Search This Blog

FCO Travel Advice

Bangladesh Travel Advice

AFRICA Travel Widget

Asia Travel Widget

Monday, January 31, 2011

বাহের দেশে হাঁকাও গাড়ি

বাহের দেশে হাঁকাও গাড়ি রাসেদ শাহএইখানে ভোর নামে শিশিরের শব্দে
এইখানে সন্ধ্যারা পাতা ঝরায় শাল-সেগুনের বনে
তবু, কোথাও উধাও হয়েছে আজ নাগরিক মননে_
নিধুয়া প্রান্তর কুয়াশার শরীরে
নতুন করে বানানো খড়ের 'ছই' বসানো এত গরুর গাড়ি যখন শাল-সেগুনের ছোট্ট বনটা ছেড়ে বের হলো অত ভোরে, তখন আমরা নিজেদের পাগলামিতে নিজেরাই মুগ্ধ হয়ে পড়েছি। ফুলকপি, শিম, মটরশুঁটি ক্ষেত পার হয়ে যখন কৃষকের খোলা পার হতে চলেছে গরুর গাড়ির শোভাযাত্রা, তখন কুয়াশা ভেদ করে যেন ভেসে এল এক সম্ভাষণ : বাহে...কোন্ঠে যাছেন? বিয়াবাড়ি নাকি বাহে?ঝিরঝিরে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে ভোররাত থেকেই। কৃষকের উঠানে মিনারের মতো পাঁজা করা খড়ের স্তূপের আড়াল ভেদ করে শ্মশ্রুমণ্ডিত সরল এক বৃদ্ধের মুখে ফুটে উঠল নরম হাসি। অবাক বিস্ময়ে শহুরে মানুষের কাণ্ডকারখানা দেখে বুঝে উঠল না কিছুই। তাঁর প্রশ্নের তেমন কোনো জবাবও দিল না কেউ, শুধু হাসল গাড়োয়ানরা।রাতভর গান, উল্লাস আর সীমাহীন আড্ডা চলেছে গাছের গুঁড়ি জ্বালানো আগুনের পাশে গোল হয়ে। সাঁওতাল মেয়েরা কোথাও নেচেছে আজ আঁচলে মনসার ফণা তুলে, মাদল বাজিয়ে নেচেছে হাত ধরে সাঁওতাল ছেলেরা। বনকুটিরের পাশে এক ছোট্ট নদী_নাম তার নর্ত। হয়তো বা নদী সে আপন মনে নৃত্যরতা_চলেছিল এঁকেবেঁকে বনের সবুজের সঙ্গে কথা কইতে কইতে। কে গো তুমি অমন নামটি রেখেছিলে মাদলের বোলে। কাল রাতে নর্ত ঘুমাতে পারেনি হঠাৎ বহুদিন পর। বনকুটিরের সামনে গাছের নিচে আগুন জ্বালিয়ে কারা যেন জেগে আছে সারা রাত? এই বন, এই নদী ঘুমাবে কী করে আজ তাদের ঘুম না পাড়িয়ে!চলার শুরুগত বছরের শেষ দিনটিতে ঢাকা থেকে উত্তরের দেশে এসে ভোরবেলা সুপরিসর বাস থেকে নামে ২১ জনের একটি দল। এই পথ আর কিছু দূর গেলে তেঁতুলিয়ার সীমান্ত, তারপর আর কিছু দূর গেলেই হিমালয়! পৌষের মাঝামাঝি সেই হিমালয়ের হিমঝরা ভোরে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি 'সিঙড়া' বনের দুয়ারে। ছোট্ট এ বন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়, বাস থেকে নামতে হয় বীরগঞ্জ পার হয়ে ছয়-সাত কিলোমিটার পর বটতলীতে। বীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরে এ রকম বন আরো অনেক আছে। হয়তো একসময় যুক্ত ছিল সেসব বন একে অপরের সঙ্গে। এসব বনে মূলত শাল-সেগুনেরই বাড়-বাড়ন্ত। শোনা যায়, একসময় বন্য প্রাণীর বেশ আনাগোনা ছিল এখানে। এখন নানা রকম পাখি আর খরগোশ, শেয়াল, বনবেড়াল এসব। এসব বনকে কেন্দ্র করে একসময় রাজমহল পাহাড় থেকে তীর-ধনুক হাতে নেমে এসেছিল যেসব সাঁওতাল, ওঁড়াও, মুণ্ডা, রাজবংশী জনগোষ্ঠী_তাদের প্রধান জীবিকা ছিল শিকার এবং নানা কৃত্যে এই শিকারই ছিল বীরত্বের প্রতীক।দীর্ঘ বৃক্ষরাজির বুকচেরা মসৃণ পথ দিয়ে যেতে যেতে নিশ্চুপে পাখির ডাক শুনি বহু দিন পর নগরের বিদীর্ণ শব্দে অতিষ্ঠ কানে। আমাদের দলের (বিটিইএফ_বাংলাদেশ ট্যুরিজম এঙ্পানশন ফোরাম) এবারের ভ্রমণে উদ্দেশ্য ছিল দুটি : শীতার্ত মানুষের জন্য যৎসামান্য গরম কাপড় বিতরণ এবং এ জনপদে গরুর গাড়িতে চড়ে ইতিহাসের শেষ শোভাযাত্রা করা! প্রথম উদ্দেশ্য ভাগ করে নিয়েছে আমাদের উত্তরের দুই বন্ধু। আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য সফল করেছে এক বন্ধুর নেতৃত্বে 'সিঙড়া' বনের পাশের গাঁয়ের বেশ কিছু মানুষ। আমাদের খুব শখ হয়েছিল গরুর গাড়ি ভ্রমণ করি! উত্তরবঙ্গে কোনো গাড়িয়াল ভাইয়ের সঙ্গে ধুধু প্রান্তর দিয়ে চলি চিলমারী বন্দর। কিন্তু হায়, আমাদের জানাই ছিল না যে এই শকটটি আজ বিলীন হতে চলেছে প্রায়! বেশ কয়েকটি উপজেলায় খোঁজ করে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না একসঙ্গে ৮-১০টি গরুর গাড়ি। যদিও বা কোথাও দুই-তিনটি মেলে, সেগুলোর না আছে টোপর, না আছে সেই আদি কাঠের চাকা। হায়, গরুর গাড়ি চড়ে নাইওর যাওয়ার দিন যে শেষ! এখন গাঁয়ের শেষ বাড়িটির দুয়ার অবধি যে পেঁঁৗছে গেছে অটোরিকশা কিংবা রিকশাভ্যান। সময়ের হিসাবে তাকে অস্বীকার করি কিভাবে? শেষ অবধি পাওয়া গেল এইখানে, এই নর্ত নদীর গাঁয়ে, কিন্তু 'ছই' কই? ছই মানে গাড়ির ওপর যে টোপর থাকে সেই টোপর। নেই তাতে কি_ওরা খড় দিয়ে ছেয়ে, বাতা দিয়ে বেঁধে সুন্দর করে বানিয়ে দিল আটটি গাড়ির 'ছই'। ধুয়ে-মুছে খড় বিছিয়ে সাজিয়ে দিল। আর যদিও বা নামে 'গরুগাড়ি', আসলে গরুর বদলে মোষ। আগে গরুর গাড়ি টানত বলদ, তারা হালও বাইত। এখন হাল চষে পাওয়ার টিলার, কে পোষে আর বলদ! আমাদের ভ্রমণের প্রথম দিন রাতে ডিসেম্বরের শেষ সন্ধ্যায় চলে এল এসব গাড়ি। আর তারা জোয়াল নামিয়ে নতুন বছরের ভোর অবধি গোল হয়ে ঘিরে থাকল কতগুলো ছায়া-শরীর। মহিষরা ওম নিল ধিকিধিকি আগুনের অঁাঁচে।হাঁকাও গাড়ি তুই..প্রতিটি গাড়িতে তিনজন যাত্রী। সকালে আরো তিনজন ঢাকা থেকে এসে যোগ দিয়েছে দলে। গতকাল ছিল ঝকঝকে রোদ, আর আজ দার্জিলিংয়ের ওয়েদার! গরুর গাড়ির বহর একটা গাঁ পেরোতেই পথের ধারে দেখা মিলল স্কুল, লাগোয়া মাঠ, বটের ঝুরি আর বিশাল দিঘি। থামাও গাড়ি। এসে গেল শীতের পিঠা! সঙ্গে গরম ধোঁয়া ওঠা চা। চায়ের ধোঁয়া আর মুখের কুয়াশার ধোঁয়া মেলানোর খেলায় মেতে উঠল আমাদের দলের দুই নবদম্পতি তাদের নতুন জীবনের আনন্দে। গাঁয়ের ছেলেমেয়েরা তাদের ঘিরে মজা দেখছে। জোয়ালে আবার মহিষ জুত, আবার চলো সামনে। এবার বসতি ছেড়ে বিরান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে পথ। দুই পাশে সরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলুর ক্ষেত। সব যেন কেমন পরিপাটি, চকচকে, প্রাণবন্ত করে সাজানো। শিশিরভেজা পথ দিয়ে যেতে যেতে মনের ভেতর গান আসছে; কিন্তু শীতে জবুথবু হয়ে গলা দিয়ে আর সে গান বের হয় না।গরুর গাড়ি আবার একটা গাঁয়ে ঢুকে পড়ল, আর কোথা থেকে সব ছোট ছোট ছেলেমেয়ে পিলপিল করে বের হয়ে পিছু নিল শোভাযাত্রার। বউরা-মেয়েরা লাউয়ের মাচা থেকে উঁকি দেয়, কেউ কেউ রোয়াকে এসে মুখে অঁাঁচল ঢেকে সলজ্জ হেসে জানতে চায় কোথায় যাচ্ছি, বরযাত্রী নাকি? তবে 'কইনা কই বাহে...'। আমাদের একজন বলে, 'বাহে' মানে কী? আরে 'ভাই', ভাই হে...। আহা, এমন মধুর সম্বোধনে অন্যকে কত সহজে কাছে টানা! 'কইনা'র কথায় আমাদের মেয়েরা অকারণে লজ্জা পেয়ে পুলকিত হয়। ছেলেদেরও কেমন যেন লাগে, পাড়ার দুই পাশ থেকে অমন ভিড় করে আসা মানুষের কৌতুক দৃষ্টির অত কাছ ঘেঁষে পার হতে হতে কারো চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না, অথচ মাটির দিকেও তো আর তাকিয়ে থাকা যায় না! এবার যেন সত্যি সত্যিই নিজেদের বরযাত্রী মনে হতে লাগল। ছোটবেলায় যেমন দুই-একবার গিয়েছিলাম তেমন করে গাঁয়ের বাড়িতে, গাড়ির পেছনে পা ঝুলিয়ে আর আখ চিবাতে চিবাতে। আজ নতুন বছরের নতুন দিনটা কুয়াশার চাদরে থেকেও ঝকঝকে সোনালি আলোয় ভরে গেল!দেয়ালে দেয়ালে লাল রংযেমন সোনালি আলোর সূর্যাস্ত দেখা হলো বছরের শেষ বিকেলে গতকাল বনের পাশে সাঁওতাল গ্রামে। তাদের বাড়ি নিকানো হয়েছে গেরুয়া রঙের মাটির প্রলেপ আর লোকজ নকশায়_ফুল, পাতা, বন্য প্রাণী এসবে। পাড়ার মাঝখানে মাটির চার্চে যিশু আছেন বেশ! আর সব কটা ঘরের মাঝখানে উঠান। দেয়ালে দেয়ালে লাল রঙের আলপনা। সেখানে এসে পড়েছিল শেষ বিকেলের লালচে আলো। সেই গেরুয়া মাটির নকশাকে আবহে রেখে সামনে ফসলের ক্ষেতের ওপর সিঁদুর ছড়িয়ে যখন বিদায় নিল হাস্যোজ্জ্বল সূর্যটা, তখন ভাবতেই পারিনি আজ এমন গুমরে থাকবে সারা দিন। কাল দুপুর অবধি আমরা হেঁটে হেঁটে ঘুরেছি শাল-সেগুনের বুকচেরা পথে, দেখেছি স্নিগ্ধ সাঁওতাল গ্রাম আর পৌষের শীর্ণ নদীর হাঁটু পানি। আর বিকেলে বনের আরেক পথে পাখির ডাক শুনে শুনে অলস হাঁটতে হাঁটতে পেঁৗছে গিয়েছি আরেক সাঁওতাল গ্রামে। 'তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও_/ আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে; দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে/ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে/নেচে চলে_একবার_ দুইবার_তারপর হঠাৎ তাহারে/বনের হিজলগাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে';
গরুর গাড়ি এবার চলতে চলতে ঢলেপড়া দুপুরে এসে দাঁড়াল এক প্রাচীন দিঘির ধারে। তার চারধার উঁচু পাড়। আশপাশে জনমানবের চিহ্ন নেই। ধুধু বিরান প্রান্তরে এই দিঘির গায়ে হেলান দিয়ে আমাদের মধ্যাহ্নভোজন। পাড়গুলো ঘাসের পরিপাটি বুননে সবুজ হয়ে আছে। দিঘির গভীর শীতল জল আমাদের টানছে, ডাকছে, কিন্তু এই হিমশীতল দিনে কেউ সাড়া দিল না। অথচ কাল অনেকেই বলেছিল দিঘি পেলে সাঁতার কাটবে। ধোঁয়া ওঠা তপ্ত খিচুড়ি এই ঠাণ্ডায় অন্য রকম স্বাদ দিল যেন। তারপর আবার যাত্রা। সন্ধ্যার মুখে গাড়ির বহর ফিরে এল বাংলোর হাতায়।
আর আঁধার ঘনিয়ে এলে ভেসে এল মাদলের বোল। লাল ফুলে খোঁপা বেঁধে লালপাড় শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে হাতে হাত ধরে পায়ে পা মিলিয়ে ধামসা নাচে ঘোর লাগিয়ে দিল সাঁওতাল দল। গানের সুর তার সপ্তক ছেড়ে বহুদূর যেতে চায় সেগুনের মাথায় মাথায়। কী মায়ায় নিমতেলের গন্ধ মেশে চুলের বিনুনি থেকে বাতাসের কণায়। রাত ১০টায় বড় রাস্তায় আমাদের বাস এসে দাঁড়াবে। তারই মধ্যে আরো যতটুকু পারা যায় শুষে নাও, আরো যতটুকু পারা যায় দেখে নাও! শালবনের গাঢ় অন্ধকারে সাঁওতালি সুর আর আগুনের আভার মতো সব স্মৃতিময় রং ভাসিয়ে নিয়ে যায় একটু একটু করে সময়ের দায়ে। আমরা ফিরতে থাকি, কিন্তু অস্তিত্ব থাকে সেখানেই, যেখানে প্রকৃতি তার সবুজ বিছিয়ে রেখেছে অকৃপণ আঁচলে। '...তারপর দূরে নিরুদ্দেশে/চলে যায় কুয়াশায়,_তবু জানি কোনো দিন পৃথিবীর ভিড়ে/হারাব না তারে আমি_...।'কিভাবে যাবেন : ঢাকার গাবতলী থেকে ঠাকুরগাঁওগামী নাবিল বা শ্যামলী পরিবহনের বাসে চড়তে হবে। ভাড়া ৩৫০ টাকা। নামতে হবে বীরগঞ্জের বটতলীতে। সেখান থেকে ভ্যানে করে সিঙরা বনের বিশ্রামাগারে (রেস্ট হাউস) যেতে ভাড়া লাগে ১৫ টাকা।
ছবি : হাসিব

পাহাড়ে পুকুর আছে

পাহাড়ে পুকুর আছে জাকারিয়া সবুজপাহাড়ে যতবার গেছি পুকুরপাড়ার গল্প শুনেছিই। শেষে এই ২৩ ডিসেম্বর রাতে রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবান রওনা হলাম। রিপন যোগ দিল চট্টগ্রাম থেকে এসে। পাঁচ দিনের ট্যুর বলে ব্যাকপ্যাকের আকারও হয়েছে দশাসই। জাদিপাড়ার এক মারমা দোকানে নাস্তা সেরে রুমাগামী মিনিবাসে চড়ে বসলাম। বাসটি আমাদের নিয়ে যাবে কৈক্ষ্যংঝিরি ঘাট অবধি। সেখান থেকে নৌকায় যেতে হবে রুমাবাজার।রুমাবাজারে কেনাকাটারুমাবাজারে পেঁৗছে দেখি আড়াইটা বাজে। আমাদের চেনা গাইড শাপুল বড়ুয়াকে পেয়ে খুশি হয়ে গেলাম। বড় ভালো মানুষ শাপুলদা। রুমা থানা এবং আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে আর দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সারতে বিকেল নেমে এল। ইচ্ছা ছিল প্রথম রাত বগামুখপাড়ায় থাকব, কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় রুমাবাজারের লাইরনপী পাহাড়ে নাথান বমের লাইমি হিল সাইড রিসোর্টে থাকলাম। ডরমিটরিতে প্রতি বিছানা ৫০০ টাকা। এখানে রাতের আকাশ তারাভরা, সকালে বিস্তীর্ণ প্রান্তর কুয়াশায় ঢাকা। সাধারণত বিকেল ৪টার পর ওপরের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেয় না নিরাপত্তা বাহিনী। সন্ধ্যাবেলায় তেল, লবণ, মসলা, পেঁয়াজ, ডাল, আলু, শুঁটকিসহ বেশ কিছু শুকনো খাবার কিনে নিলাম বাজার থেকে। চার দিনের প্রয়োজনীয় সব কিছু দিয়ে আরেকটি ব্যাগ পুরিয়ে ফেললাম। শাপলুদা আছে, তাই ভয় পেলাম না।মেন্দুইপাড়ার পথেপরদিন সকালবেলায় হাঁটা শুরু করলাম মেন্দুইপাড়ার পথে। লাইরনপী পার হতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। পাহাড় প্রথম পরীক্ষা নেয় লাইরনপীতেই। এর পর ঝিরি ধরে হেঁটে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর বগামুখে পেঁৗছে ঝটপট রান্নার আয়োজন করে ফেলি। জুমের চাল কিনলাম এক বাড়ি থেকে। এখানে আছে মারমাপাড়া। ঝিরির পানিতে গোসল সেরে নিয়ে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিয়েই আবার হাঁটা। পাহাড় শুরু হয়ে গেল। কম করেও দেড় ঘণ্টা শুধু ওপরেই উঠলাম। গোধূলির সোনা রঙে অবশ্য মন রাঙানো ছিল। পাহাড়ের ধূসর, নীলচে ও ছাই রং লাল আভায় মিশে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছে। দূর পাহাড়ের ওপারে একসময় সূর্যটা টুপ করে ডুব দিল। টর্চের আলোয় বাকি পথটুকু হেঁটে আমরা যখন মেন্দুইপাড়ায় পেঁৗছলাম তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। এ পাড়ায় মুরংদের বাস। আমরা লাংরাম মুরং নামে এক যুবকের বাসায় আশ্রয় নিলাম। পাড়ার পোলাপানদের সঙ্গে মুড়ি, বিস্কুট ও ক্যান্ডি খেয়ে চমৎকার সময় কাটালাম। পাহাড়ে সবচেয়ে সুন্দর এর মানুষগুলো। এদের থেকে অনেক শেখার আছে। এরা নিজের খাবার, পোশাক, আবাস সব নিজেরা তৈরি করে_চাওয়া কম, হিংসা বুঝি নেই। বছরখানেক আগে শাপুলদার ফেলে যাওয়া একটা ছুরি লাংরাম সযত্নে রেখে দিয়েছে ফেরত দেওয়ার জন্য। রাতে ওর কাছ থেকে চাল আর পাহাড়ি কচু পেয়ে খাওয়াটাও জমল বেশ। ঘরের মধ্যেই চুলো, শীতের কাছে হার মেনে সেটা জ্বালিয়ে রেখেই এর আশপাশে সবাই ঘুমে গেলাম।এবার পুকুরপাড়াসকালের খাওয়া সেরে নিয়ে পুকুরপাড়ার দিকে হাঁটা দিলাম। পথ খুবই দুর্গম। কোথাও খাড়া পাহাড় তো কোথাও ঝিরির বুকে বড় বড় পাথর আর জলপ্রপাত। ঝিরির ঠাণ্ডা পানি পার হতে গেলে পা দুটো বুঝি জমে যায়! কোনো জায়গা ঘন গাছপালায় ঢাকা সুড়ঙ্গের মতো। বিশ্রাম নিয়ে এগিয়ে চললাম। বেলা ১২টার দিকে পাড়ায় পেঁৗছলাম। বিশাল পুকুরটা দেখে ঘোর লেগে গেল। পুকুরটির নাম রাইক্ষ্যং লেক। পুকুরের এধার-ওধার দিয়ে পাহাড় উঠে গেছে। জল গাঢ় নীল, আকাশকেও টেক্কা দেয় বুঝি! নেরুহা ত্রিপুরার বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। আমাদের অভ্যর্থনা জানাল বাঁশের ভেতর তৈরি করা পিঠা দিয়ে। দুপুরের খাওয়া চুকিয়ে কাছের আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে আসলাম। পাড়াতেই সব জিনিসপত্র রেখে এর পর গেলাম রাইক্ষ্যংঝিরি দেখতে। এক ঘণ্টার পথ। সে এক আরেক অপরূপ জগৎ। পাথরের ধাপে ধাপে শুভ্র ফেনিল জলধারা বয়ে চলেছে। সবুজ-শান্ত প্রকৃতির মধ্যে পানির গর্জন, নাম না জানা ফুলে ফুলে প্রজাপতির ওড়াউড়ি, ঝিঁঝিঁপোকার ডাক আর শেষ বিকেলের মিষ্টি রোদ আমাদের পেয়ে বসল। জায়গামতো বসলে আর উঠতে ইচ্ছে করে না। গোসল করার লোভটা সামলাতে পারলাম না এই শীতেও। সন্ধ্যাবেলায় পাড়ায় ফিরে মোরগ পুড়িয়ে ফেলল রাকিব। বাতাস বইল হিম হিম। আকাশে চাঁদ আর লাখো তারার মেলা বসল। নেরুহার ছেলেমেয়ে হাঁস্তেরুং, রুঁস্তেরু, হাঁনোরু, ক্লিন্টদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠলাম।কেওক্রাডং-বগালেক হয়ে ফেরাপরদিন সকালবেলায় মেন্দুইপাড়ার উদ্দেশে ফিরতি পথ ধরলাম। পেঁৗছলাম দুপুরে। এ পাড়াতেই রাতটা থেকে যাওয়ার স্থির করলাম। পাহাড়ে একমাত্র মুরংরাই তাদের আদি সংস্কৃতি এখনো ধরে রেখেছে। পরদিন সূর্য ওঠার আগে রওনা দিয়ে সাইকতপাড়া-হারমুনপাড়া-দার্জিলিংপাড়া হয়ে কেওক্রাডংয়ে উঠলাম। এরপর চলে গেলাম বগালেক। ১০ ঘণ্টার এই হাঁটায় শুকনো খাবার আর ঝিরির পানি খুব কাজে দিল। বগালেকে সিয়াম বমের বাসায় উঠলাম। সন্ধ্যাবেলায় লেকের স্বচ্ছ টলটলে পানিতে গোসল সারতেই ক্লান্তি পালাল। পরদিন ফিরে এসেছিলাম রুমাবাজার।যেভাবে যাবেন ও যেখানে থাকবেনঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর থেকে এস আলম, ইউনিকসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বান্দরবান থেকে কৈক্ষ্যংঝিরি বাস ভাড়া ৭০ টাকা। নৌকা ভাড়া ২০ টাকা। গাইডকে দিতে হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। রাতে থাকতে হয় পাড়ার কোনোবাড়িতে। রান্নাবান্নার হাঁড়ি-পাতিল তাদের কাছ থেকে নেওয়া যায়। তবে রাঁধতে হয় নিজেদেরই। ঘরে থাকার কোনো ভাড়া নেই। খুশি হয়ে সবাই কিছু ধরে দেয়।সঙ্গে নেবেন : অবশ্যই মাথাল ও টর্চলাইট নেবেন। ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। শীত হলে হালকা একটা কম্বল নেবেন। আরো নেবেন পাহাড়ি পথে হাঁটার উপযোগী স্যান্ডেল বা কেডস, টয়লেট টিস্যু, মশানিরোধক ক্রিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
ছবি : লেখক
Source: Daily Kalerkantho

Sunday, January 30, 2011

পার্কের আদলে মসজিদ

পার্কের আদলে মসজিদ

সাইনবোর্ড না পড়লে যে কেউ মনে করবেন এটি একটি পার্ক। আসলে এটি কোনো পার্ক নয়, পার্কের আদলে তৈরি মসজিদ। যার অবস্থান পূণ্যভূমি সিলেটের ওসমানীনগর থানার তাজপুরের দিঘিরপাড়ে। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন এলাকার বিশিষ্ট ধনাঢ্য ব্যক্তি ধন মিয়া।
শৈল্পিক কারুকাজখচিত মসজিদের পাশেই রয়েছে সুবিন্যস্ত পাঠাগার। নামাজ আদায় ছাড়াও বিকালে লোকজন এখানে বই পড়তে আসেন। ভিড় করেন বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সৌন্দর্যপিপাসুরাও। পাঠাগারের পেছনে রয়েছে সুবিশাল দিঘি। সুসজ্জিত ফুলের বাগান, নারিকেল গাছ, বসার ছাউনি, দোলনা, ছোট-বড় গেট। সব মিলিয়ে মনে হবে এটি কোনো পার্কের দৃশ্য। লোকমুখে শোনা যায়, ধন মিয়া স্বপ্নযোগে মসজিদ নির্মাণের আদেশ পেয়ে এটি নির্মাণ করেন। মসজিদের নির্মাণকাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। পড়ন্ত বিকালে দিঘিরপাড়ের মনোরম দৃশ্য ঘুরতে আসা মানুষকে বিমোহিত করে। যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে অবসরে ঘুরে আসতে পারেন ওসমানীনগরের দিঘিরপাড় মসজিদ।
-রামিল মাসুদ
Daily Bangladesh pratidin

টুকটুক ইকো ভিলেজ

টুকটুক ইকো ভিলেজ

রফিকুল আমীন খান
পাহাড় আর লেকে ঘেরা রাঙামাটির প্রতিটি খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে আছে বিস্ময় আর আনন্দ। সৌন্দর্যপিপাসুরা এ বিস্ময় আর আনন্দের টানে বারবার ছুটে চলেন রূপের রানী খ্যাত রাঙামাটি জেলায়। ভ্রমণপ্রিয়দের আনন্দ দিতে কী নেই এখানে। জেলাজুড়ে রয়েছে ভ্রমণের অসংখ্য স্পট। সব রূপলাবণ্যে ভরপুর। রূপের রাণী সেজে বসে আছে ভ্রমণপ্রিয়দের মনে আনন্দ দিতে। কিন্তু দু-এক দিনের ছুটিতে সবার সৌন্দর্য দর্শন দুরূহ ব্যাপার। তাই এক একবারের ছুটিতে রাঙামাটির এক একটি স্পট বা এলাকা দর্শনের চিন্তা করাই শ্রেয়।
রাঙামাটিতে এবার নিয়ে সপ্তমবারের মতো ভ্রমণ। তা সত্ত্বেও আমিসহ সহযাত্রীদের আনন্দ ও উত্সাহের শেষ নেই। নতুনদের মাঝে তা আরও উত্সাহ। সবার চোখে শুধু রাজ্যের বিস্ময়। হাজার হাজার টাকা খরচ করে অনেকেই নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশ গেছেন পাহাড়-টিলা-হ্রদের সৌন্দর্যের খোঁজে। কিন্তু নিজ দেশে এত কাছে সেই আকাশসম পাহাড়, সবুজে মোড়া টিলা-উপটিলা, দিগন্ত বিস্মৃত কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানিধারা আছে, তা ক’জনের জানা ছিল? ভাবতে অবাক লাগে, মনের অজান্তে কণ্ঠে ভেসে ওঠে ‘ধন-ধন্যে পুষ্পে ভরা ... ... এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি।’ এরকম হাজারো মন ভোলানো গান শিল্পীর কণ্ঠে এমনিতে যে ভেসে ওঠেনি, তা সহজেই বোঝা যায় কেবল রাঙামাটিতে গেলে।
রাঙামাটিতে আমাদের এবারের ভ্রমণ আয়োজন ছিল বেসরকারি ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান নোঙর ট্যুরিজমের উদ্যোগে। বিচিত্র আর বৈচিত্র্যে ভরা এখানকার নানা উপজাতির সমাজ-সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখা ছাড়াও কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণ ছিল ভ্রমণ পরিকল্পনায়। পরিকল্পনা অনুসারে কোনোটিই বাদ রইল না। সব স্মৃতিই মনের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো। সে সবের মাঝে টুক টুক ইকো ভিলেজ দর্শনের স্মৃতিই মনের জানালায় ভেসে ওঠে বারবার। সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা এ পর্যটন কেন্দ্রটি ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে দারুণ উপভোগ্য। রাঙামাটি এলে এটি না দেখে চলে যেতে মন চাইবে না।
জেলা সদরের বালুখালী ইউনিয়নের কিল্ল্যামুড়া এলাকায় অবস্থিত এই পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রটি। চারদিকে কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ পানি রাশির মাঝে হঠাত্ই জেগে ওঠা সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা এই ভ্রমণ স্পটে খানিক বসতেই নিমিশেই হিমেল হাওয়ার ঝাপটা নিয়ে যাবে কোনো এক স্বর্গীয় অনুভূতির সন্ধানে। কাপ্তাই লেকে দীর্ঘ নৌভ্রমণে যখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থা, তখন টুক টুক ইকো ভিলেজের রেস্তোরাঁর রকমারি খাবারের স্বাদ গ্রহণ জিবে এনে দেয় নতুন তৃপ্তি। কাঠ এবং বাঁশের কারুকাজে তৈরি এ রেস্তোরাঁয় মিলে দেশীয় ও পাহাড়ি আদিবাসীদের মজাদার সব খাবারের আইটেম। লেকের পথে সারা দিনের জন্য যারা নৌভ্রমণে বের হন দুপুরের খাবারটা তারা এখানেই সেরে নিতে বেশি পছন্দ করেন। চারদিকে কাপ্তাই হ্রদের সারি সারি পানিরাশি আর পাহাড়ি বন-বনানীর এমন নির্জন পরিবেশে আয়েশি মেজাজে পেটপুরে খেতে গিয়ে টাকার অংকটা একটু বেশি গুনতে হলেও এর মাঝেও আছে অন্য রকম আনন্দ।
পুরো ইকো ভিলেজটি ৫০ একর পাহাড়ি জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বহু টিলা-উপটিলা বিভক্ত এ পর্যটন কেন্দ্রে থেকে থেকে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি কাঠের কটেজ। অ্যাটাশ বাথ, ব্যালকনি-সমেত এ কটেজগুলোয় থাকার জন্য রয়েছে সুব্যবস্থা। এগুলোয় রাত যাপনের আনন্দস্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে জীবনভর। জানালার ফাঁকগলিয়ে দূরে পাহাড়ের ঢালে কাপ্তাইয়ের পানিতে পূর্ণিমার চাঁদের খেলা করার দৃশ্য অসাধারণ। রাতে পাহাড়ি বন-বনানীর মাঝ থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক সঙ্গে নাম জানা-অজানা নিশাচর পশু-পাখির বিচিত্র শব্দে কেবলই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চায় মন। পর্যটকদের অবস্থান নির্বিঘ্ন করতে আছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক পরিবেশে আড্ডা দেয়ার জন্য ইকো ভিলেজে তৈরি করা হয়েছে ১৫টি গোলঘর। শিশুদের আনন্দ দিতে প্রশস্ত খেলার মাঠ, কাঠের ব্রিজ সবই আছে এখানে। চারদিকে পাহাড়ি গাছ-গাছালি ছাড়াও ইকো ভিলেজের চড়াই-উত্রাইয়ে থেকে থেকে লাগানো হয়েছে নানান রকমের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, আফ্রিকান গাদায় ভরপুর পার্কটিতে পা ফেললেই বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা কোমল গন্ধে মন জুড়িয়ে যায়। এগুলোর নির্মল ছায়ায় মাঝেমধ্যেই পিকনিক পার্টির লোকদের ভিড় জমাতে দেখা যায়। ভ্রমণ এবং পিকনিক পার্টির আয়োজনের বাইরে অনেককে গবেষণার কাজেও যেতে দেখা যায় এখানে। বিশেষ করে যারা প্রকৃতিপ্রেমী, প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য নির্ঝঞ্ঝাট ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে কয়েকটি মুহূর্ত কাটানোর এমন সুযোগ আর দু-একটি মেলানো দায়।
পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে ইকো ভিলেজ কেন্দ্রটি আজ প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায়ও দারুণ ভূমিকা রেখে চলেছে। যদিও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠার কাজ এখনও খানিকটা বাকি আছে, তা সত্ত্বেও আশা করা যায় প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হলে এটি হবে দেশের ইকোপার্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। কারণ, একমাত্র এই ইকোপার্কেই রচিত হয়েছে প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত পাহাড়, হ্রদ, ঝরনাধারা আর কোমল পরিবেশের মিলন বন্ধন। প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কত বিচিত্র্য হতে পারে, তা এখানের দৃশ্য দেখে বোঝা যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে একটু নান্দনিকতার ছোঁয়ায় যে ইকো পার্ক গড়ে উঠেছে রাঙামাটির এই স্বচ্ছ পানির মাঝে, তা পর্যটক মনে রাঙামাটির প্রতি ভ্রমণের আকর্ষণ ক্রমেই বাড়াবে—এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাঙামাটি শহর থেকে টুক টুক ইকো ভিলেজে যাওয়ার জন্য শহরের রিজার্ভ বাজারের শহীদ মিনার এলাকা থেকে রয়েছে নিজস্ব বোটের ব্যবস্থা। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। তবে আমাদের ২০ জনের এই ক্ষুদ্র দলটি বহনের জন্য আলাদা রিজার্ভ ট্রলার ভাড়া করেছিল নোঙর ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ। সারা দিন লেকের পথে টুক টুক ইকো ভিলেজসহ রাঙামাটির অনন্য দর্শনীয় পর্যটন স্পট দেখা শেষে সন্ধ্যায় যখন রিজার্ভ বাজারের ট্রলারঘাটে আমাদের নামিয়ে দিল ততক্ষণে স্মৃতিতে জমা পড়েছে রাঙামাটি ভ্রমণের আরও কিছু নতুন অভিজ্ঞতা। এ অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। জীবনের সুখ স্মৃতিগুলোর মাঝে যেগুলো চির ভাস্বর হয়ে থাকে জীবনভর।
শীত এলে টুক টুক ইকো ভিলেজসহ রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রেগুলোয় পর্যটকদের ঢল নামে । এ সময় রাঙামাটি ভ্রমণের মজাই আলাদা। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯২২১১২৬৭৬ নম্বরে।
Source: Daily Amardesh, 31-01-2011

রাঙামাটির ছবি ব্লগ [পর্ব-৫]

আজকের পর্বে থাকছে টুকটুক ইকো ভিলেজ-এ যাওয়ার সময় এবং অবস্থান করা কালীন কয়েকটি ছবি। রাঙামাটিতে গেলে কখনই ১ দিনে পুরোটা ঘুরে শেষ করতে পারবে না কেউ। ১ রাত থাকতেই হবে আপনাকে। রাত কাটানোর কাজটা আপনারা সেরে নিতে পারেন এই টুকটুক ইকো ভিলেজ এই। এখানে কয়েকটি রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। সবগুলো রিসোর্টই পাহাড়ের কিনারায় কাঠের ভিত্তির উপড় তৈরী (ছবিতে দেখবেন)। ধারনা করছি সেগুলো খুবই সাধারন। প্রতি রুম ১ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। এক রুমে ৩ জন পর্যন্ত থাকতে পারবেন। সুতরাং তুলনামুলক অনেক সস্তা। এই সব রিসোর্টে ইলেক্টট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে সোলার এনার্জির মাধ্যমে। রাখা আছে জেনারেটর ও। আসুন কয়েকটি ছবি দেখি…


১)

টুকটুক ইকো ভিলেজ-এ যাওয়ার সময়

২)

টুকটুক ইকো ভিলেজ-এর প্রবেশ পথ

৩)

টুকটুক রেষ্টুরেন্ট

৪)

সাদা ভাত এবং চিকেন ইন বেম্বু। স্থানীয় ভাষায় এই খাবারের নাম “কুমোতকুড়া”

৫)

সবুজের মাঝে টুকটুক রিসোর্ট

৬)

একটি নির্মানাধীন রিসোর্টের উপড় আমরা

৭)

টুকটুক ইকো ভিলেজের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ছোট খাল

৮)

কাশফুল

৯)

পাহাড়ের উপড় থেকে তোলা

১০)

গহীন নীলিমা

১১)

নাম না জানা কোন ফুল

১২)

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, যাবার সময় হলো…

al_berunie লেখক : আদনান আল বিরুনী
Prothom-alo Blog

যাবেন... মধুটিলা ইকোপার্ক!

যাবেন... মধুটিলা ইকোপার্ক!
সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে যাচ্ছে সাদা ঝরণারাশি। যেন সবুজ মখমলের গায়ে মুক্তোর ধারা। এর সঙ্গে বৈচিত্র্যময় আদিবাসী জীবনযাপন। শাল, সেগুন পরিবেষ্টিত টিলাময় মধুটিলা ইকোপার্ক আপনার নাগরিক জীবনের অবসরে প্রশান্তি এনে দেবে...

পাহাড়ি ঝরনার ঝিরঝির শব্দ আর পাখির কলকাকলি গারো পাহাড়ের আকর্ষণ। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ গারো পাহাড়। সবুজ-শ্যামল বন, পাহাড়, টিলা আর ঝরনাবেষ্টিত দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা মধুটিলা। ভ্রমণবিলাসীদের জন্য এক মনোরম স্থান। ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলতে এই অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে ব্যাপক আয়োজন। নগরীর যান্ত্রিক সভ্যতা থেকে অনেক দূরে গারো পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নয়নাভিরাম এক শৈল্পিক ভুবন। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ আর নির্মল বাতাসের স্বাদ নিতে সেখানে পাহাড়ের টিলাকে অবিকল রেখে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে গড়ে তোলা হয়েছে সুদৃশ্য ভবন। সেখানে পাহাড়ের টিলাকে অবিকল রেখে এখানকার সবুজ প্রকৃতি যেন আপন করে নেয়। শ্যামল বৃক্ষরাজির মাঝ দিয়ে পাকা সড়কপথ যেন সুড়ঙ্গের দিকে ঢুকে যাচ্ছে। সারি সারি শাল, গজারি, সেগুন ও লতাগুল্মের বিন্যাস প্রকৃতিপ্রেমীদের দোলা দিয়ে যাবে নিশ্চয়ই। শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের সমশ্চুড়া ইকোপার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভ্রমণবিলাসীরা বারবার ছুটে আসেন এখানে। পড়ন্ত বিকেলে এখানকার পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ভারতের তোড়া পাহাড়কে দেখা যায়। মনে হবে ওই তোড়া পাহাড় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। মনের মাঝে জাল বুনবে, হায় জন্ম যদি হতো এই গারো পাহাড়ে। তাই তো আবারও গারো পাহাড়ের মধুটিলা ইকোপার্কে আসার জন্য মন আকুলি-ব্যাকুলি করবে। ফি বছর শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে এখানে ভ্রমণবিলাসীদের ঢল নামে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বন বিভাগের জমিতে এ ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়।
কীভাবে যাবেন :ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে শেরপুর আসতে সময় লাগে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা। আবার শেরপুর থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী টার্মিনাল থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ১৯০ টাকা। এখান থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় সাদিকা গেটলক বাস ছাড়ে। দুপুর দেড়টায় ছাড়ে এসি বাস। এসি বাসের ভাড়া ২২০ টাকা। ভুল করে স্পেশাল ড্রিমল্যান্ড ছাড়া অন্য গাড়িতে উঠবেন না। এসব ছাড়া অন্য বাসগুলো লোকাল। এসব বাসে সময়ও লাগে বেশি, ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। শেরপুর নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজি নিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন ইকোপার্কে। ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আবার নিউমার্কেট অথবা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকে মাইক্রোবাস পাওয়া যায়। ভাড়া ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর বাসে শেরপুর থেকে ইকোপার্ক পর্যন্ত ভাড়া ৩০ টাকা।
কী কী দেখবেন : প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেখতে পাবেন আদিবাসী গারো, হাজং, কোচ, হদি বর্মণ সম্প্র্রদায়ের অধিবাসীদের। গারো পাহাড়ের গজারি বনের মাঝ দিয়ে সরু রাস্তায় গাড়ি চালানোর রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো আপনি উপভোগ করতে পারেন। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তার তো কোনো অবকাশই নেই বরং মনকে প্রফুল্ল রাখতে আছে টাটকা খাবারের সুব্যবস্থা। মধুটিলা ইকোপার্কে ঢুকতে প্রবেশ মূল্য দু'জন যাত্রীসহ মোটরসাইকেল ২০, বড় বাস ৫০০, মিনিবাস ২০০ ও লোকাল বাস ৪৫০ টাকা। ইকোপার্কের গেট পার হলেই চোখে পড়বে দু'পাশে গাছের সারির মাঝ দিয়ে রাস্তা। মনে হবে নিচের দিকে ঢুকে যাচ্ছি। আবার ওপরে উঠতেই দু'পাশে দণ্ডায়মান দুটি হাতি আপনাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। আরেকটু এগোলে দেখবেন সাপ, বানর, পাখি আপনাকে সালাম দিচ্ছে। এখানে লেখা রয়েছে আমাকে মারবেন না, আমি বনের অলঙ্কার। সামনে এগোলেই মিনি চিড়িয়াখানা। তারপর কৃত্রিম লেক। লেকে প্যাডেল বোট চলছে। প্রতি প্যাডেল বোটে ৫-৬ জন বসা যায়। ৩০ মিনিট চালাতে ভাড়া ৫০ টাকা। বাঁয়ে ১০০ গজ এগিয়ে গেলে ৫৫ ফুট উঁচু টাওয়ার। টাওয়ারে ওঠার টিকিট ৫ টাকা। এখানে দাঁড়িয়ে খালি চোখে আবছা আবছা ভারতের বিএসএফ ক্যাম্প দেখা যায়। আবার পরিষ্কারভাবে দেখতে চাইলে টাওয়ারে বাইনোকুলার রয়েছে। আপনি টাওয়ারে উঠতেই ডাক শুনবেন, স্যার ভারতের ক্যাম্প দেখবেন! দূরবিন হাতে দিয়েই বলবে, দেখুন স্যার কী পরিষ্কার ভারতের ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে। আরও জানাবে, দেখেন ক্যাম্পে ২টি পতাকা উড়ছে না স্যার। একটা পতাকা লাল আর একটা সাদা। দূরবিনে ভারতের ক্যাম্প দেখতে ৫ টাকা লাগে। টাওয়ার থেকে ডানদিকে এগোলে উঁচু পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়িটি এত খাড়া যে, এটাতে কেউ একবার উঠলে বসে একটু বিশ্রাম না নিলে হাঁফিয়ে উঠতে হবে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই চোখে পড়বে অত্যাধুনিক বন বিভাগের রেস্ট হাউস। এ রেস্ট হাউস থেকে নেমে আসার পথে চোখে পড়বে শিশুদের জন্য শিশুপার্ক। রেস্ট হাউসে প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০ টাকা। তবে এখানে রাত কাটানো নিরাপদ নয়। ফিরে আসুন শেরপুরে।

লেখা ও ছবি : আমিরুজ্জামান লেবু
Source: Daily Samakal, 25 th January-2011

Tuesday, January 25, 2011

প্রকৃতির সম্পদ বরমীর বানর

প্রকৃতির সম্পদ বরমীর বানর গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিবাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ দখল করে আছে বানর। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বানরের পদচারণা থাকলেও ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির অন্যতম এ প্রাণীটি। এদের রক্ষায় নেই সরকারি বা বেসরকারি কোনো পদক্ষেপ। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হয়তো বিলুপ্তি ঘটবে প্রাণীটির।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বরমীতে এমনই এক বানরের অভয়ারণ্য টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। এখানে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন বানর দেখতে আসে শত শত মানুষ। তারা বানরের জন্য নিয়ে আসে মুড়ি, পাউরুটি, বিস্কুট, বাদামসহ অনেক কিছু।
তবে অতিথিদের নিয়ে আসা খাবার তো আর এত সংখ্যক বানরের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর বানরগুলো দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। অভাবে নষ্ট করে দিয়েছে তাদের স্বভাব। শিখিয়েছে দক্ষ চুরি। সুযোগ পেলে বাসা-বাড়ি ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে খাবার চুরি করে এরা। এদের নেতৃত্ব দেয় সবচেয়ে প্রবীণতম বানর। এমনিতেও চলে এরা দল বেঁধে। শীতলক্ষ্যায় গোসল করে দল বেঁধেই। কোনো বানরকে কেউ আঘাত করলে এরা জোটবদ্ধ হয়ে তাকে আক্রমণ করে। এলাকাবাসীর কারও কারও বেশ সহানুভূতি থাকলেও অনেকে বানরগুলোর চলাফেরা বা কাজকর্মকে অত্যাচারই মনে করেন।
শ্রীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেঁষে প্রাচীন এই বরমী বাজারে একসময় হাজার হাজার বানর বসবাস করলেও দেখভালের অভাবে এ সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এখানকার বানরগুলো হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, অত্যাচার থেকে মুক্ত পেতে খাবারে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে হত্যা। এ কাজগুলো করে থাকেন বাজারের একশ্রেণীর দোকানি বা আশপাশের বাড়িওয়ালারা। এ ছাড়া এলোমেলো বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়েও মারা যাচ্ছে অনেক বানর। তবে স্থানীয়দের ধারণা, মূলত খাবারের অভাবেই গত দুই যুগে তিনশরও বেশি মারা গেছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া এবং ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা শ্রীপুরের বরমী বাজারে সমপ্রতি এসেছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একদল গবেষক। তাদের গবেষণায় ওঠে আসে এখানকার বানর বিলুপ্তির কারণ। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঐতিহ্যের ধারক বরমীর বানর বাঁচিয়ে রাখতে কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি কোনো মহল থেকে। সরকার দ্রুত দেখভালে এগিয়ে না এলে অচিরেই এদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
সোমবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এখানকার বানরগুলোর করুণ দশা। শতাধিক বানর খাবারের জন্য লাফিয়ে বেড়াচ্ছে দোকানগুলোর এ-ছাদ থেকে ও-ছাদে। মুড়ি, পাউরুটি, বিস্কুট, বাদাম ইত্যাদি দিতে দেখা গেল বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-কিশোর তরুণ-তরুণীদের। তাদের সহানুভূতিতে এমনভাবে ছুটে আসে বানরগুলো, যেন অনেক দিনের চেনা।
মানুষের সহানুভূতির ওপর নির্ভরশীল বানরগুলো এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে সারা বাজার মাতিয়ে রাখে। দর্শনার্থীরাও বেশ উপভোগ করেন বানরের খেলা। কিন্তু ক্ষুধার তাড়নায় বানরগুলো বটের ছায়ায় কখনো নীরবে আবার কখনো সরবে কেঁদে ওঠে। এর সত্যতা পাওয়া গেল বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি অহিদুল হক ভূঁইয়ার কথায়। বললেন, এখানকার বানরগুলোর খাবারের অভাব এতটাই প্রকট যে অসংখ্য বানর চলে গেছে শ্রীপুরের গজারী বনে।
তবে এখানে এখনো পাঁচ শতাধিক বানর রয়েছে বলে জানান বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাদল সরকার বললেন, বানরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্যের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও সাড়া মেলেনি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান বলেন, শীতলক্ষ্যার দূষিত পানিতে গোসলের কারণে বানরগুলোর শরীরে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে। এ ছাড়া খাবারের অভাবজনিত রোগ তো আছেই। বানরগুলোকে বাঁচাতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

Source: Daily Bangladesh Pratidin

বে ড়া নো : চিম্বুক যাত্রা

বে ড়া নো : চিম্বুক যাত্রা

রফিকুল আমীন খান
মেঘদের ছুটে চলার দৃশ্য আকাশপানে তাকালেই দেখা যায়। কিন্তু মেঘকে ছুঁয়ে দেখা কিংবা ঘন মেঘমালার মাঝে হারিয়ে যাওয়া কি সম্ভব! সম্ভব, চিম্বুক চূড়ায় উঠলে। এ কারণেই চিম্বুক চূড়াকে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। যারা ভারতের দার্জিলিং বেড়াতে গেছেন কিংবা যাওয়ার মনস্থির করছেন তারা চিম্বুক চূড়ায় একবার বেড়িয়েই আসুন না। দার্জিলিংয়ের সঙ্গে চিম্বুকের মিলটা কোথায় নিজেই বুঝতে পারবেন। অমিলটা নিয়ে মাথা নাইবা ঘামালেন। নিজ দেশকে নিয়ে গর্ব করার মতো প্রকৃতি হাজারও সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে চিম্বুক পাহাড়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে।
বান্দরবান শহরের যে স্থান থেকে রামু, থানছি ও মিলনছড়ির দিকে রাস্তা চলে গেছে সেখান থেকে চিম্বুকের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এক-দেড় ঘণ্টার পথ। চিম্বুক পৌঁছার আগ পর্যন্ত পুরো সময়টাই কাটে দারুণ আনন্দে। চলার পথে যখন-তখন গাড়ি থামিয়ে নামতে ইচ্ছে করে। যাদের ক্যামেরার ফ্রেমে স্মৃতিকে ধরে রাখাই বেশি পছন্দ, তারা লেন্স থেকে চোখ ফেরাতেই চান না এ সময়। আবার ক্যামেরার কৃত্রিমতা যাদের পছন্দ নয় তারা চক্ষু লেন্সকেই ক্যামেরার কাজে ব্যবহার করেন আপন মনে। চারপাশের প্রকৃতিকে তারা স্মৃতির ফ্রেমে ধরে রাখেন পরম যত্নে। কেবল মাঝেমধ্যে দু’এক জায়গা খানাখন্দে ভরা। বাকি পথের পুরোটাই নির্মল আনন্দে ভরপুর। কেবলই হারিয়ে যেতে চায় মন। প্রকৃতিপ্রেমীরা মনের অজান্তেই গেয়ে ওঠেন—‘ধন-ধন্যে পুষ্পে ভরা/আমাদের এই বসুন্ধরা/স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা সে যে সকল দেশের সেরা...।’ বান্দরবান শহর থেকে চিম্বুকের পথে চলতে গিয়ে এরকম অসংখ্য গান ওঠে আসে গায়কের কণ্ঠে। দেশ এবং প্রকৃতির এ গানগুলো শুনলে তখন গর্বে মন জুড়িয়ে যায়। তাই ভ্রমণ দলে একজন গানওয়ালা অর্থাত্ শিল্পী রাখলে মন্দ হয় না। গানওয়ালা না পাইলেও সমস্যা নেই। নিজেই গলা ছেড়ে শুরু করে দিন। বেড়াতে গিয়ে এক-আধটু গাইলে মনে ফুরফুরে ভাব চলে আসে। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির মাঝেও চেহারায় আয়েশি ভাব দেখা যায়। তবে এ সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার হলে এ ভাব সামান্যই ফুটে ওঠে। কারণ অকৃত্রিমতার মাঝে কৃত্রিমতায় পুরো আনন্দ মিলে না। বান্দরবানের যে অকৃত্রিম সৌন্দর্য পর্যটক মনে আনন্দ দিতে প্রকৃতির রানী সেজে বসে আছে। সেখানে যে কোনো ধরনের কৃত্রিমতাই সৌন্দর্যহীনতার কারণ হতে পারে। প্রকাশ্যে অথবা অগোচরে সেখানে যেভাবে নির্বনায়নের কাজ চলছে তাতে করে সৌন্দর্যের রানীখ্যাত বান্দরবানকে মুকুটহীন রানীতে পরিণত করার পথকেই ত্বরান্বিত করা হচ্ছে বলা চলে। এখানকার বন, পাহাড়, লেক, নদী সর্বত্র নাম জানা-অজানা হাজারও পশু-পাখির বসবাস। শব্দযন্ত্রের আওয়াজ বনে এগুলোর স্বাভাবিক চলাচলকে অস্বাভাবিক করে তোলে। উপজাতি সম্প্রদায়ের জীবন-যাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। ফলে তারা (উপজাতীয়রা) এক সময় পর্যটকদের ওপর বিরক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এমনটা হলে পর্যটকদের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। সেই সঙ্গে ক্ষতি হবে আমাদের পর্যটন শিল্পের। কারণ বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শন যেমনি উপভোগ্য, ঠিক তেমনই উপভোগ্য বিচিত্র আর বৈচিত্র্যে ভরা এ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমাজ-সংস্কৃতির দর্শন, যার টানে প্রতি বছর হাজারও পর্যটকের আগমন ঘটে বান্দরবানে। চিম্বুক যাওয়ার পথে সে সবের অনেকটাই চোখে পড়ে। চাইলে একেবারে কাছ থেকেও দেখে আসা যায়। আদিবাসীরা পর্যটকদের এ চাওয়াকে অপূর্ণ রাখেন না। এতে তাদেরই লাভ। আদিবাসীদের হাতে তৈরি করা মনকাড়া ডিজাইনের লুঙ্গি, গামছা, ফতুয়া, চাদর পাহাড়ে জুম চাষ করে আবাদ করা কলা, আনারস, কমলা পর্যটকদের কাছে বেশ প্রিয়। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে তারা রাস্তার দু’পাশে এসব পণ্য সাজিয়ে বসে থাকেন। পর্যটকদের অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পছন্দের পণ্যটি কিনেন আনন্দের সঙ্গে।
এভাবে নানা আনন্দ আর উত্সাহের মাঝে কখন যে চিম্বুকের একেবারে কাছাকাছি চলে যাবেন টেরই পাবেন না। টের পাবেন একটু পরই, যখন বুকে কিছুটা চাপ বোধ করবেন। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে অনেকেরই মাথা ঘুরে এসময়। কারও বমি বমি ভাব দেখা যায়। তবে ভয়ের কিছু নেই। সমতল ভূমি থেকে এ স্থানের উচ্চতা দেড় থেকে দুই হাজার ফুট। ভূমি থেকে এতটা উচ্চতায় উঠলে মানুষের ওপর প্রকৃতির কিছু বিরূপ প্রভাবের কথা বিজ্ঞানই বলে দেয়। এ অবস্থায় জোরে নিঃশ্বাস নিলে ভালো লাগে। বুকের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। এবার দৃষ্টিকে প্রসারিত করুন, চোখের সামনে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে বাধ্য হবেন, সত্যিই এর রূপের নাইকো শেষ। রূপের মন ভোলানো সৌন্দর্যে চেহারা থেকে কখন যে ভয় আর উত্তেজনার ছাপ মুছে যাবে বুঝতেই পারবেন না। যখন বুঝবেন তখন চিম্বুকের চূড়া থেকে একটু দূরে, মূল সড়কে দাঁড়িয়ে। ডান পাশ দিয়ে আরেকটা সড়ক ওঠে গেছে আকাশপানে। শেষ হয়েছে চিম্বুক চূড়ায় গিয়ে। যাদের শরীরে শক্তি বেশি তারা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা ধরেন চিম্বুক চূড়ার উদ্দেশ্যে। যারা একটু বেশি আয়েশি স্বভাবের তারা সোজা গাড়ি নিয়েই ছুটে চলেন। চিম্বুক চূড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার চারশ’ ফুট ওপরে। এখানেই চিম্বুক ছুঁয়েছে মেঘকে। মেঘেরা চিম্বুক চূড়ায় খেলা করছে। আপনি হতে পারেন সে খেলার মনোযোগী দর্শক। এমন দৃশ্য ভাবতে ভালোই লাগে। আপনার এই ভাবনার রাজ্যকে হার মানাতে চিম্বুক প্রস্তুত। রোমাঞ্চ-ভয়-উত্তেজনা-আনন্দ—সবই আছে এখানে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক ছুটে আসেন প্রকৃতির টানে। বর্ষার সময়েও যে সংখ্যাটা একেবারে নগণ্য নয়। বর্ষার এ বাদলা দিনে গোটা চিম্বুকই ফিরে পায় নতুন লাবণ্য। চার পাশের সবুজ বনানী ফিরে পায় সজীবতা। কোথাও কোথাও দেখা যায় নতুন লতাপাতা। এ সবের বাইরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় যুক্ত হয় নতুন আরও কত কি!
এক পাশে অজোরে বৃষ্টি ঝড়ছে, অন্যপাশে স্বচ্ছ নীলাকাশ। একপাশে মেঘের ঘনঘাটা এত বেশি যে, পাহাড় চূড়া থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সূর্যকীরণ তার (মেঘ) ওপর আছরে পড়ছে। কিন্তু তা ভূপৃষ্ঠকে স্পর্শ করতে পারছে সামান্যই। ফলে এ পাশের সবুজে মোড়া পাহাড় আর বনবনানীগুলোকে মনে হচ্ছে কালো চাদরে ঢাকা। এমন দৃশ্য বর্ষার এ সময়ে চিম্বুক চূড়ায় দাঁড়িয়ে হরহামেশাই দেখা যায়। পূর্ব-দক্ষিণে তাকালে চোখে পড়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পূর্ব-উত্তরে তাকালে পাহাড়ি নদী সাঙ্গুর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। ভারতের মিজোরামে যার উত্পত্তি। চিম্বুক চূড়া থেকে এ নদীকে দু’পাশের পাহাড় আর বনবনানীর মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সামান্য পানি রেখার মতোই মনে হয়। এর আশপাশে দু’একটি ঝর্নারও দেখা মিলে বর্ষার এ সময়। দূরে-কাছে কোথাও লোকালয়ের দেখা না মিললেও মাঝে মাঝেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীই সেগুলোর অস্তিত্ব বলে দেয়। পাহাড়ি আদিবাসীরা লোকালয়ের আশপাশের পাহাড়ে ঝুম চাষের সময় আগুন লাগালে এ ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের চাষাবাদের মাধ্যমে তারা আদা, আলু, আনারস চাষ করেন। যেগুলো বাজারে বিক্রি করে সারা বছরের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করেন। চিম্বুক চূড়া থেকে পাহাড়িদের জীবন-যাত্রার ছিটেফোঁটা চোখে পড়লেও আন্দাজ করা যায় অনেকখানিই। যারা আরও কাছ থেকে দেখে আসতে চান তাদের অনেকেই পাহাড় বেয়ে নেমে পড়েন লোকালয়ে। তবে অচেনা-অজানা এই পথে সঙ্গীহীন না নামাই ভালো। এর পদে পদে আছে ভয় আর শঙ্কা। সে সব ভয় আর আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে চিম্বুক জয়ের প্রশান্তি নিয়ে ভালোয় ভালোয় বান্দরবান শহরে ফিরে আসার মাঝেই আছে ভ্রমণের তৃপ্তি। তবে ফিরে আসার আগে চিম্বুক পার হয়ে আরও সামনে এগিয়ে প্রকৃতির আরেক বিস্ময় নীলগিরি’র অপার সৌন্দর্য দেখে আসতে পারলে মন্দ হয় না। ফিরতি পথে শৈলপ্রপাতের পাহাড়ি ঝর্নায় খানিক যাত্রা বিরতি মনে এনে দিতে পারে ফুরফুর আমেজ। এর ফলে বান্দরবান ভ্রমণের এবারের পর্বে চিম্বুক পথের এ যাত্রায় আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে একটি নয়, যুক্ত হতে পারে এক সঙ্গে তিনটি স্পটের নাম। আর্থিক মন্দার এ যুগে একঢিলে তিন পাখি মারার মাঝেই তো আসল কৃতিত্ব। সুতরাং চিন্তা না করে কোনো এক ছুটির দিনকে সামনে রেখে বেরিয়ে পড়ুন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে।
ঢাকা থেকে এসি-ননএসি অনেক বাসই ছেড়ে যায় বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। থাকার জায়গার কোনো সমস্যা নেই সেখানে। হোটেলের সামনেই চাইলে পাবেন চিম্বুকের পথে ছুটে চলার উপযোগী চাঁদের গাড়ি। পনের থেকে ২০ জনের বসার উপযোগী এগুলোর ভাড়া পড়বে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। যারা এটুকু তথ্যে সন্তুষ্ট নন, তারা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯২২১১২৬৭৬ এ নম্বরে।
Source: Daily Amardesh


ঘুরে আসুন চিম্বুক

পাহাড়ের পর পাহাড়। মাঝখানে জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন পাহাড়গুলোর অবস্থান এই বান্দরবানে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে বিজয় (প্রায় ৫০০০ ফুট), তাজিংডন(৪৫০০ ফুট), কেওক্রাডাং, চিম্বুক (৩২০০ ফুট), ইত্যাদি। পার্বত্য জেলার ১৩টি আদিবাসীর প্রায় সবগুলোর অবস্থান এই বান্দরবানে। আদিবাসীগুলো হচ্ছে চাকমা, মারমা, টিপরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, বোম, উসুই, পাংখো, তঞ্চ্যঙ্গা, খ্যাং, ওচাক। তবে মারমা সমপ্রদায়ের লোকসংখ্যাই বেশি বান্দরবানে।
পুরো বান্দারবান জেলাই প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর।বান্দরবান থেকে পুরো রাস্তা আকাবাঁকা উচুনিচু। চিম্বুকে যাওয়ার পথের পাশে রয়েছে অসংখ্য উপজাতির আবাসস্থল। ঘরগুলো মাচার মতো উঁচু করে তৈরি। চিম্বুকের চূড়া থেকে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের দৃশ্য চোখ জুড়ানোর অবস্থা। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহমান সাংগু নদী যা আপনাকে নিয়ে যাবে অনেক দূরে। স্থানীয় উপজাতীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিম্বুকের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অনেক সময় মেঘও ধরা যায়।
ঢাকা থেকে বাস/ট্রেন/বিমানযোগে চট্রগ্রাম এসে সেখান থেকে বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। বান্দারবান থেকে চিম্বুকে যেতে হবে জিপ গাড়িতে। যাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় চান্দের গাড়ি। চান্দের গাড়িতে গেলে নামতে হবে বুলি বাজারে। ভাড়া করা জিপ নিয়ে সরাসরি চূড়ায় যাওয়া যায়। নিজস্ব জিপ নিয়েও যাওয়া যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৩৬৪ টি ছোট-বড় মোড় অতিক্রম করে ২৬ কিঃমিঃ দূরে চিম্বুকে যেতে হবে।
বান্দারবানে থাকার জন্য রয়েছে নানা রকম আবাসিক হোটেল। এছাড়া সরকারী রেস্টহাউসসহ জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ, বন বিভাগ, এলজিইডি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউসও রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান জেলা থেকে ৪.২ কিঃমিঃ দূরে চিম্বুক সড়কের মিলনছড়িতে রয়েছে দি গাইড টু্রস লিঃ এর হিল সাইড রিসোর্ট। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি মনোরম কটেজ ঘর ও ডরমিটরি। কটেজগুলোর একক ভাড়া ৭৫০ টাকা দুজন ১০০০ টাকা। পুরো কটেজ ভাড়া নেওয়া যায়। বোম ঘরের ভাড়া একক ৪৫০ টাকা, দুজন ৭০০ টাকা, মারমা ঘরের ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা, দুজনের ৪০০ টাকা, ডরমিটরির ভাড়া প্রতি বেড ১৫০ টাকা । বেশি বেড নিলে ভাড়া কম।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

চিম্বুক

‘‘বাংলার দার্জিলিং’’ খ্যাত চিম্বুকের নাম দেশের গন্ডী পেরিয়ে আজ বিদেশেও পরিচিত। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট যেখানে গাড়িতে চড়ে সরাসরি পাহাড় চূড়োয় পৌছানো যায়। জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুকের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ট হতে এর উচ্চতা ২৩০০ ফুট। চিম্বুকের পাশে আদিবাসী মুরংদের বসবাস বেশি। জেলার সব ক’টি উপজেলার সাথে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এখানে টিএন্ডটি বোর্ড একটি বেইজ স্টেশন ও একটি টাওয়ার স্থাপন করেছে। পর্যটকদের দৃষ্টিতে এ টাওয়ারটি খুবই আকর্ষণীয়। এ স্থান থেকে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। এখানে প্রায়ই নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রের স্যুটিং হয়। এখানে সড়ক বিভাগের একটি রেস্ট হাউস রয়েছে । ইহা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউজ এখানে নির্মিত হয়েছে। চাঁদের গাড়ীতে চিম্বুক যেতে ১৫০০-২০০০ টাকা এবং জীপ গাড়ীতে ২০০০-২৫০০ টাকা লাগবে।

Source: www.dcbandarban.gov.bd

Friday, January 21, 2011

টেকনাফের জাহাজপুরা হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা

টেকনাফের জাহাজপুরা হতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা

০০ উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

একদিকে পাহাড়, অপরদিকে বঙ্গোপসাগর, মাঝখানে প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি গর্জন বন। নৈসর্গিক এ সৌন্দর্য যে কারো মন কেড়ে নেবে। পাহাড়, সাগর আর প্রকৃতির অপরূপ এই মেলবন্ধন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা গ্রাম। টেকনাফ উপজেলা শহরের অদূরে সাগর পাহাড় বেষ্টিত এ গ্রামের মানুষের আয়ের উৎস সাগরে মৎস্য শিকার, বন-জঙ্গলে কাঠ আহরণ। স্থানীয় বাসিন্দারা বনসম্পদ পাহারা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করার ফলে জাহাজপুরার বনসম্পদ এখন দেশের অদ্বিতীয় বনাঞ্চল হিসাবে রূপান্তরিত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, টেকনাফের অবহেলিত জনপদ জাহাজপুরায় সরকারি উদ্যোগে পর্যটন অবকাঠামো সৃষ্টি করা হলে জাহাজপুরা হতে পারে কক্সবাজারের ২য় পর্যটন নগরী।

শীলখালী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, জাহাজপুরা বন বাগানের যে সব গর্জন গাছ রয়েছে সেগুলোর সংরক্ষণ করা গেলে জেলার অভয়ারণ্যে পরিণত হবে জাহাজপুরা। বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ সাইফুল ইসলাম জানান, জাহাজপুরার উপকূলীয় বনসম্পদ রক্ষা করে এখানে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। তাছাড়া এলাকার শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
Source: Daily Ittefaq