শরতের আকাশ। স্থানে স্থানে দেখা মেলে সাদা মেঘের। ঝিরিঝিরি বাতাস বইতে শুরু করে কখনও কখনও। রোদে-বৃষ্টিতে লুকোচুরির পর্বটা শরতেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। শরতের দিনে এই দেখা যায় কাঠফাটা রোদ হঠাত্ই কোত্থেকে যেন ঝমঝমিয়ে নেমে যাবে বৃষ্টি। পৃথিবীকে নিমিষেই ঠাণ্ডা করে দিয়ে অল্পক্ষণেই হারিয়ে যায় বৃষ্টি। এখানেই শরতের সৌন্দর্য। অপ্রস্তুত মুহূর্তে হয়তো এক ঝলক রোদের দেখা দিয়ে মুহূর্তেই বৃষ্টি বিষয়টা খুবই মজার। উদার মনের তরুণ-তরুণীদের জন্য তো ব্যাপারটা আরও বেশি উপভোগ্য। বৃষ্টিতে ভেজার মজাটাই আলাদা, তাই না! আর তা যদি হয় হঠাত্ বৃষ্টি জয়তু শরত্।
এই শরতে : শরতের প্রকৃতির পরিচয় তো পাওয়া গেল। শরত্ কীভাবে উপভোগ্য করা যায় আমাদের জীবনে? খুব সহজ! কারণ এই শরতেই যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা। যাকে সুন্দর করে বলা হয়—শারদীয় দুর্গাপূজা!
বেড়াতে চাইলে : বেড়ানোর জন্য মোটামুটি ভালো সময় শরত্। কারণ না গরম, না ঠাণ্ডা এমন একটা পরিস্থিতি বিরাজ করছে এখন। কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যাবে শীত। যারা শীতের আগেই বেড়াতে চান, ব্যাগ-ল্যাগেজ গুছিয়ে ফেলতে পারেন। দিনের শুভ্রতা আর রাতের জ্যোত্স্না দেখার এই তো সুযোগ। যারা নৌকা কিংবা নদী ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। তবে নদী ভ্রমণে একটু সাবধানী হতে হবে। বর্ষার পানি অনেক ময়লা-আবর্জনা নিয়ে নেমে যাচ্ছে। তাই ভ্রমণের সময় পানি খাওয়া ও ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। ভ্রমণ বা সাধারণ ঘোরাফেরা যাই হোক না কেন, এ সময়ের সাজগোজ হালকা হলেই ভালো হবে। যেহেতু রোদ-বৃষ্টির খেলা চলে এই সময়, তাই সঙ্গে একটা ছাতা রাখতে ভুলবেন না যেন।
শরতের বিকেল, শরতের মেঘ, শরতের জ্যোত্স্না, কাশফুল— সবই ভালো করে দেবে আপনার মন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কি আর এমনি এমনিই লিখেছিলেন—

‘শরত্, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙুলি\
শরত্, তোমার শিশির-ধোয়া কুণ্ডলে
বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি\’

এই শরতের সকাল, শরতের দুপুর, শরতের বিকেল রাত, শরতের রাত, ভালো লাগবে সবই। শরতের ভালোলাগা, মুগ্ধতা ছড়াক সবার চোখে।

লাউয়াছড়া : ঘুমন্ত পাহাড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য

লাউয়াছড়া : ঘুমন্ত পাহাড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য

ফখরুল আলম
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অনন্য স্থান। বন-পাহাড় আর জীবজন্তুর অভয়ারণ্য। পাহাড়ি এই জনপদে রয়েছে খাসিয়াসহ বিভিন্ন উপজাতীয়দের বসবাস। কাছ থেকে দেখলে মনে হবে ঘুমন্ত সবুজ পাহাড়ের অতন্দ্র প্রহরী হলো এসব আদিবাসী। পাহাড়ের পাদদেশে এই জনগোষ্ঠীর যুগ যুগ ধরে প্রকৃতির পরিচর্যা করে লাখো বৃক্ষ লালন-পালন করছে। এর ফলে এসব পাহাড়ে দিন দিন নতুন বৃক্ষ সতেজভাবে বেড়ে উঠছে। পাহাড়ি গাছে লতিয়ে বেড়ে ওঠা পানচাষ করে খাসিয়াদের জীবন চলে। ঐতিহ্যগতভাবে বন, পাহাড়, সবুজ গাছগাছালি ও প্রকৃতির সঙ্গে খাসিয়াদের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির আপনজন হিসেবে অতি কাছে বসবাসকারী খাসিয়ারা তাদের মতোই সভ্যতার অনাদরে প্রকৃতির আপন খেয়ালে বেড়ে ওঠা বৃক্ষরাজিকে সন্তানতুল্য মনে করেন। পাহাড়ি শীতল ছায়ায় বেড়ে ওঠা এসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মননশীলতাও অত্যন্ত কোমল।
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে এশিয়া মহাদেশের বিরল প্রজাতির একটি গাছ আছে, যার নাম ক্লোরোফর্ম বৃক্ষ। এটি ভূমণ্ডলের একমাত্র আফ্রিকার বন ছাড়া আর কোথাও দেখা যায়নি। এককথায় বলা যায়, দুর্লভ নেশার গাছ। যার পাতার গন্ধে মানুষ নিজের অজান্তে ঘুমিয়ে পড়ে গাছতলায়। অনেকেই এই গাছকে ঘুমপাড়ানি গাছ বলে ডেকে থাকেন। এই গাছটি লাউয়াছড়া ফরেস্ট রেস্ট হাউসের পার্শ্বে রয়েছে। বর্তমানে গাছটির বয়স দেড়শ’ বছর। বয়সের ভারে পাতাগুলোতেও তেমন সতেজতা নেই। তাই তেজও অনেক কমে গেছে। লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কের অন্যতম আকর্ষণ ক্লোরোফর্ম এই বৃক্ষটি। মূলত যদিও তার তেজষক্ষমতা কমে আসছে; কিন্তু এখনও এই বৃক্ষটির নিচে দাঁড়ালে গরমের সময় অনেক ঠাণ্ডা অনুভব করা যায়।
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে নিসর্গ নামের একটি প্রকল্প আছে। তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ গাইড রয়েছে। এই প্রকল্পে একটি তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। এখানে লাউয়াছড়া বনের সব তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া উপহারসামগ্রী স্যুভেনির ইত্যাদি পাওয়া যায়।
‘ইকো রেস্তোরাঁ’ আছে। ইচ্ছে করলে রেস্তোরাঁয় খাবারও খাওয়া যাবে।
একসময় শীত মৌসুমে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকত সিলেটে বেশি। বর্তমানে বছরের সবসময়ই দেশি- বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। বিশেষ করে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। এসব ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আগমন ঘটে শ্রীমঙ্গলের পাখি ও মত্স্য অভয়ারণ্য বাইবকা বিল, রেইন ফরেস্ট, লাউয়াছড়া ছাড়াও দিগন্তরেখা বিস্তৃত চা বাগানের অপূর্ব সৌন্দর্য পর্যটকদের অসম্ভব কাছে টানে। তবে পাশাপাশি দেখতে পারবেন ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা সীতেজ বাবুর মিনি চিড়িয়াখানা। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। রমেশ বাবুর জাদুকরী ৭ কালারের চা। নীলকণ্ঠ কেবিনের ৭ রংয়ের চা আপনাকে তৃপ্তি দেবে।
লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড। বিশ্বের ৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে যে বিরল প্রজাতির উল্লুক রয়েছে তার দেখাও পাওয়া যায় এই বনে। ২৪৬ প্রজাতির বাহারি রং-বেরংয়ের পাখি। ৪ জাতের উভচর প্রাণী। ৬ প্রজাতির সরীসৃপ। ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ ১৭ প্রজাতির কীটপতঙ্গ রয়েছে লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে। ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে এ উদ্যান রয়েছে জীববৈচিত্র্য। তবে উল্লুক, চশমাবানর, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী এসব হলো বনের আকর্ষণীয় প্রাণী। লাউয়াছড়া বনে হেঁটে হেঁটে আপনি ও আপনার প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। বিশাল এই বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর বিভিন্ন ব্যবস্থাও রয়েছে। আধঘণ্টা এক ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টার তিনটি ওয়াকিং ট্রেইল। এছাড়াও রয়েছে হাতির পিঠে চড়ে সবুজ বনাঞ্চল ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা। তাছাড়াও সুসজ্জিত বেশকিছু ‘ইকো রিকশা’ রয়েছে। তবে এগুলোয় চড়লে অবশ্যই টাকা দিতে হয়।
আরও কয়েক কিলোমিটার দূরে গেলে দেখা যায়, চা বাগানের ভেতরে বিশাল একটি লেক। লেকটির নাম মাধবপুর লেক। মাধবপুর লেকের সন্নিকটে উপজাতীয় কালচার একাডেমি রয়েছে। বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্র্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠান আর সাংস্কৃতিক জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জ উপজাতীয় সাংস্কৃতিক একাডেমির চার দেয়াল। এখানকার উপজাতীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সময় কাটান এবং সুখ আহরণ করতে পারবেন আপন মনে। সবুজ প্রকৃতি আর পাহাড়ের মাঝে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা রেলপথও আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে।
প্রকৃতির লীলায়িত নন্দন কানন, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বর্ণময়, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবং তাদের সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত সংস্কৃতি নিয়ে গঠিত শ্রীমঙ্গল।
পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দূরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পাহাড়ের ওপরে উঠতে হবে আপনাকে। ‘যতদূর চোখ যায় ওই দূর নীলিমায় চোখ দুটি ভরে যায় সবুজের বন্যায়’। শিল্পীর গাওয়া এ গানের বাস্তবতা খুঁজে পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে।

যাতায়াত : লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে যেতে হলে শ্রীমঙ্গল শহরে প্রথম যেতে হবে। শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশেই পড়বে পার্কটি। ঢাকা থেকে ট্রেন বা সড়কপথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে ২০০-২৫০ টাকা। শ্রীমঙ্গল শহরে ভালো হোটেল রয়েছে। থাকা-খাওয়াসহ সবকিছু সহজলভ্য। শ্রীমঙ্গলের অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

লাউয়াছড়ার বনে বনে
লেখা : মুস্তাফিজ মামুন

শ্রীমঙ্গল শহরের কাছেই জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বাংলাদেশের অন্যতম একটি জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া। দুই-একদিনের সময় হাতে নিয়ে সহজেই বেড়িয়ে আসা যায় জাতীয় এ উদ্যান থেকে। কড়চার এবারের বেড়ানো শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।

লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশেই রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রায় ১,২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে এ উদ্যানে রয়েছে_১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, বিশ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি। প্রধান সড়ক ফেলে কিছুদূর চলার পরে ঢাকা-সিলেট রেল লাইন। এর পরেই মূলত জঙ্গলের শুরু। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ হলো উলস্নুক, চশমা বানর, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর ইত্যাদি। উদ্যানে বেড়ানোর তিনটি ট্রেকিং পথ আছে। একটি তিন ঘণ্টার, একটি এক ঘণ্টার এবং অন্যটি আধ ঘণ্টার পথ। উদ্যানের ভেতরে একটি খাসিয়া পলস্নীও আছে।

আধ ঘণ্টার ট্রেকিং

এ পথটির শুরু রেললাইন পেরিয়ে হাতের বাঁ দিক থেকে। এ পথের শুরুতে উঁচু উঁচু গাছগুলোতে দেখা মিলতে পারে কুলু বানরের। নানা রকম গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে তৈরি করা এ হাঁটা পথটিতে চলতে চলতে জঙ্গলের নির্জনতায় শিহরিত হবেন যে কেউ। এ ছাড়া এ পথের বড় বড় গাছের ডালে দেখা মিলবে বুনো অর্কিড। যদিও এ সময়টা অর্কিডে ফুল ফোটার সময় নয়। নির্দেশিত পথে হাতের বাঁয়ে বাঁয়ে চলতে চলতে এই ট্রেইলটির শেষ হবে ঠিক শুরুর স্থানেই।

এক ঘণ্টার ট্রেকিং

এক ঘণ্টার ট্রেকিংয়ের শুরুতেই দেখবেন বিশাল গন্ধরুই গাছ। এ গাছের আরেক নাম কস্তুরী। এগাছ থেকে নাকি সুগন্ধি তৈরি হয়। এ ছাড়া এ পথে দেখবেন ঝাওয়া, জগডুমুর, মুলী বাঁশ, কাঠালি চাঁপা, লেহা প্রভৃতি গাছ। আরো আছে প্রায় শতবষর্ী চাপলিশ আর গামারি গাছ। এ ছাড়া এ পথে নানারকম ডুমুর গাছের ফল খেতে আসে উলস্নুক, বানর, হনুমান ছাড়াও এ বনের বাসিন্দা আরো অনেক বন্যপ্রাণী। ভাগ্য সহায় হলে সামনেও পড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এ পথে দেখা মিলতে পারে মায়া হরিণ আর বন মোরগের।

রোমাঞ্চকর ট্রেকিং

তিন ঘণ্টার হাঁটা পথটিও বেশ রোমাঞ্চকর। এ পথের বাঁয়ে খাসিয়াদের বসত মাগুরছড়া পুঞ্জি। এ পুঞ্জির বাসিন্দারা মূলত পান চাষ করে থাকেন। ১৯৫০ সালের দিকে বনবিভাগ এ পুঞ্জি তৈরি করে। এ পথে দেখা মিলবে বিশাল বাঁশবাগান। এ বাগানে আছে কুলু বানর আর বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর। লজ্জাবতী বানর নিশাচর প্রাণী। এরা দিনের বেলায় বাঁশের ঝারে ঘুমিয়ে কাটায়। এ ছাড়া এ পথে দেখা মিলবে নানান প্রজাতির পাখির, আর পথের শেষের দিকে দেখা মিলতে পারে এ বনের অন্যতম আকর্ষণ উলস্নুক পরিবারের। এরা বনের সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোতে দলবদ্ধভাবে বাস করে।

কিছু তথ্য

জঙ্গল ভ্রমণে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। বেশি উজ্জ্বল রঙের পোশাক না পরে অনুজ্জল পোশাক পরতে হবে। ইনসেক্ট রিপল্যান্ট ব্যবহার করা উচিত। বনে হৈচৈ করলে বন্যপ্রাণীদের দেখা যাবে না। তাই সর্বোচ্চ নিরবতা পালন করতে হবে। বনের মধ্যে কোনোরকম ময়লা-অবর্জনা ফেলা যাবে না। ট্রেকিংয়ের সময় সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার পানি নিন। আইপ্যাকের প্রশিক্ষিত গাইড সঙ্গে নিয়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়া উচিত। নয়তো পথ হারানোর ভয় আছে।

খরচপাতি

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্ক ২০ টাকা, ছাত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ টাকা, বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৫ মার্কিন ডলার কিংবা সমমূল্যের টাকা। এ ছাড়া কার, জিপ ও মাইক্রোবাস পার্কিং ২৫ টাকা, সিনেমা ও নাটকের শুটিং প্রতিদিন ৬,০০০ টাকা, পিকনিক স্পট ব্যবহার জনপ্রতি ১০ টাকা।

শ্রীমঙ্গল কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও বেলপথে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস শ্রীমঙ্গল যায়। ভাড়া ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫২৬ টাকা, এসি সিট ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩০০ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২০০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৩৪৫ টাকা, শোভন চেয়ার ১৩৫ টাকা, শোভন ১১০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯.০০ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৭০ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৫০ টাকা, সি্নগ্ধা শ্রেণী ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৬৫ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের জায়গা ভানুগাছ রোডে টি রিজর্ট (০৮৬২৬-৭১২০৭, ০১৭১২৯১৬০০১)। শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ সড়কে আরেকটি ভালো আবাসন ব্যবস্থা হলো রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (০২-৯৫৫৩৫৭০, ০১৯৩৮৩০৫৭০৭)। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য হোটেল হলো হবিগঞ্জ সড়কে টি টাউন রেস্ট হাউস (০৮৬২৬-৭১০৬৫), কলেজ রোডে হোটেল পস্নাজা (০৮৬২৬-৭১৫২৫) ইত্যাদি। এসব হোটেল- রিসোর্টে ৫০০-৩ হাজার টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে।

Source: Daily Ittefaq, 22th Feb-2011

লাউয়াছড়ায় গত বছর (২০১০) পর্যটক এসেছেন লাখের বেশি : রাজস্ব আয় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি, ৮ জানুয়ারি ২০১১
দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্টখ্যাত মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে গত বছর (২০১০) রেকর্ডসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছেন। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ বছরে এ পার্কে পর্যটক এসেছেন ১ লাখ ৭৮৬ জন। এ থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮০ টাকা। এ সময়কালে এ পার্কে আগত প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার ১৪৯ এবং ছাত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৯০২ জন। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৯২, বনভোজনে এসেছেন ৩ হাজার ৫৪৩ জন। আগত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৭৮টি এবং লাউয়াছড়ায় শুটিং হয়েছে ৪টি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত মৌলভীবাজার বণ্যপ্রাণী রেঞ্জ কার্যালয়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মোস্তফা কামাল জানান, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তিনি জানান, ২০০৮ সালে লাউয়াছড়ায় আগত পর্যটক-দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার জন। ২০০৯ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার জনে দাঁড়ায়।
আইপ্যাক সূত্র জানায়, গত ৫/৬ বছর ধরে এখানে পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাউয়াছড়ায় ছুটে আসছে দর্শনার্থীরা। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ এ পাহাড়ি বনাঞ্চল যেমনি জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তেমনি বনজসম্পদের অমূল্য ভাণ্ডার। সেই সঙ্গে কনকনে শীত আর অঝোর ধারায় বৃষ্টি এখানকার প্রকৃতিকে করেছে স্বতন্ত্র ও মধুময় যা মানুষ আস্বাদন করতে চায়। তাই এ পার্কে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ১২৫০ হেক্টর আয়তনের এ পার্কটি এখন পৃথিবীর মানচিত্রে এক গৌরবময় স্থান দখল করে নিয়েছে।
Source: Daily Amardesh, 8th January-2011