Search This Blog

FCO Travel Advice

Bangladesh Travel Advice

AFRICA Travel Widget

Asia Travel Widget

Showing posts with label BANDARBAN. Show all posts
Showing posts with label BANDARBAN. Show all posts

Tuesday, January 24, 2012

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকটি হতে পারে আরো আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র

সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সবুজ বৃষ্টিত নাইক্ষ্যংছড়ি প্রাণ কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ঘোঁষে প্রায় আধা কিলো মিটার দীর্ঘ কার্পোটিং সড়ক যুক্ত প্রাকৃতির অপরূপ শোভায় শোভিত উপরণ লেক রয়েছে। একে আরো সৌন্দর্য্যমন্ডিত করে তোলেছে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ পাতার গাছ গুলো। উপজেলা সদর প্রাণ কেন্দ্র থেকে ১/২ কিলোমিটার দক্ষিণে উত্তরবিছামারা এলাকায় এম.এ.কালাম ডিগ্রি কলেজ, শৈল শক্তি শিশু বাগ কে.জি স্কুল, মদিনাতুল উলুম ইনস্টিটিউট দাখিল মাদরাসা ঘোঁষে স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্ব প্রথম গয়াল গবেষনা কেন্দ্রের বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বি.এল.আর.আই) আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র। সদর উপজেলার উত্তরে আধ কিলোমিটারে রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি বি.জি.বির জোন কেন্টেলমেন্ট। শীত মৌসুমে প্রতিদিন পিকিনক পাটি, দেশী-বিদেশী পর্যটক, স্কুল,কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা শিক্ষা সফরে আসেন। সাংবাদ কর্মীরা এখানে গয়াল গবেষণা কেন্দ্রে কিভাবে গয়াল প্রজনন প্রক্রিয়া হয়, তা দেখতে আসেন। এতোসব সমৃদ্ধতার কারণে প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টিত উপবন লেক্ অপার সম্ভাবনাময় অপরূপ সৌন্দর্যের রানী নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রতিদিন ভ্রমন ও প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড় নিজ নামে লিজ নিতে অথবা ক্রয় করতে আসেন বিভিন্ন জেলার অসংখ্য পর্যটক ও ব্যবসায়ী শিল্পপতি। স্থানীয়দের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও উপজাতীয়দের স্বভার এবং অতিথি পরায়নতা দেখে তারা অবাক হয়ে যান।পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র পরিনত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের এক মাত্র গয়াল প্রজনন কেন্দ্র, বৈদেশিক রপ্তানিকৃত চা পাতার বাগান, রাবার বাগান, ভূগর্ভস্থ বাংলাদেশের সর্বব্রহত্র সম্ভাবনাময়ী তৈল ক্ষেত্র ও সীমান্তবর্তী মায়ানমার বাংলাদেশ মৈত্রী বানিজ্য বন্দর সমৃদ্ধ এ পর্যটনে পয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হলে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব এমন ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ মহলের।

এলাকাবাসীর পক্ষে উত্তর বিছামারা গ্রামের সমাজ সর্দার আব্দুর রহমান জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির মতোই বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এ রকম প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টিত পর্যটন কেন্দ্রটি আজ তিন পার্বত্যের মধ্যেই বিখ্যাত। তাই এলাকাবাসীসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলো দীর্ঘদিন ধরে এখানে আকর্ষনীয় মডেল পর্যটন কেন্দ্র গড়ার দাবি জানিয়ে আসছে। অধজ এ উপকস লেক্ টি উন্নয়নের কোন পদক্ষেপ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেক্ টি মডেল পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত করার ঘোষনার পয়োজনে জরিপ কাজ চালানোর মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করার দাবি জানিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ডা: সিরাজুল হক আরো মনে করেন নাইক্ষ্যংছড়ি পার্বত্য এলাকার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে আরো প্রসারিত করে, পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরার পাশা পাশি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ইতি মধ্যে বিভিন্ন প্রিন্টমিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা এসে বিভিন্ন তথ্য, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারন করে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন লেকটি আরো আকর্ষনীয় মডেল পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনার দাবি জানিয়েছেন।

Source: http://dailylalgolap.com

Sunday, August 7, 2011

বর্ষায় বাংলার দার্জিলিং

বর্ষায় বাংলার দার্জিলিং

- রফিকুল আমীন খান
রাজধানীর ফকিরাপুলের দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে সারাদিনই যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। তবে এই বৃষ্টির দিনেও যাত্রীর এত সমাগম হবে ভাবিনি। টানা তিন দিনের বর্ষণে মালিবাগ ও রাজারবাগের কোমর সমান পানি কেটে যখন ফকিরাপুলের শ্যামলীর কাউন্টারে পৌঁছলাম তখন রাত ১০টা। বান্দরবানের একমাত্র গাড়িটি ছাড়ার এখনও ৩০ মিনিট বাকি। আমাদের পনের জনের গ্রুপটির এখনও অনেকেই এসে পৌঁছেনি। মুঠোফোনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল দু’তিনজন যাচ্ছে না। এরকম খারাপ আবহাওয়ায় বান্দরবান যেতে দিতে কিছুতেই তাদের বাবা-মা রাজি নন। সে যাই হোক, ১০টা ২৫ মিনিটে আমাদের গ্রুপটি বাসে উঠতেই চালক ঠিক সময়েই বাস ছেড়ে দিলেন।
এত খারাপ আবহাওয়ার মাঝেও যাদের উত্সাহে আমরা এবারের গ্রীষ্মের ছুটিটা বান্দরবানে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেই নোঙর ট্যুরিজমের কামরুল ভাই কথামত ঠিক সামনের দিকের ১৫টি সিট আমাদের জন্য আগেই বুকিং করে রেখেছিলেন। ফলে এরকম খারাপ আবহাওয়ার মাঝে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে বাসের চাকার হঠাত্ লাফিয়ে ওঠার ঝাঁকুনি থেকে সামান্য হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে ভেবে ভালো লাগল। এরকম ভাবনার মাঝে কখন যে বাস চলতে শুরু করেছে খেয়াল করিনি। খোলা জানালা দিয়ে ফকিরাপুল থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা সড়কের জায়গায় জায়গায় হাঁটু সমান কাদাপানি কেটে বাসের ছুটে চলা দেখতে দেখতে কখন যে দু’চোখজুড়ে ঘুম চলে এসেছে খেয়াল করিনি। মাঝে দু’একবার ঘুম ভাঙলেও অন্যদের বেঘোরে ঘুমোতে দেখে খানিক জেগে থেকে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। সকালের বৃষ্টিভেজা সতেজ আলোতে যখন ঘুম ভাঙল তখন আমাদের বহনকারী বাসটি দু’পাহাড়ের মাঝ দিয়ে ছুটে চলেছে। আমরা এখন কোথায়, কামরুল ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলে জানালেন, সাতকানিয়ার কেরানিহাট থেকে বান্দরবান শহরে যাওয়ার মাঝামাঝি রাস্তায়। শহরে পৌঁছতে আরও ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে।
বাস টিলা-উপটিলার মতো ছোটখাটো পাহাড় ডিঙিয়ে ছুটে চলছে। হঠাত্ অঝোরে বৃষ্টি নামল। খানিক বাদে চালকের গিয়ার পরিবর্তনের শব্দে সামনে তাকালাম। দেখলাম সামনের রাস্তা আকাশ ছুঁয়েছে। পাহাড় বেয়ে নামা বৃষ্টির পানি তীব্রবেগে সোজা বাসের দিকে ছুটে আসছে। চালকের একটু ভুল ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ পরিণতি। ভেজা সড়ক থেকে চাকা পিছলে সোজা কয়েকশ’ ফুট নিচে... ভাবতেই মেরুদণ্ডের মাঝখান দিয়ে শীতল রক্তস্রোত বয়ে গেল। তবে চালক বেশ সতর্ক। দক্ষ হাতে কয়েক মিনিটের মধ্যে গাড়ি পাহাড় চূড়ায় নিয়ে পৌঁছলেন। চূড়ায় পৌঁছতেই চারপাশের প্রকৃতি বেশ পরিচিত লাগল। বাম পাশে মেঘলা পর্যটন মোটেলকে পেছনে ফেলে বাস যখন আরেকটু উপরে উঠল, তখন বুঝতে বাকি রইল না এটা কোন জায়গা। আমরা মেঘলা পাহাড়ের উপর। বান্দরবান ভ্রমণকারীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। এ পাহাড় চূড়ায় রয়েছে অনিন্দ্য সুন্দর মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, যা সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। বান্দরবান বেড়াতে এসে কেউ এর সৌন্দর্য না দেখে ফেরেন না। এর আসল সৌন্দর্য পাহাড়ঘেরা সর্পিলাকার স্বচ্ছ পানির লেক ও দু’টি ঝুলন্ত ব্রিজ। অনেকগুলো সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে ব্রিজ দুটির কাছাকাছি যেতে হয়। ব্রিজ পার হওয়া অনেক আনন্দের। পাশে প্রিয়জন থাকলে কথা নেই, তার হাতে হাত রেখে যখন ওপারে চলবেন তখন স্মৃতির ফ্রেমে বাসা বাঁধবে নানা বর্ণের স্বর্গীয় সুখের অনুভূতি।
বান্দরবানে আমাদের দুই দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনের বিকালটা রাখা হয়েছে এই মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স দর্শনের জন্য। তাই এ নিয়ে ভাবনার বেশি সময় না দিয়ে চালক বাস নিয়ে ছুটে চললেন সোজা শহরের দিকে। মেঘলার চূড়া থেকে সমতলের দিকে তাকালে মনে হবে বিশাল এক অজগর এঁকে-বেঁকে নেমে গেছে শহরের দিকে। আসলে এটি শহরে যাওয়ার রাস্তা। মেঘলা চূড়া থেকে সবুজ বেষ্টনীর মাঝে দু’একটি দালান-কোঠায় ভরা শহরটিকে বেশ ছোটই মনে হয়। শহরের মতো বাসস্ট্যান্ডটিও বেশ ছোট। এখানে বাস থেকে নেমে কাছেই হোটেলের উদ্দেশে ছুটে চললাম আমরা। হোটেলে পৌঁছে ঝটপট নাস্তাসহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে শুরু হলো বান্দরবানে আমাদের এবারের ভ্রমণ।
সকালের শিডিউলে রয়েছে নীলগিরি, চিম্বুক ও পাহড়ি ঝরনা শৈলাপ্রপাত দর্শন। তিনটিই একই পথে। তবে সব শেষে নীলগিরি। ঠিক হলো সবার আগে নীলগিরি, ফিরতি পথে বাকি দু’টি দর্শন। পরিকল্পনামত সাড়ে নয়টার দিকে চান্দের গাড়িতে চড়ে বসলাম। পাহাড়ের কোলঘেঁষে বহু চড়াই-উতরাই, ছড়া-ঝরনা পেছনে ফেলে ছুটে চললাম নীলগিরির অপার সৌন্দর্যের টানে। দু’পাশের সবুজ ছাউনি আর দূর-বহুদূরে পাহাড়ের চূড়ায় খেলা করা মেঘেদের মেলা দেখছিলম বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে। হঠাত্ বাঁয়ে পাহাড়ি নদ সাঙ্গুর মাথার ওপর কোথা থেকে যেন একদলা কালোমেঘ এসে জমাট বেঁধেছে। বুঝতে বাকি রইল না কী হতে চলেছে। মেঘ ফুঁড়ে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। বলা নেই কওয়া নেই, খানিক বাদে সেই বৃষ্টি ধেয়ে এসে পাহাড়ের উপর আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে গেল। এই হলো বর্ষায় বান্দরবানের রূপ। এই রোদ, এই বৃষ্টি। রোদ-বৃষ্টির এরকম বিচিত্র খেলা আর সাঙ্গু নদের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের নীলগিরিতে, যেখানে পাহাড় ছুঁয়েছে আকাশকে। মনে পড়ল কবিগুরুর সেই বিখ্যাত কবিতার কথা—
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপরে
একটি শিশির বিন্দু।
ভূমি থেকে নীলগিরির উচ্চতা ৩ হাজার ফুট। উচ্চতার কারণে বর্ষায় বান্দরবান বেড়ানোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এই নীলগিরি। এর চারপাশে মেঘেরা খেলা করে। যারা প্রকৃতির এই খেলা খুব কাছে থেকে দেখতে চান তারা একটা রাত থেকে যেতে পারেন সেনাবাহিনী পরিচালিত কটেজে। এর পাশে খাবারের জন্য রয়েছে ভালোমানের রেস্টুরেন্ট। এখানে বসে পেট পুরে খেতে খেতে ডানে-বাঁয়ে চোখ বুলালে দূর-বহুদূরে দেখতে পাবেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, পাহাড় চূড়ার বগা লেক, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর।
নীলগিরির সৌন্দর্য লিখে শেষ করার নয়। আমাদের লক্ষ্য এবার বাংলার দার্জিলিং চিম্বুকের দিকে। শহর থেকে এর দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। এর ২৫শ’ ফুট উচ্চতায় না উঠলে বান্দরবান ভ্রমণের মূল আনন্দই অধরা থেকে যাবে আপনার। বর্ষা মৌসুমে এর পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য। মেঘের হালকা হিম ছোঁয়া মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি এনে দেয় মনে। পর্যাপ্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ আরও উন্নত করা গেলে চুম্বকের সৌন্দর্য ভারতের দার্জিলিংয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম হতো না মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তাই একে তারা বাংলার দার্জিলিং বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমরা এর চূড়ায় পৌঁছে ম্রোদের হাতে তৈরি এক কাপ চা খেয়ে নিজেকে চাঙ্গা করে ফের হোটেল অভিমুখে রওনা দিলাম। পথে পাহাড়ি ঝরনা শৈলাপ্রপাতে ১০ মিনিটের যাত্রাবিরতি। স্থানীয় কয়েক বাম উপজাতি তরুণ জানালেন, বর্ষায় শ্যাঁওলাধরা এ পাথুরে ঝরনায় নামা খুবই বিপজ্জনক।
বিকালের পুরো সময়টা আমরা হোটেল ও এর আশপাশে কাটিয়ে দিলেও বন্ধু হালিম তার নববধূকে নিয়ে এক ফাঁকে স্বর্ণমন্দির ঘুরে এলো। আমাদের মধ্যে ওরাই একমাত্র নবদম্পতি। আমরা চেয়েছিলাম ওদের নিজেদের মতো ঘোরার জন্য আলাদা একটা সময় বের করে দিতে। প্রথমে ওরা একটু ইতস্তত করলেও পড়ন্ত বিকালে আসমা ভাবীর ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি দেখে মনে হলো ওরা সময়টা ভালোই কাটিয়েছে।
দ্বিতীয় দিন রাতে আমাদের ফেরার পালা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। নিজেদের এদিন কোনো শক্ত শিডিউলে বেঁধে রাখতে মন চাইল না। সকালের সময়টা যে যার মতো কাটিয়ে বিকালে নীলাচল ও মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স ঘুরে রাতে ঢাকার পথ ধরলাম। পেছনে রয়ে গেল বর্ষাস্নাত দু’টি দিনের সেই বিমুগ্ধ স্মৃতি। যে স্মৃতিতে বর্ষা এলে বারবার হারিয়ে যায় মন। আবার ছুটে যেতে চায় বাংলার দার্জিলিংয়ের টানে।
বান্দরবানের পথে ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে শ্যামলী, সৌদিয়া, ডলফিন পরিবহনের কয়েকটি গাড়ি রাতে ছেড়ে যায়। ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। যারা সেখানে যেতে যান, নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিংবা বেড়ানোর জন্য কোনো ভ্রমণ আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাকেজে নাম লেখাতে পারেন। আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া, সাইট সিং সব ব্যবস্থাই করে এ প্রতিষ্ঠানগুলো। নোঙর ট্যুরিজম এ ধরনের একটি প্যাকেজের আয়োজন করেছে।

Source: Daily Amardesh

Monday, January 31, 2011

পাহাড়ে পুকুর আছে

পাহাড়ে পুকুর আছে জাকারিয়া সবুজপাহাড়ে যতবার গেছি পুকুরপাড়ার গল্প শুনেছিই। শেষে এই ২৩ ডিসেম্বর রাতে রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবান রওনা হলাম। রিপন যোগ দিল চট্টগ্রাম থেকে এসে। পাঁচ দিনের ট্যুর বলে ব্যাকপ্যাকের আকারও হয়েছে দশাসই। জাদিপাড়ার এক মারমা দোকানে নাস্তা সেরে রুমাগামী মিনিবাসে চড়ে বসলাম। বাসটি আমাদের নিয়ে যাবে কৈক্ষ্যংঝিরি ঘাট অবধি। সেখান থেকে নৌকায় যেতে হবে রুমাবাজার।রুমাবাজারে কেনাকাটারুমাবাজারে পেঁৗছে দেখি আড়াইটা বাজে। আমাদের চেনা গাইড শাপুল বড়ুয়াকে পেয়ে খুশি হয়ে গেলাম। বড় ভালো মানুষ শাপুলদা। রুমা থানা এবং আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে আর দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সারতে বিকেল নেমে এল। ইচ্ছা ছিল প্রথম রাত বগামুখপাড়ায় থাকব, কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় রুমাবাজারের লাইরনপী পাহাড়ে নাথান বমের লাইমি হিল সাইড রিসোর্টে থাকলাম। ডরমিটরিতে প্রতি বিছানা ৫০০ টাকা। এখানে রাতের আকাশ তারাভরা, সকালে বিস্তীর্ণ প্রান্তর কুয়াশায় ঢাকা। সাধারণত বিকেল ৪টার পর ওপরের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেয় না নিরাপত্তা বাহিনী। সন্ধ্যাবেলায় তেল, লবণ, মসলা, পেঁয়াজ, ডাল, আলু, শুঁটকিসহ বেশ কিছু শুকনো খাবার কিনে নিলাম বাজার থেকে। চার দিনের প্রয়োজনীয় সব কিছু দিয়ে আরেকটি ব্যাগ পুরিয়ে ফেললাম। শাপলুদা আছে, তাই ভয় পেলাম না।মেন্দুইপাড়ার পথেপরদিন সকালবেলায় হাঁটা শুরু করলাম মেন্দুইপাড়ার পথে। লাইরনপী পার হতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। পাহাড় প্রথম পরীক্ষা নেয় লাইরনপীতেই। এর পর ঝিরি ধরে হেঁটে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর বগামুখে পেঁৗছে ঝটপট রান্নার আয়োজন করে ফেলি। জুমের চাল কিনলাম এক বাড়ি থেকে। এখানে আছে মারমাপাড়া। ঝিরির পানিতে গোসল সেরে নিয়ে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম নিয়েই আবার হাঁটা। পাহাড় শুরু হয়ে গেল। কম করেও দেড় ঘণ্টা শুধু ওপরেই উঠলাম। গোধূলির সোনা রঙে অবশ্য মন রাঙানো ছিল। পাহাড়ের ধূসর, নীলচে ও ছাই রং লাল আভায় মিশে এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছে। দূর পাহাড়ের ওপারে একসময় সূর্যটা টুপ করে ডুব দিল। টর্চের আলোয় বাকি পথটুকু হেঁটে আমরা যখন মেন্দুইপাড়ায় পেঁৗছলাম তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। এ পাড়ায় মুরংদের বাস। আমরা লাংরাম মুরং নামে এক যুবকের বাসায় আশ্রয় নিলাম। পাড়ার পোলাপানদের সঙ্গে মুড়ি, বিস্কুট ও ক্যান্ডি খেয়ে চমৎকার সময় কাটালাম। পাহাড়ে সবচেয়ে সুন্দর এর মানুষগুলো। এদের থেকে অনেক শেখার আছে। এরা নিজের খাবার, পোশাক, আবাস সব নিজেরা তৈরি করে_চাওয়া কম, হিংসা বুঝি নেই। বছরখানেক আগে শাপুলদার ফেলে যাওয়া একটা ছুরি লাংরাম সযত্নে রেখে দিয়েছে ফেরত দেওয়ার জন্য। রাতে ওর কাছ থেকে চাল আর পাহাড়ি কচু পেয়ে খাওয়াটাও জমল বেশ। ঘরের মধ্যেই চুলো, শীতের কাছে হার মেনে সেটা জ্বালিয়ে রেখেই এর আশপাশে সবাই ঘুমে গেলাম।এবার পুকুরপাড়াসকালের খাওয়া সেরে নিয়ে পুকুরপাড়ার দিকে হাঁটা দিলাম। পথ খুবই দুর্গম। কোথাও খাড়া পাহাড় তো কোথাও ঝিরির বুকে বড় বড় পাথর আর জলপ্রপাত। ঝিরির ঠাণ্ডা পানি পার হতে গেলে পা দুটো বুঝি জমে যায়! কোনো জায়গা ঘন গাছপালায় ঢাকা সুড়ঙ্গের মতো। বিশ্রাম নিয়ে এগিয়ে চললাম। বেলা ১২টার দিকে পাড়ায় পেঁৗছলাম। বিশাল পুকুরটা দেখে ঘোর লেগে গেল। পুকুরটির নাম রাইক্ষ্যং লেক। পুকুরের এধার-ওধার দিয়ে পাহাড় উঠে গেছে। জল গাঢ় নীল, আকাশকেও টেক্কা দেয় বুঝি! নেরুহা ত্রিপুরার বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। আমাদের অভ্যর্থনা জানাল বাঁশের ভেতর তৈরি করা পিঠা দিয়ে। দুপুরের খাওয়া চুকিয়ে কাছের আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে আসলাম। পাড়াতেই সব জিনিসপত্র রেখে এর পর গেলাম রাইক্ষ্যংঝিরি দেখতে। এক ঘণ্টার পথ। সে এক আরেক অপরূপ জগৎ। পাথরের ধাপে ধাপে শুভ্র ফেনিল জলধারা বয়ে চলেছে। সবুজ-শান্ত প্রকৃতির মধ্যে পানির গর্জন, নাম না জানা ফুলে ফুলে প্রজাপতির ওড়াউড়ি, ঝিঁঝিঁপোকার ডাক আর শেষ বিকেলের মিষ্টি রোদ আমাদের পেয়ে বসল। জায়গামতো বসলে আর উঠতে ইচ্ছে করে না। গোসল করার লোভটা সামলাতে পারলাম না এই শীতেও। সন্ধ্যাবেলায় পাড়ায় ফিরে মোরগ পুড়িয়ে ফেলল রাকিব। বাতাস বইল হিম হিম। আকাশে চাঁদ আর লাখো তারার মেলা বসল। নেরুহার ছেলেমেয়ে হাঁস্তেরুং, রুঁস্তেরু, হাঁনোরু, ক্লিন্টদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠলাম।কেওক্রাডং-বগালেক হয়ে ফেরাপরদিন সকালবেলায় মেন্দুইপাড়ার উদ্দেশে ফিরতি পথ ধরলাম। পেঁৗছলাম দুপুরে। এ পাড়াতেই রাতটা থেকে যাওয়ার স্থির করলাম। পাহাড়ে একমাত্র মুরংরাই তাদের আদি সংস্কৃতি এখনো ধরে রেখেছে। পরদিন সূর্য ওঠার আগে রওনা দিয়ে সাইকতপাড়া-হারমুনপাড়া-দার্জিলিংপাড়া হয়ে কেওক্রাডংয়ে উঠলাম। এরপর চলে গেলাম বগালেক। ১০ ঘণ্টার এই হাঁটায় শুকনো খাবার আর ঝিরির পানি খুব কাজে দিল। বগালেকে সিয়াম বমের বাসায় উঠলাম। সন্ধ্যাবেলায় লেকের স্বচ্ছ টলটলে পানিতে গোসল সারতেই ক্লান্তি পালাল। পরদিন ফিরে এসেছিলাম রুমাবাজার।যেভাবে যাবেন ও যেখানে থাকবেনঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর থেকে এস আলম, ইউনিকসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বান্দরবান থেকে কৈক্ষ্যংঝিরি বাস ভাড়া ৭০ টাকা। নৌকা ভাড়া ২০ টাকা। গাইডকে দিতে হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। রাতে থাকতে হয় পাড়ার কোনোবাড়িতে। রান্নাবান্নার হাঁড়ি-পাতিল তাদের কাছ থেকে নেওয়া যায়। তবে রাঁধতে হয় নিজেদেরই। ঘরে থাকার কোনো ভাড়া নেই। খুশি হয়ে সবাই কিছু ধরে দেয়।সঙ্গে নেবেন : অবশ্যই মাথাল ও টর্চলাইট নেবেন। ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। শীত হলে হালকা একটা কম্বল নেবেন। আরো নেবেন পাহাড়ি পথে হাঁটার উপযোগী স্যান্ডেল বা কেডস, টয়লেট টিস্যু, মশানিরোধক ক্রিম ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
ছবি : লেখক
Source: Daily Kalerkantho

Tuesday, January 25, 2011

বে ড়া নো : চিম্বুক যাত্রা

বে ড়া নো : চিম্বুক যাত্রা

রফিকুল আমীন খান
মেঘদের ছুটে চলার দৃশ্য আকাশপানে তাকালেই দেখা যায়। কিন্তু মেঘকে ছুঁয়ে দেখা কিংবা ঘন মেঘমালার মাঝে হারিয়ে যাওয়া কি সম্ভব! সম্ভব, চিম্বুক চূড়ায় উঠলে। এ কারণেই চিম্বুক চূড়াকে বলা হয় বাংলার দার্জিলিং। যারা ভারতের দার্জিলিং বেড়াতে গেছেন কিংবা যাওয়ার মনস্থির করছেন তারা চিম্বুক চূড়ায় একবার বেড়িয়েই আসুন না। দার্জিলিংয়ের সঙ্গে চিম্বুকের মিলটা কোথায় নিজেই বুঝতে পারবেন। অমিলটা নিয়ে মাথা নাইবা ঘামালেন। নিজ দেশকে নিয়ে গর্ব করার মতো প্রকৃতি হাজারও সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে চিম্বুক পাহাড়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে।
বান্দরবান শহরের যে স্থান থেকে রামু, থানছি ও মিলনছড়ির দিকে রাস্তা চলে গেছে সেখান থেকে চিম্বুকের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এক-দেড় ঘণ্টার পথ। চিম্বুক পৌঁছার আগ পর্যন্ত পুরো সময়টাই কাটে দারুণ আনন্দে। চলার পথে যখন-তখন গাড়ি থামিয়ে নামতে ইচ্ছে করে। যাদের ক্যামেরার ফ্রেমে স্মৃতিকে ধরে রাখাই বেশি পছন্দ, তারা লেন্স থেকে চোখ ফেরাতেই চান না এ সময়। আবার ক্যামেরার কৃত্রিমতা যাদের পছন্দ নয় তারা চক্ষু লেন্সকেই ক্যামেরার কাজে ব্যবহার করেন আপন মনে। চারপাশের প্রকৃতিকে তারা স্মৃতির ফ্রেমে ধরে রাখেন পরম যত্নে। কেবল মাঝেমধ্যে দু’এক জায়গা খানাখন্দে ভরা। বাকি পথের পুরোটাই নির্মল আনন্দে ভরপুর। কেবলই হারিয়ে যেতে চায় মন। প্রকৃতিপ্রেমীরা মনের অজান্তেই গেয়ে ওঠেন—‘ধন-ধন্যে পুষ্পে ভরা/আমাদের এই বসুন্ধরা/স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা সে যে সকল দেশের সেরা...।’ বান্দরবান শহর থেকে চিম্বুকের পথে চলতে গিয়ে এরকম অসংখ্য গান ওঠে আসে গায়কের কণ্ঠে। দেশ এবং প্রকৃতির এ গানগুলো শুনলে তখন গর্বে মন জুড়িয়ে যায়। তাই ভ্রমণ দলে একজন গানওয়ালা অর্থাত্ শিল্পী রাখলে মন্দ হয় না। গানওয়ালা না পাইলেও সমস্যা নেই। নিজেই গলা ছেড়ে শুরু করে দিন। বেড়াতে গিয়ে এক-আধটু গাইলে মনে ফুরফুরে ভাব চলে আসে। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির মাঝেও চেহারায় আয়েশি ভাব দেখা যায়। তবে এ সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার হলে এ ভাব সামান্যই ফুটে ওঠে। কারণ অকৃত্রিমতার মাঝে কৃত্রিমতায় পুরো আনন্দ মিলে না। বান্দরবানের যে অকৃত্রিম সৌন্দর্য পর্যটক মনে আনন্দ দিতে প্রকৃতির রানী সেজে বসে আছে। সেখানে যে কোনো ধরনের কৃত্রিমতাই সৌন্দর্যহীনতার কারণ হতে পারে। প্রকাশ্যে অথবা অগোচরে সেখানে যেভাবে নির্বনায়নের কাজ চলছে তাতে করে সৌন্দর্যের রানীখ্যাত বান্দরবানকে মুকুটহীন রানীতে পরিণত করার পথকেই ত্বরান্বিত করা হচ্ছে বলা চলে। এখানকার বন, পাহাড়, লেক, নদী সর্বত্র নাম জানা-অজানা হাজারও পশু-পাখির বসবাস। শব্দযন্ত্রের আওয়াজ বনে এগুলোর স্বাভাবিক চলাচলকে অস্বাভাবিক করে তোলে। উপজাতি সম্প্রদায়ের জীবন-যাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। ফলে তারা (উপজাতীয়রা) এক সময় পর্যটকদের ওপর বিরক্ত হয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এমনটা হলে পর্যটকদের ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। সেই সঙ্গে ক্ষতি হবে আমাদের পর্যটন শিল্পের। কারণ বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শন যেমনি উপভোগ্য, ঠিক তেমনই উপভোগ্য বিচিত্র আর বৈচিত্র্যে ভরা এ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমাজ-সংস্কৃতির দর্শন, যার টানে প্রতি বছর হাজারও পর্যটকের আগমন ঘটে বান্দরবানে। চিম্বুক যাওয়ার পথে সে সবের অনেকটাই চোখে পড়ে। চাইলে একেবারে কাছ থেকেও দেখে আসা যায়। আদিবাসীরা পর্যটকদের এ চাওয়াকে অপূর্ণ রাখেন না। এতে তাদেরই লাভ। আদিবাসীদের হাতে তৈরি করা মনকাড়া ডিজাইনের লুঙ্গি, গামছা, ফতুয়া, চাদর পাহাড়ে জুম চাষ করে আবাদ করা কলা, আনারস, কমলা পর্যটকদের কাছে বেশ প্রিয়। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে তারা রাস্তার দু’পাশে এসব পণ্য সাজিয়ে বসে থাকেন। পর্যটকদের অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পছন্দের পণ্যটি কিনেন আনন্দের সঙ্গে।
এভাবে নানা আনন্দ আর উত্সাহের মাঝে কখন যে চিম্বুকের একেবারে কাছাকাছি চলে যাবেন টেরই পাবেন না। টের পাবেন একটু পরই, যখন বুকে কিছুটা চাপ বোধ করবেন। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে অনেকেরই মাথা ঘুরে এসময়। কারও বমি বমি ভাব দেখা যায়। তবে ভয়ের কিছু নেই। সমতল ভূমি থেকে এ স্থানের উচ্চতা দেড় থেকে দুই হাজার ফুট। ভূমি থেকে এতটা উচ্চতায় উঠলে মানুষের ওপর প্রকৃতির কিছু বিরূপ প্রভাবের কথা বিজ্ঞানই বলে দেয়। এ অবস্থায় জোরে নিঃশ্বাস নিলে ভালো লাগে। বুকের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। এবার দৃষ্টিকে প্রসারিত করুন, চোখের সামনে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখতে পাবেন। কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে বাধ্য হবেন, সত্যিই এর রূপের নাইকো শেষ। রূপের মন ভোলানো সৌন্দর্যে চেহারা থেকে কখন যে ভয় আর উত্তেজনার ছাপ মুছে যাবে বুঝতেই পারবেন না। যখন বুঝবেন তখন চিম্বুকের চূড়া থেকে একটু দূরে, মূল সড়কে দাঁড়িয়ে। ডান পাশ দিয়ে আরেকটা সড়ক ওঠে গেছে আকাশপানে। শেষ হয়েছে চিম্বুক চূড়ায় গিয়ে। যাদের শরীরে শক্তি বেশি তারা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা ধরেন চিম্বুক চূড়ার উদ্দেশ্যে। যারা একটু বেশি আয়েশি স্বভাবের তারা সোজা গাড়ি নিয়েই ছুটে চলেন। চিম্বুক চূড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার চারশ’ ফুট ওপরে। এখানেই চিম্বুক ছুঁয়েছে মেঘকে। মেঘেরা চিম্বুক চূড়ায় খেলা করছে। আপনি হতে পারেন সে খেলার মনোযোগী দর্শক। এমন দৃশ্য ভাবতে ভালোই লাগে। আপনার এই ভাবনার রাজ্যকে হার মানাতে চিম্বুক প্রস্তুত। রোমাঞ্চ-ভয়-উত্তেজনা-আনন্দ—সবই আছে এখানে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক ছুটে আসেন প্রকৃতির টানে। বর্ষার সময়েও যে সংখ্যাটা একেবারে নগণ্য নয়। বর্ষার এ বাদলা দিনে গোটা চিম্বুকই ফিরে পায় নতুন লাবণ্য। চার পাশের সবুজ বনানী ফিরে পায় সজীবতা। কোথাও কোথাও দেখা যায় নতুন লতাপাতা। এ সবের বাইরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় যুক্ত হয় নতুন আরও কত কি!
এক পাশে অজোরে বৃষ্টি ঝড়ছে, অন্যপাশে স্বচ্ছ নীলাকাশ। একপাশে মেঘের ঘনঘাটা এত বেশি যে, পাহাড় চূড়া থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সূর্যকীরণ তার (মেঘ) ওপর আছরে পড়ছে। কিন্তু তা ভূপৃষ্ঠকে স্পর্শ করতে পারছে সামান্যই। ফলে এ পাশের সবুজে মোড়া পাহাড় আর বনবনানীগুলোকে মনে হচ্ছে কালো চাদরে ঢাকা। এমন দৃশ্য বর্ষার এ সময়ে চিম্বুক চূড়ায় দাঁড়িয়ে হরহামেশাই দেখা যায়। পূর্ব-দক্ষিণে তাকালে চোখে পড়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পূর্ব-উত্তরে তাকালে পাহাড়ি নদী সাঙ্গুর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। ভারতের মিজোরামে যার উত্পত্তি। চিম্বুক চূড়া থেকে এ নদীকে দু’পাশের পাহাড় আর বনবনানীর মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সামান্য পানি রেখার মতোই মনে হয়। এর আশপাশে দু’একটি ঝর্নারও দেখা মিলে বর্ষার এ সময়। দূরে-কাছে কোথাও লোকালয়ের দেখা না মিললেও মাঝে মাঝেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীই সেগুলোর অস্তিত্ব বলে দেয়। পাহাড়ি আদিবাসীরা লোকালয়ের আশপাশের পাহাড়ে ঝুম চাষের সময় আগুন লাগালে এ ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের চাষাবাদের মাধ্যমে তারা আদা, আলু, আনারস চাষ করেন। যেগুলো বাজারে বিক্রি করে সারা বছরের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করেন। চিম্বুক চূড়া থেকে পাহাড়িদের জীবন-যাত্রার ছিটেফোঁটা চোখে পড়লেও আন্দাজ করা যায় অনেকখানিই। যারা আরও কাছ থেকে দেখে আসতে চান তাদের অনেকেই পাহাড় বেয়ে নেমে পড়েন লোকালয়ে। তবে অচেনা-অজানা এই পথে সঙ্গীহীন না নামাই ভালো। এর পদে পদে আছে ভয় আর শঙ্কা। সে সব ভয় আর আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে চিম্বুক জয়ের প্রশান্তি নিয়ে ভালোয় ভালোয় বান্দরবান শহরে ফিরে আসার মাঝেই আছে ভ্রমণের তৃপ্তি। তবে ফিরে আসার আগে চিম্বুক পার হয়ে আরও সামনে এগিয়ে প্রকৃতির আরেক বিস্ময় নীলগিরি’র অপার সৌন্দর্য দেখে আসতে পারলে মন্দ হয় না। ফিরতি পথে শৈলপ্রপাতের পাহাড়ি ঝর্নায় খানিক যাত্রা বিরতি মনে এনে দিতে পারে ফুরফুর আমেজ। এর ফলে বান্দরবান ভ্রমণের এবারের পর্বে চিম্বুক পথের এ যাত্রায় আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে একটি নয়, যুক্ত হতে পারে এক সঙ্গে তিনটি স্পটের নাম। আর্থিক মন্দার এ যুগে একঢিলে তিন পাখি মারার মাঝেই তো আসল কৃতিত্ব। সুতরাং চিন্তা না করে কোনো এক ছুটির দিনকে সামনে রেখে বেরিয়ে পড়ুন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে।
ঢাকা থেকে এসি-ননএসি অনেক বাসই ছেড়ে যায় বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। থাকার জায়গার কোনো সমস্যা নেই সেখানে। হোটেলের সামনেই চাইলে পাবেন চিম্বুকের পথে ছুটে চলার উপযোগী চাঁদের গাড়ি। পনের থেকে ২০ জনের বসার উপযোগী এগুলোর ভাড়া পড়বে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। যারা এটুকু তথ্যে সন্তুষ্ট নন, তারা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯২২১১২৬৭৬ এ নম্বরে।
Source: Daily Amardesh


ঘুরে আসুন চিম্বুক

পাহাড়ের পর পাহাড়। মাঝখানে জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন পাহাড়গুলোর অবস্থান এই বান্দরবানে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে বিজয় (প্রায় ৫০০০ ফুট), তাজিংডন(৪৫০০ ফুট), কেওক্রাডাং, চিম্বুক (৩২০০ ফুট), ইত্যাদি। পার্বত্য জেলার ১৩টি আদিবাসীর প্রায় সবগুলোর অবস্থান এই বান্দরবানে। আদিবাসীগুলো হচ্ছে চাকমা, মারমা, টিপরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, বোম, উসুই, পাংখো, তঞ্চ্যঙ্গা, খ্যাং, ওচাক। তবে মারমা সমপ্রদায়ের লোকসংখ্যাই বেশি বান্দরবানে।
পুরো বান্দারবান জেলাই প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর।বান্দরবান থেকে পুরো রাস্তা আকাবাঁকা উচুনিচু। চিম্বুকে যাওয়ার পথের পাশে রয়েছে অসংখ্য উপজাতির আবাসস্থল। ঘরগুলো মাচার মতো উঁচু করে তৈরি। চিম্বুকের চূড়া থেকে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের দৃশ্য চোখ জুড়ানোর অবস্থা। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহমান সাংগু নদী যা আপনাকে নিয়ে যাবে অনেক দূরে। স্থানীয় উপজাতীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিম্বুকের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অনেক সময় মেঘও ধরা যায়।
ঢাকা থেকে বাস/ট্রেন/বিমানযোগে চট্রগ্রাম এসে সেখান থেকে বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। বান্দারবান থেকে চিম্বুকে যেতে হবে জিপ গাড়িতে। যাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় চান্দের গাড়ি। চান্দের গাড়িতে গেলে নামতে হবে বুলি বাজারে। ভাড়া করা জিপ নিয়ে সরাসরি চূড়ায় যাওয়া যায়। নিজস্ব জিপ নিয়েও যাওয়া যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৩৬৪ টি ছোট-বড় মোড় অতিক্রম করে ২৬ কিঃমিঃ দূরে চিম্বুকে যেতে হবে।
বান্দারবানে থাকার জন্য রয়েছে নানা রকম আবাসিক হোটেল। এছাড়া সরকারী রেস্টহাউসসহ জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ, বন বিভাগ, এলজিইডি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউসও রয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান জেলা থেকে ৪.২ কিঃমিঃ দূরে চিম্বুক সড়কের মিলনছড়িতে রয়েছে দি গাইড টু্রস লিঃ এর হিল সাইড রিসোর্ট। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি মনোরম কটেজ ঘর ও ডরমিটরি। কটেজগুলোর একক ভাড়া ৭৫০ টাকা দুজন ১০০০ টাকা। পুরো কটেজ ভাড়া নেওয়া যায়। বোম ঘরের ভাড়া একক ৪৫০ টাকা, দুজন ৭০০ টাকা, মারমা ঘরের ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা, দুজনের ৪০০ টাকা, ডরমিটরির ভাড়া প্রতি বেড ১৫০ টাকা । বেশি বেড নিলে ভাড়া কম।
বাংলাদেশনিউজ২৪x৭.কম

চিম্বুক

‘‘বাংলার দার্জিলিং’’ খ্যাত চিম্বুকের নাম দেশের গন্ডী পেরিয়ে আজ বিদেশেও পরিচিত। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট যেখানে গাড়িতে চড়ে সরাসরি পাহাড় চূড়োয় পৌছানো যায়। জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুকের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ট হতে এর উচ্চতা ২৩০০ ফুট। চিম্বুকের পাশে আদিবাসী মুরংদের বসবাস বেশি। জেলার সব ক’টি উপজেলার সাথে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এখানে টিএন্ডটি বোর্ড একটি বেইজ স্টেশন ও একটি টাওয়ার স্থাপন করেছে। পর্যটকদের দৃষ্টিতে এ টাওয়ারটি খুবই আকর্ষণীয়। এ স্থান থেকে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। এখানে প্রায়ই নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রের স্যুটিং হয়। এখানে সড়ক বিভাগের একটি রেস্ট হাউস রয়েছে ইহা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউজ এখানে নির্মিত হয়েছে। চাঁদের গাড়ীতে চিম্বুক যেতে ১৫০০-২০০০ টাকা এবং জীপ গাড়ীতে ২০০০-২৫০০ টাকা লাগবে।

Source: www.dcbandarban.gov.bd

Wednesday, January 19, 2011

আজ বান্দরবানে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী রাজপুণ্যাহ

আজ বান্দরবানে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী রাজপুণ্যাহ

০০ মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান সংবাদদাতা, জানুয়ারি ২০, ২০১১,

আজ ২০ জানুয়ারি থেকে ৭দিনব্যাপী বান্দরবান বোমাং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসব শুরু হচ্ছে। বৃটিশ শাসনামল থেকেই প্রজাদের কাছ থেকে বছরে একবার খাজনা আদায় এবং প্রজাদের সঙ্গে রাজার সম্মিলনের আন্তরিক ইচ্ছে নিয়েই বোমাং রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়াসে রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। রাজকর প্রদান, রাজদর্শন লাভের বর্ণাঢ্য অনন্য মহাআনন্দ উৎসব বোমাং রাজপুণ্যাহ। বোমাং সার্কেলে বসবাসরত ১১ ভাষাভাষী আদিবাসীসহ বাঙালীদের কাছেও কিংবদন্তীর এই রাজপুণ্যাহ সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
রাজপুণ্যাহকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে যে সাড়া পড়ে তা এক কথায় অবর্ণনীয়। এই সাড়া প্রাণ উৎসারিত। এর আবেদন কোন বিনোদনের ইঙ্গিতবহ নয়। এটি শাশ্বত সুন্দর এবং চিরন্তন সংস্কৃতির অঙ্গ। এটুকু গর্ব করার আছে যে, আমাদের গর্বের সম্পদ উপজাতীয় সংস্কৃতি রয়ে গেছে নির্ভেজাল এবং নির্মল। রাজপুণ্যাহকে কেন্দ্র করে তা উৎসারিত হয়। নিবেদিত হয়। এটি এক অপার পাওয়া। রাজপুণ্যাহ পার্বত্য মানুষের প্রাণের অনুষ্ঠান। এটি বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়সহ সকল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের পরিচায়ক। এবারের রাজপুণ্যাহ ১৩৫ তম। বোমাং সার্কেলের ৯৬ বছর বয়স্ক ১৫তম রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী রাজপুণ্যাহ উৎসবের মধ্যমণি। ১৩৪ বছরের পুরনো রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বান্দরবান শহর হয়ে উঠে লোকে লোকারণ্য ও উৎসবের নগরী হিসেবে।
রাজা আছেন, রানী আছে। আছে রাজ সিংহাসন। তবে নেই রাজ্য, নেই রাজদণ্ড। তবুও তিনি রাজা। রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী। বয়স ৯৬। নাই থাকল রাজ্যপট, নাই থাকল রাজদণ্ড। আগের সেই ক্ষমতা নেই, জৌলুসও নেই। বান্দরবানের আদিবাসীদের কাছে তিনিই রাজা। তারা পরম শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় মান্য করেন তাকে। প্রতিবছর বোমাং রাজপুণ্যাহে তারা রাজার হাতে তুলে দেন রাজস্ব আর উপঢৌকন। খাজনা আদায় এবং প্রজাদের সঙ্গে মিলনের আন্তরিক ইচ্ছে নিয়েই রাজারা বংশ পরম্পরায় সুদীর্ঘকাল ধরে রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। ১৮৯৭ সালে নবম বোমাং রাজা সাকনাইঞোর আমল থেকে রাজপুণ্যাহ চলে আসছে। রাজসিক হাঁক-ডাক এখন আর না থাকলেও রয়েছে ঐতিহ্য আর নিজস্ব সংস্কৃতি। বোমাং রাজা অংশৈপ্রু চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বয়সে বৃদ্ধ হলেও আমি মানসিকভাবে এখনো তরুণ। ১৭২৭ সালে আমাদের পূর্বপুরুষ রাজা কংহ্লাপ্রু প্রথম বান্দরবানে আসেন। বোমাং রাজার সার্কেল হচ্ছে দুই হাজার বর্গমাইল। রাজার মাধ্যমে ১০৯ জন হেডম্যান ও হাজারখানেক পাড়া কারবারী রয়েছেন। রাজার ৫ ছেলে, ২ মেয়ে আর নাতী-নাতনী আছে ২৪ জন। রাজা বলেন, বাংলাদেশের অপরাপর জেলার তুলনায় বান্দরবান সর্বাধিক শান্তিপূর্ণ এলাকা। এখানে সকল সম্প্রদায়ের জনগণ ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহাবস্থান করছেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের জনগণের ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পার্বত্য জেলা বান্দরবান শহর। রাজপুণ্যাহ উৎসবে বোমাং সার্কেলের ১১ ভাষাভাষী আদিবাসী সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। সার্কাস, যাত্রা, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উপজাতীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে এ মহামিলন মেলায় । মারমা ভাষায় রাজপুণ্যাহকে বলে'পইংজ্রা'।
রাজবাড়ি মাঠে এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে। বৃটিশ শাসনামল থেকেই বছরে একবার প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় এবং প্রজাদের সঙ্গে রাজার সম্মিলনের আন্তরিক ইচ্ছে নিয়েই সুদীর্ঘকালের রাজপুণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন।
Source: Daily Ittefaq

Wednesday, January 5, 2011

বান্দরবানে শৈল্পিক ছোঁয়ায় সাজানো গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্ট

বান্দরবানে শৈল্পিক ছোঁয়ায় সাজানো গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্ট

০০০ মিলন চক্রবতর্ী, বান্দরবান থেকে

বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত হলো শৈল্পিক ছোঁয়া। জেলা শহরের টাউনহল সংলগ্ন পুলিশ কোয়ার্টারের একখন্ড জমিতে পুলিশ প্রশাসনের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্ট। পর্যটন কেন্দ্রটিতে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সমস্ত আয়োজনে রয়েছে শৈল্পিক ছোঁয়া। পর্যটকদের রাত্রি যাপনের জন্য এখানে নির্মাণ করা হয়েছে পাহাড়ী বাঁশের তৈরি আকর্ষণীয় কটেজ। রয়েছে দৌতলা টাওয়ার, রেষ্টুরেন্ট, আকর্ষণীয় সুইমিংপুল, অতিথি মঞ্চ এবং অসংখ্য টাবুর ব্যবস্থাও। যেখানে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে স্বল্প খরচে রাত্রি যাপন করতে পারেন।

গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্টে একইসাথে ২৫ থেকে ৩০ জনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মূলত গ্রুপ টুরিষ্টদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে এই রিসোর্ট। তবে ভবিষ্যতে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি রেষ্টুরেন্ট এবং আরো কিছু কটেজ তৈরির কথা জানিয়েছেন রিসোর্টের উদ্যোক্তাতা পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। তিনি জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিকল্পনা, ডিজাইন এবং পুলিশ প্রশাসনের অর্থায়নে গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং পাহাড়ের সৌন্দর্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার ইচ্ছাশক্তি থেকেই এই রিসোর্ট করা। এদিকে মঙ্গলবার বান্দরবান মুক্ত দিবসের দিন কোন রকম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই গিরিছায়া গার্ডেন রিসোর্টটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

কমপ্লেঙ্রে আঙ্গিনাজুড়ে অসংখ্য নারকেল গাছ, মাথার উপর দিগন্ত বিস্তৃত নীলাকাশ, সবুজ ঘাসের জমিন, একপাশে মার্বেল পাথরে নির্মিত ফোয়ারা, সুউচ্চ দ্বিতল টাওয়ার এবং নয়নাভিরাম অন্যান্য অনুষঙ্গ গিরিছায়া রিসোর্টকে পরিণত করেছে একটি আধুনিক স্যুটিং স্পটে।
নতুন এই রিসোর্টের উদ্যোক্তা ও বান্দরবানের পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, 'মাত্র ১০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সার্বিক সহায়তায় এই রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়েছে।'
তিনি জানান, পুলিশ স্থাপনার ভেতরে এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হবার কারণে এখানে নাটক, সিনেমাসহ বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের জন্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। রিসোর্ট বুকিং দিতে হলে বান্দরবান পুলিশ সুপার অফিসের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
Source: Daily Ittefaq & Kalerkantho

Saturday, January 1, 2011

Ruma to Baklai Waterfall


BAKLAI: Tallest waterfall in Bangladesh

Ruma to Baklai Waterfall

Contributor: Rahat Khan


Geographical Information:

Trail Name: Ruma to Baklai Waterfall


Data measured by/ or source:

GPS Trace: Garmin GPSMAP60Cx
Location and route information is by D-Way Expeditors


General Information

Additional information:
Baklai Waterfalls could be the highest Waterfall of Bangladesh.
The trail started from Ruma Bazar. It goes through Bogamuck Para, Bogalake Para Para, Darjiling Para, Passing Para. Thaikong Para and Jadupai Para can be a stoppage , but those will need small treks from the main trek. And the end Baklai Para (at this route it would be after Baklai Falls) can be a good source of resources and shelter. After Lairampi (from almost the beganing) to Patang Jhiri you have to follow stream in this trail . other part of this trail is through the ridges of the hills.

How to go:
To go there you have to reach at Bandarban first
How to go to Bandarban: There are direct bus services from Dhaka. S. Alam, Unique, Shamoly and Dolphin are the non ac bus services which leave Dhaka for Bandarban at late night. There is also an AC service of Saudia. The fare for non ac bus is 350 taka.
Any one can even move from Chittagong. There are some services from Baddarhat Bus station. First bus leaves Chittagong at early morning. The best services named ‘Purbani’ and “Purobi”.
How to Go Ruma-
From Bandarban you will get Regular Bus service / Chander Gari Service for Ruma. It will Cost you 75 Taka per person. It will take three to four hours (or more, depending on road, weather, and service quality). You will get that from Ruma Chander Gari Stand (less than 1 KM from Bandarban Bus Stand). Any Rickshaw Puller or other services will take you there. Or you just can a have a walk of 10 minutes from bus stand to be there.
Or you can just hire a transport for you from near bus stand. It will cost around 2500 taka (more or less). The rate might rise in the national holiday period.
From Ruma you have to start to trek.
Note: this is only a trail to be there. There is other option to be there

Where to stay:
At Bandarban you can get descend hotels for (+/-) 200 to 250 taka per person.
At Thanchi you have to get place at Thaana Rest House for 70 taka per person.
On other place you have to manage your place at the tribal villages. Pay around 50- 60 taka per person.
At Baklai try to stay at any “Joom Ghar” opposite to Waterfall to get better view and excitement. As it takes lot of time to trek to the top to bottom of the Waterfall, stay at “Joom Ghar” will help you to manage time.

What to eat (food):
Up to Thanchi you will get some restaurant. At the trail you have to manage food from locality. We always suggest taking some dry and light food for trail.

Tips/advise for traveler:
• Visit in rainy season if you like adventure, winter is most easy season for trek.
• You may take medicine for malaria as this rezone is treated as malaria affected zone.
• Wear comfortable foot wear. It is very important issue for trekking. Make sure it can give you a better grip. You can wear local plastic sandal if you don’t have any thing. But must wear it with socks, better with couple of socks. Otherwise if you are not sure what you should wear then buy a jungle boot, which you can buy from supply stores of army or police accessories. You can get these stores at Kachukhet bazaar or Polwel super market
• Take a tribal guide rather than a Bengali guide. They are more efficient
• Pack all of your good in extra water proof bag or bags.
• Fix how much the guide will cost you. The standard rate is 300 taka per day.
• Don’t take too much load, use back pack instead of other sorts of bag. Couple of pairs of dress will be enough. You don’t need any tent because you will get accommodation easily.
• It is a really easy trek so do not afraid
• don’t rush, that may occur any accident or trouble.
• Keep head cool in danger. That is the best act. Try to enjoy even in tough situation.
• Be a team.
• The accommodation will cost you around 50 to 60 taka per person per night.
• Take rope if you are there in rainy season.
• Trekking with friends is better than trekking with unknown person.
• Your physical stress can create mental stress. So any one can behave roughly, take it easy.
• There might be some lice, don’t be afraid they are not life threatening.
• Support your weaker partner, don’t leave him. That support may make the trip enjoyable.
• Respect tribal culture.
• Please keep the hills clean.
What to take:
• Sleeping Bag (You may get bedding there, but it’s better to have your own, especially at winter)
• Extra one pack of dress to sleep at night
• Electric Torch with extra battery.
• Camera.
• Dry food, light but enough to eat in the way.
• Water container, to drink water on the way.
• Can take water purifier, though most of the time water is clean.
• Extra socks, as much as possible

Source: http://www.banglatrek.org

Friday, December 31, 2010

জলপ্রপাতের নাম নাফাখুম

জলপ্রপাতের নাম নাফাখুম

পল্লব মোহাইমেন | তারিখ: ২১-০৯-২০১০


গত ৬ আগস্ট, বিকেল। বান্দরবান শহরে আদিবাসী সাংস্কৃতিক একাডেমিতে দেখা হলো প্রথম আলোর বান্দারবান প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমার সঙ্গে। কিছুক্ষণ আগেই আমরা ফিরেছি এক অভিযান শেষ করে। বুদ্ধজ্যোতি বললেন, ‘যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে দেখা হলে আপনাদের যেতে দিতাম না। বর্ষার এ সময়টা ওইখানে মাঝেমধ্যেই তিন-চারজন “খরচা” হয়ে যায়।’ তাঁর সঙ্গে আসা প্রথম আলো বন্ধুসভার কয়েকজন বন্ধুও সায় দিলেন।
অভিযান শেষ, তার পরও ‘খরচা’ শব্দটার অর্থ বুঝে আমাদের বিশেষ করে আমার মধ্যে ভয় শুরু হলো। তবে নিজেকে অভয় দিলাম এই বলে যে ভালোয় ভালোয় ফিরে এসেছি লাইফটাইম একটা এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে।
দারুণ এই অভিজ্ঞতা যে গন্তব্যে, সেটি নাফাখুম জলপ্রপাত। রেমাক্রি জলপ্রপাত নামেও এটা অনেকের কাছে পরিচিত। জলপ্রপাতটা দেখে সবারই মনে হয়েছে, বাংলাদেশেও এমন জায়গা আছে!
নাফাখুম কিছুটা দুর্গম। বিশেষ করে, বৃষ্টিবাদলার দিনগুলোয়। তাই তো একেবারে জলপ্রপাত ঘুরে আসা সমতল ভূমির মানুষের সংখ্যাও কম। আমাদের ছোটখাটো দলের সবারই ইচ্ছে ছিল, বান্দরবানে কোনো ঝরনা বা জলপ্রপাত দেখে আসা। যেখানে যেতে আবার ট্রেকিংও যেন করতে হয়। দলটি এক অর্থে বেশ বিস্ময়কর, আবার আরেকভাবে চিন্তা করলে, দলটিতে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। দলে একদিকে আছেন বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম, যিনি আমাদের গন্তব্য নাফাখুম জলপ্রপাত ঠিক করেছেন। অপরদিকে আমার মতো ৮৬ কেজি ওজনের মানুষ। মাঝখানে প্রথম আলোর সিমু নাসের, জাবেদ সুলতান পিয়াস আর সিমু নাসেরের স্ত্রী চারুকলার ছাত্রী সিফাত আজিম। একদিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠা মুসা, অন্যদিকে পাহাড়ে অনভিজ্ঞ বা কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞ লোকজন—এমন ভারসাম্য কি আর সহজে মেলে?

থানচি হয়ে তিন্দু

গত ৪ আগস্ট সকালেই বাসে বান্দরবান শহর। বাস থেকে আমাদের নামিয়ে নিলেন গাইড মংখাই। ৯-১০ বছর আগে যখন মুসার পর্বতারোহণ শুরু বান্দরবানের পাহাড়-পর্বত দিয়ে, তখন থেকেই মুসার বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গী তিনি। গত মাসের নাফাখুম অভিযানে মংখাই আমাদের সঙ্গী। মংখাইয়ের সঙ্গে কথা বলে মুসা আগেই রুট ঠিক করেছেন। তাঁর পরামর্শে আর প্রবল উৎসাহে আমাদের প্রস্তুতিও ব্যাপক। মশা যাতে না কামড়ায় সে জন্য মলম অডোমাস, বর্ষাতি, ছাতা, পর্যাপ্ত টয়লেট টিস্যু, হাফ বা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, পিচ্ছিল পথে হাঁটার উপযোগী স্যান্ডেল, টুকটাক ওষুধ, বারান্দাওয়ালা টুপি, টি-শার্ট, তিনদিকে সেলাই করা বিছানার চাদর (ঘুমানোর জন্য), টর্চলাইট, হেডল্যাম্প, এমনকি ক্যামেরার জন্য বর্ষাতি—লটবহর কম নয়। সব নিয়ে চড়া হয় ভাড়া করা নিশান পেট্রলগাড়িতে। চালক আনন্দ নিয়ে যাবেন থানচি পর্যন্ত। বান্দরবান থেকে ৭৯ কিলোমিটার। শুরু হলো গাড়ির চড়াই-উতরাই পেরোনো। পাহাড়ি পথের ধারে মিশ্র ফল বাগান, আদিবাসীদের চলাচল সবই মুগ্ধ করে। একে একে আমরা পার হই মিলনছড়া, নীলগিরি, চিম্বুক, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাস্তা ‘পিক ৬৯’, বাঘাইছড়া। মাঝেমধ্যে আমরা থামি, ছবিটবি তুলি; আবার চলতে থাকি আনন্দের জিম্মায়। পাহাড়ের একটা জায়গায় অনেক দূরে বঙ্গোপসাগরও দেখা যায়। ক্যামেরার টেলিলেন্সে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওটা সমুদ্রই। ঘণ্টাতিনেক পরে গাড়ি পৌঁছায় থানচির এপারে শঙ্খ নদীর পাড়ে। পাহাড়িদের কাছে এ নদীর নাম সাঙ্গু। এই সাঙ্গু বেয়েই আমাদের উঠতে হবে রেমাক্রি বাজার অবধি। উঠতে হবে এ কারণে, শঙ্খ নদী নেমেছে পাহাড় বেয়ে। আমাদের গন্তব্য যেহেতু ঊর্ধ্বমুখী, তাই নদী বেয়ে ওঠা ছাড়া উপায় কী!
ইঞ্জিনচালিত চিকনচাকন একটা নৌকা ভাড়া করে ফেললেন মংখাই। শঙ্খ নদীর ওপারে থানচি বাজারে যেতে হবে আগে। দুপুরের খাবার ছাড়াও বিডিআর ক্যাম্প থেকে অনুমতি নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা আছে। বাজারে আদিবাসী একটা পান্থশালায় মুরগি আর সবজি দিয়ে খাওয়া হলো। পাহাড়ি রান্নায় অনভ্যস্ত হওয়ায় মুরগিটা জমল না, জমল সবজি। মুসা ইব্রাহীম এভারেস্ট বিজয়ী, তিনি এখন তারকা। বিডিআরের কয়েকজন সদস্য তাঁর সঙ্গে এভারেস্ট নিয়ে কথাবার্তা শুরু করলেন। আমাদের বলা হলো, এ সময়টা দুর্ঘটনা ঘটে। তবে গত কয়েক দিন জোরালো বৃষ্টি হয়নি। তাই পাহাড়ি ঢল নামেনি। ঢল নামলে এ পথে যাওয়ার জন্য বিডিআরের অনুমতি মেলে না। জানা গেল ঘণ্টাখানেক আগে বিডিআরের অতিথি হয়ে আসা একটি দলও রওনা হয়ে গেছে। তবে অনুমতির আগে সবার ঢাকার ঠিকানা ও আত্মীয়ের ফোন নম্বর লিখে দিতে হলো। নৌকায় ওঠার আগে দূর পাহাড়ে দেখা গেল বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই বারিধারা থানচিতেও। থেমে গেল অল্পক্ষণেই। নৌকায় শুরু হলো আমাদের যাত্রা।
সাঙ্গু খরস্রোতা, পাথুরে। নৌকা কিছুক্ষণ চলতেই দুই পাশে অপূর্ব সৌন্দর্যের সব পাহাড়। নদীতে এসে পড়ছে ছোট ছোট ঝরনাধারা। জুম চাষের পাহাড়গুলো যেন হালকা সবুজের মোলায়েম মখমল। এখানে সেখানে আদিবাসী বাড়ি। নদীর বাঁকগুলোয় ছোট-বড় পাথরের স্তূপ আর প্রবল স্রোত। দুবার নামতেও হলো নৌকা থেকে। মাঝি আর তাঁর সঙ্গীরা ইঞ্জিন চালিয়ে, লগি ঠেলে ওসব বাঁকে নৌকা পার করলেন। এ নৌকায় সঙ্গী হয়েছে আদিবাসী পিতা-পুত্র। ছেলেটি শিশু, বয়স হবে আট-নয়। জানা গেল তার পেটে অস্ত্রোপচার হয়েছে, ব্যান্ডেজও রয়েছে। কিন্তু ভয়াল বাঁকগুলোতেও শিশুটি নৌকার পাটাতনে আধশোয়া, নির্বিকার তার ভঙ্গি। বোঝাই গেল প্রকৃতির সঙ্গে এভাবে জুুঝতে জুঝতেই বড় হবে শিশুটি। যেমন হয়েছেন তার পূর্বপুরুষেরা।
সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে নৌকা পৌঁছাল তিন্দু বাজারের ঘাটে। নেমেই উঁচু পাহাড়ে সোনালি আকাশ চোখে পড়ল। নদীর ঘাট থেকে সিঁড়ি বেয়ে বেশ উঁচুতে তিন্দুবাজার। কাঠের একটা ছোট দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করা হলো। মশার কামড় থেকে বাঁচতে শরীরের খোলা অংশে মাখা হলো অডোমাস।
তিন্দু থানচি উপজেলার একটা ইউনিয়ন। চেয়ারম্যান শাইয়ানের সঙ্গে কথা হয় তাঁর দোকানে। সৌরবিদ্যুৎ আছে বাজারে। তারই টিমটিমে আলো থাকে রাতে। মোবাইল ফোনের মধ্যে শুধু টেলিটকের নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোনো টিভি চ্যানেল, বেতার বা সংবাদপত্র এখানে নেই। ফলে খবর জানা যায় শুধু মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে। তবে বাজারে সাবান, শ্যাম্পু, প্যাকেটের গুঁড়া মসলা ইত্যাদি ভোগ্যপণ্যই পাওয়া যায়।
রাতের খাওয়াটা হলো বেশ। মুরগির ঝোল, ভাত আর বাঁশের ঝোল। কেউ তো এমনিতে কোনো দিন বাঁশ খেতে চায় না, কিন্তু খাওয়ার সময় দেখা গেল দলের সবাই শুধু বাঁশই খেতে চাইছে। রাত নয়টার মধ্যে পুরো বাজার নীরব। বন্ধ হয়ে গেছে চেয়ারম্যানের টেলিভিশনটাও। এটাতে কোনো চ্যানেল নয়, ডিভিডি চালিয়ে দেখা হয়। উঁচু পাহাড় থেকে আকাশটা মনে হলো কাছেই। দলের সবাই বাজারে মাঝখানে ফেলে রাখা বাঁশের ওপর শুয়ে-বসে দেখতে থাকি অজস্র তারাভরা আকাশ। রাত বাড়তে থাকে, আকাশের তারা আরও উজ্জ্বল হতে থাকে। পাল্লা দিয়ে বাড়ে আমাদের মুগ্ধতা।

রেমাক্রির পথে

ভোর ছয়টাতেই ঘুম ভেঙে যায় সবার। দ্রুত প্রস্তুত হয়ে আবারও নৌযাত্রা। এবারের নৌপথ নাকি আরও কঠিন। কিছুক্ষণ পর তা বোঝাও গেল। জায়গাটার নাম কেয়াপেজা। বড় বড় পাথর। বড় তিন-চারটা পাথর আছে নদীর মাঝখানে, সেসব পাথরে তাঁবু খাটিয়ে থাকাও যায়। থেকেছেনও বৈমানিক এনাম তালুকদার আর অভিযাত্রী, আলোকচিত্রী রোনাল্ড হালদার। ফেসবুকে সেই তাঁবুবাসের ছবিও আছে। বিডিআরের লোকজন এই পাথরের কথা বলেই সাবধান করে দিয়েছিলেন। কেয়াপেজা পার হওয়ার খানিকটা পর নদী আরও বিরূপ। আমরা নেমে গেলাম নৌকা থেকে। শুরু হলো মানুষ, যন্ত্র বনাম প্রকৃতির লড়াই। অবশেষে পার হলো নৌকা, জয় মানুষেরই।
দুই পাশে প্রকৃতি অসীম আর উদার। জুমের সবুজ মখমলে মাঝেমধ্যে কালো কালো দাগ চোখে পড়ে। মনে হয় যেন ঘা। আসলে তা-ই। পাহাড়ের গায়ে থাকা বড় বড় গাছ কাটার চিহ্ন ওইগুলো। মনটা খারাপ হয়ে যায়। যেমন খারাপ লেগেছিল বান্দরবান থেকে থানচি বাজার আসার পথে দূর পাহাড়ের মাঝে ইটভাটার চিমনি দেখে।
আড়াই ঘণ্টার নৌকাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পৌঁছে যাই রেমাক্রি বাজারে। এটাও থানচির একটা ইউনিয়ন। থাকার জায়গা বের করি। ঠিক হয় বাজারে থাকব। এ বাজারেও সৌরবিদ্যুৎ, তবে মোবাইল ফোন নেই। থাকার জন্য এবার একতলা ঘর। মেঝেটা কাঠের। আমাদের লটবহর রেখে সাড়ে ১০টায় শুরু হয় মূল অভিযান—নাফাখুম জলপ্রপাত। আমাদের দলে যুক্ত হয় আদিবাসী এক কিশোর, যে নাফাখুমের পথটা চেনে।

ঝিরি বেয়ে নাফাখুমের পথে

গাড়ি ও নৌকার পালা শেষ রেমাক্রি বাজারেই। এবার ট্রেকিং মানে হাঁটাপথ। রেমাক্রি বাজারে সাঙ্গু বাঁক নিয়েছে। এই বাঁকে এসে পড়েছে রেমাক্রি খাল। খালের শুরুটা নাফাখুম জলপ্রপাতে। মাঝেমধ্যে অনেক ঝরনার পানি যোগ হয়েছে খালে। এই খাল মানে ঝিরি ধরেই হাঁটা আমাদের। শুরুতেই তিনটা পাহাড় ডিঙাতে হবে। অন্যদের তেমন কিছু না, একটা পাহাড় ডিঙাতেই আমার অবস্থা খারাপ। বসেই পড়ি এক জায়গায়। এগিয়ে আসেন মুসা। নানা কথা বলেন, উজ্জীবিত করেন। দলের সঙ্গে তাল মেলাতে শুরু করি। তিন পাহাড় পেরোতে ৪৫ মিনিট। এবার ঝিরি ধরে এগোনো। পাথুরে খালের দুই পাড় হাঁটার জন্য বন্ধুর। তবে শীতল, প্রায় স্বচ্ছ পানি আর নির্ভেজাল প্রকৃতির কারণে শরীর ও মন সতেজ হয়ে ওঠে। ঝিরির দুই পাড় বেশির ভাগ পাথুরে ও সরু। কোথাও কোথাও পিচ্ছিল। মাঝেমধ্যে আবার হাঁটু বা কোমরসমান স্রোত ঠেলে এপার-ওপার করতে হয়। ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর আদিবাসীদের শেষ পাড়াটাও আমরা পেরিয়ে এলাম। মাঝেমধ্যে জুম চাষের পাহাড়ে বা ঝিরির পানিতে স্নানরত এক-দুজন আদিবাসী ছাড়া কোনো মানুষও চোখে পড়ে না। রেমাক্রি খালে এসে মিশেছে ছোট-বড় অনেক ঝরনা। শীতল সেই ঝরনাগুলোর পানি শীতল এবং সুপেয়। ঝরনা আর ঝিরির পানিতে ভিজে শরীর সতেজ হচ্ছে, আবার আমরা হাঁটছি। এভাবে একটা জায়গায় পৌঁছালাম আমরা। যেখানে খাল আর হেঁটে পার হওয়া যাবে না। আমি আর সিফাত সাঁতার জানি না। কী হবে?
ঝিরির পাশে এক জুমচাষি কাজ করছিলেন। তাঁর হাতের দা নিয়ে আমাদের কিশোর গাইড তিনটা কলাগাছ কেটে আনল। কলাগাছের আঁশ দিয়েই বাঁধা হলো সেগুলো। সামনে বাঁশের একটা কঞ্চি গাঁথা হলো। আমি সেটা ধরে থাকব, মুসা ও দুই গাইড সাঁতরে ঠেলে খাল পার করবেন। প্রথমে আমি, পরে সিফাত—পার হলাম এভাবে। এরপর পথ আরও জটিল। কাঁদা, পাথরের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঝোপঝাড়। আরও প্রায় আধাঘণ্টা হাঁটার পর শোনা গেলে পানির শব্দ। দেখা মিলল শুভ্র জলরাশির—নাফাখুম জলপ্রপাত।
প্রায় ১৫-২০ ফুট ওপর থেকে পানি পড়ছে নিচের রেমাক্রি খালে। তীব্র স্রোত তৈরি করে চলে যাচ্ছে সাঙ্গু নদীর দিকে। জলপ্রপাতের প্রস্থ ৪০ ফুটের কম না। দুদিকে বড় পাথরের দেয়াল। এমন জলপ্রপাত বাংলাদেশে, বিশ্বাসই যেন হতে চায় না। জলপ্রপাতের নিচে পাথুরে গুহাও আছে। সেই গুহা চলে গেছে পাহাড়ের অনেকটা ভেতরে। জলপ্রপাতের শুভ্র জলরাশির মধ্যে হঠাৎ নীল একটা আকৃতি চোখে পড়ল। দেখা গেল একজন আদিবাসী মারমা বাঁশের আগায় জাল বেঁধে মাছ ধরছেন। ওপর থেকে পানি পড়ার সময় সব মাছ লাফ দেয়। লাফ দিয়ে জালে এসে ধরা দেয় এসব মাছ।
বিষয়টা সরেজমিন বোঝার জন্য মুসা আর সিমু নাসের পাথুরে পাড় থেকে জলপ্রপাতের জলধারায় ডাইভ দেন। স্রোত তাঁদের আট থেকে ১০ ফুট ঠেলে নিয়ে যায়। একটা পাথর আঁকড়ে ধরে তাঁরা উঠে যান ওপারে। তারপর পাথুরে পাহাড় ধরে ধরে জলপ্রপাতের ভেতরে গুহার মুখে যান তাঁরা। এই গুহা নিয়ে নানান কিংবদন্তি আছে। গুহায় নাকি বিরাট কিছু মাছ আছে, সেগুলো ধরতে যারা গুহায় ঢোকে, তারা আর ফিরে আসে না।
দেড় ঘণ্টার মতো আমরা নাফাখুম দেখলাম, মুগ্ধ হলাম। আবার হাঁটতে হবে আট কিলোমিটার বন্ধুর পথ। দিনের আলো থাকতেই পৌঁছাতে হবে রেমাক্রি বাজারে। আদিবাসী মৎস্য শিকারির কাছ থেকে বেশ কিছু নলাজাতীয় মাছ কিনে শুরু হলো ফিরতি যাত্রা। রাতে খাওয়া হয় এই মাছ ভাজা আর পরদিন সকালে এই মাছের কাবাব।
ফেরার সময় বিরতিহীন হাঁটা। ঝিরঝির বৃষ্টি থাকলেও কোথাও থামা হয়নি। সন্ধ্যা নেমে এল আর আমরা ঝিরি থেকে উঠে গেলাম পাহাড়িপাড়ায়। নাফাখুমে শীতকালেও পানি থাকে, তবে পরিমাণে কম। শীতকালে যাওয়া-আসার পথের ঝুঁকিটাও অনেক কম।
গত ৬ আগস্ট সকালে আবার নৌকাযাত্রা। ফিরতি পথ মানে নেমে যাওয়া থানচির পথে। যে পথে যেতে সময় লেগেছিল ছয় ঘণ্টা, ফিরতে লাগল দেড় ঘণ্টা। সাঙ্গুর বাঁকগুলোয় ওঠার চেয়ে যে নামা আরও বিপজ্জনক, তা বোঝাও গেল। বিশেষ করে কেয়াপেজা জায়গাটা। নানা রকম পাথর এড়িয়ে যে নিপুণ দক্ষতার সঙ্গে মাঝিরা নৌকা চালালেন, তা দেখার মতো।
দুই পাশের অপার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা ফিরে এলাম থানচি। জেনে এলাম নাফাখুমের যে পানি, তার উৎস আরও দুই দিনের পথ। সেখানেও আছে জলপ্রপাত। এর চেয়েও বেশি উঁচু প্রায় ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে বিপুল জলরাশি। তাজিনডং পেরিয়ে যেতে হয় সেখানে। বান্দরবানে রোমাঞ্চকর এ রকম দারুণ সুন্দর জায়গাগুলো নিয়ে আমরা তো গর্ব করতেই পারি, বেরিয়ে যেতে পারি অভিযানে।

যেভাবে যাবেন

বাসে ঢাকা থেকে বান্দরবান, ভাড়া ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। চান্দের গাড়ি বা ভাড়া করা ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়িতে থানচি। চান্দের গাড়ির ভাড়া জনপ্রতি ২০০ আর গাড়ি ভাড়া করলে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা। থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকায় যাওয়া-আসা, ভাড়া চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
থাকা: থানচি, তিন্দু বা রেমাক্রি বাজারে কাঠের ঘরে থাকা যাবে। থাকার জন্য টাকা লাগবে না, তবে খাওয়ার জন্য প্রতি বেলায় জনপ্রতি লাগবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া গাইডের সহযোগিতায় আদিবাসী গ্রামেও থাকা যেতে পারে।

Source:

Prothom Alo


নাফাখুম...... বাংলাদেশের নায়েগ্রা!



নাফাখুম

মারমা ভাষায় 'খুম' মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় আশ্চর্য সুন্দর সেই জলপ্রপাতে, যার নাম..... 'নাফাখুম'। রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুমে এসে বাঁক খেয়ে হঠাৎ করেই নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট....প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ নিতান্ত কম নয়... প্রায় যেন উজানের সাঙ্গু নদীর মতই। পানি প্রবাহের ভলিউমের দিক থেকে সম্ভবতঃ নাফাখুম-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত। আমার দেশে এত সুন্দর একটা জলপ্রপাত....অথচ আমরা খুব কম জন-ই এই জলপ্রপাতটা সম্মন্ধে জানি!



নাফাখুম (আপস্ট্রীম থেকে তোলা)
নাফাখুমের পড়ন্ত জলের ধারার নীচে গিয়ে বসার সুযোগ রয়েছে। আমার-আপনার জন্য বিষয়টা বেশ রিস্কি হলেও পাহাড়ীরা জলপ্রপাতের পিছনে বসে অনায়াসে মাছ শিকার করে। এক ধরনের উড়ুক্কু মাছ (স্থানীয় ভাষায় মাছটির নাম নাতিং মাছ) উজান ঠেলে এসে নাফাখুমে বাধাপ্রাপ্ত হয়, লাফ দিয়ে এই প্রপাত-টা আর ক্রস করতে পারেনা....গিয়ে পড়ে জলপ্রপাতের ভিতরে ছোট্ট একটা গুহায়। অনায়াসে সেখান থেকে মাছ সংগ্রহ করে স্থানীয় পাহাড়ীরা।


রেমাক্রি বাজার (নদী থেকে তোলা)
রেমাক্রি বাজার থেকে দুইভাবে নাফাখুম-এ যাওয়া যায়। এক ঘন্টা উঁচু-নীচু পাহাড়ী পথ মাড়িয়ে(পাহাড় ডিঙিয়ে) তারপর রেমাক্রি খালের পাড় ধরে বাকিটা হেঁটে চলা। এই পথে গেলে নাফাখুমে পৌঁছাতে আপনার সময় লাগবে চার ঘন্টা। রেমাক্রি খাল ক্রস করতে হবে তিন বার, যার মধ্যে শেষবার আপনাকে সাঁতার পানি পেরুতে হবে। আপনি পাহাড় না ডিঙিয়ে গোটা পথই রেমাক্রি খালের পাশ দিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে নৌকা করে রেমাক্রি খালের মুখে (যেখানে রেমাক্রি খাল সাঙ্গুতে পড়েছে, রেমাক্রিখুম) যেতে হবে আপনাকে...তারপর খালের পাড় দিয়ে হাঁটা পথে নাফাখুম বরাবর। এই পথে আপনাকে চার বার খালটি ক্রস করতে হবে...তবে সময় লাগবে তিন ঘন্টা। আমি আপনাকে দ্বিতীয় পথেই যেতে পরামর্শ দেব...এতে আপনার সময় ও এনার্জী দু'টোই ব্যয় হবে কম। আর শীতের দিনে গেলে খাল ক্রস করার ঝামেলাই নেই.... গোটাটাই আপনি ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে যেতে পারবেন। তবে শীতকালে নাফাখুম-এর এই পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ হবেনা.... পানি প্রবাহ অনেক কমে যাবে তখন।

রেমাক্রিখুম-টাও খুব সুন্দর! রেমাক্রি বাজারের কাছেই এই 'রেমাক্রি খুম'। রেমাক্রি খাল যেখানে এসে সাঙ্গু নদীতে পড়েছে.... সেটাই রেমাক্রি খুম।


রেমাক্রিখুম
পাঁচ-ছয় ফুট উপর থেকে কয়েকটি ধাপে পানি পড়ছে এই জলপ্রপাতে। এ'টি অনেক চওড়া। এই জলপ্রপাতটিও আপনাকে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যাবার পথেই চোখে পড়বে এই রেমাক্রিখুম।


রেমাক্রিখুম
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্লগার বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু, বড়পাথর, রেমাক্রি ঘুরে এসেছেন... চমৎকার সব ছবিসহ অনেকে পোস্ট-ও দিয়েছেন। বিস্তারিত না গিয়ে আমি শুধু কিছু তথ্য শেয়ার করছি এখানে....


নীলগিরি
১. বান্দরবান শহর থেকে থানচি উপজেলা (বান্দরবান জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা) সদরের দূরত্ব ৮২ কিঃমিঃ। রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীতে বান্দরবান থেকে থানচি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা, ভাড়া নেবে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পথে চিম্বুক আর নীলগিরিতে নেমে কিছু ছবি তোলার ইচ্ছে থাকলে সময় কিছুটা বেশী লেগে যেতে পারে।

তিন্দু (সাঙ্গুর পাড়ে)


তীব্র স্রোত ঠেলে উজানে যাবার চেষ্টা
২. বর্ষায় ইঞ্জিনবোটে থানচি থেকে তিন্দু যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যেতে লাগবে আরও আড়াই ঘন্টা। এই পাঁচ ঘন্টার নৌ-পথে আপনি উজান ঠেলে উপরের দিকে উঠতে থাকবেন আর ভার্টিকেল ডিষ্টেন্স কভার করবেন প্রায় ৫০ মিটার । শীতের সময় ইঞ্জিন বোট চলার মত নদীতে যথেষ্ট গভীরতা থাকেনা...তখন ঠ্যালা নৌকাই একমাত্র বাহন। বর্ষা মৌসুমে তিন দিনের জন্য ইঞ্জিনবোটের ভাড়া পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর শীত মৌসুমে ঠ্যালা-নৌকার ভাড়া পড়বে প্রতি দিনের জন্য ১০০০ টাকা।

সাঙ্গু নদীর উজানে হঠাৎ এরকম স্টেপ-ডাউন পাবেন প্রচুর
৩. থানচি থেকে যত উজানে যাবেন (দক্ষিণে).... নদীর স্লোপ তত বাড়তে থাকবে। গোটা নদীপথেই একটা জেন্টেল স্লোপ-তো আছেই...তার উপরে মাঝে মাঝেই আছে ১ ফুট থেকে ১ মিটার পর্যন্ত খাড়া স্টেপ-আপ। আমি রেমাক্রি ছাড়িয়েও ছোট মওদক পর্যন্ত গেছি। কিন্তু তিন্দু থেকে রেমাক্রি পর্যন্ত নদীপথ-টুকুই বেশী খরস্রোতা ও একটু ঝুঁকিপূর্ণ।


যখন আমরা বড়পাথর অতিক্রম করছি
৪. ঢালু পাহাড়ী নদী খরস্রোতা হওয়াই স্বভাবিক... বর্ষায় সাঙ্গুও সেইরকম খরস্রোতা। তবে ভয় পাবার কিছু নেই। নৌকার মাঝিরা যথেষ্ট স্কীল বলেই মনে হলো। দু' একটা দূর্ঘটনার গল্প হয়তো শুনবেন.... কিন্তু আমি ভয়ের কিছু দেখিনি, বরং ফেরার সময় রাফটিং-এর একটা মজা উপভোগ করেছি। থাকা-খাওয়ার কিছুটা অসুবিধা মেনে নিলে এমনকি এ্যডভেঞ্চার প্রিয় মেয়েরাও অনায়াসে রেমাক্রি পর্যন্ত ঘুরে আসতে পারবেন।


চমৎকার সুস্বাদু চাঁপা কলা
৫. থানচি থেকে নৌকায় উঠার সময় মাত্র ১০০ টাকায় এইরকম এক কাঁদি চাঁপা কলা নৌকায় তুলে নিলে.... পথে বেশ কাজে লাগবে।
৬. হাতি পোকার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য এন্টি মসক্যুইটো ক্রীম নিতে ভুলবেন না।


রেমাক্রি রেস্ট হাউজের বারান্দায়... ধুম ঘুম!
৭. রেমাক্রি পর্যন্ত যদি যান... তবে এইভাবে ঘুমিয়ে সময় না কাটিয়ে একটু কষ্ট করে 'নাফাখুম' দেখে আসতে ভুলবেন না। হাতে সময় থাকলে ব্যাটকেভ বা বাঁদূর গুহা-টাও দেখে আ কোন সময়সতে পারেন, যদিও আমরা ব্যাটকেভ দেখে আসার সময় করতে পারিনি।
৮. আর্মি বা বিডিআর-এর রেফারেন্স থাকলে তিন্দু ও রেমাক্রিতে বিডিআর-এর আতিথেয়তা পেতে কষ্ট হবেনা.... আর বিডিআর-এর আতিথেয়তা পেলে থাকা-খাওয়ার সম্ভাব্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা-টা সহজেই মিলে যাবে। সাথে উপরি পাবেন নিশ্চিন্ত নিরাপত্তা...যদিও নিরাপত্তা জনিত কোন অসুবিধা আমার চোখে পড়েনি।
৯. বিডিআর ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা না করতে পারলেও কোন অসুবিধা নেই। নিশ্চিন্ত মনে বছরের যে কোন সময় ৪ থেকে ৬ জনের গ্রুপ নিয়ে চলে যান তিন্দু, রেমাক্রি। মারমাদের বাঁশ-কাঠের বাড়ীতে অনায়াসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে আপনাদের। মারমাদের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতেই খুব অল্প টাকায় এমন থাকা-খাওয়ার সুবিধে রয়েছে। তিনবেলা খাওয়ার খরচ পরবে জনপ্রতি ২০০ টাকা, আর থাকা ফ্রি। তবে যে বাড়ীতে ফ্রি থাকবেন... খেতে হবে তাঁর দাওয়ায় বসেই।
১০. থানচি পর্যন্ত আপনার টেলিটক মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাবেন। তিন্দু গিয়ে আপনার মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকলেও আপনি একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবেন না। মারমাদের দোকান থেকে বাঁশের উপর এ্যন্টেনা লাগানো সেট থেকে চাইলে বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু রেমাক্রি পৌঁছালে আপনি একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।
তাহলে একবার সুযোগ করে ঘুরে আসুন তিন্দু, বড়পাথর, রেমাক্রি, নাফাখুম.... উপভোগ করে আসুন ভিন্ন এক থ্রিলিং প্রকৃতি। স্যাটিসফেকশন গ্যারান্টেড!



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১

By নীল ভোমরা

Thursday, December 23, 2010

Lonely hills, deadly hunters, Bandarban, BD

Lonely hills, deadly hunters

Early morning clouds press in at Thindu, about six hours' boat ride from the last outpost inhabited by Bangalees at Thanchi. The hills and the jungle are the perfect habitat for wildlife. The clouds also signify thriving evergreen rainforest. As forests vanish, so will the cloud formation, left. Photo courtesy: Sanjida Jui, A man proudly displays his kill at Thindu, right. Courtesy : Bipesh Raj

In the gathering darkness of the fast-falling evening in the valley, a man appears with a monkey in one hand and a strange gun in the other.

As he climbs up the slope from the Sangu river and steps into the Tindu market square, people gather around him, appreciative of his prize. A single bullet had pierced the rhesus monkey's chest and come out his neck. Blood still drips down its ruddy coat.

The man displays the monkey for us to take snaps. His gun is primitive it is hard to believe that it can actually kill anything. A normal water pipe tied to a heavy stump of wood carved in the fashion of the stock of a shotgun. It is front-loaded you just thrust the gunpowder inside and put in a lead ball.

Tindu is a six-hour boat ride from Thanchi, the last outpost of Bandarban where any Bangalee people live. After that is wilderness just a fast-flowing river flushing through hills. Here, only hill people live; mainly Marmas.

Huge boulders block the river's way at bends, and the water roils. On the undulating hills, the real trees tall and straight are few. Most have been replaced by shrubs or slash-and-burn cultivation.

Through such landscapes we row another three hours to reach Remacri, a Marma neighbourhood further upstream. In the evening, a group of hunters appear with a barking deer. The villagers gather around, appreciating the kill.

In this harsh land, life is difficult but certainly not so desperate as to force these hunters to turn to wild animals. Both had chickens and pigs at home. One has a shop in the market. Still, they hunt regularly.

The Remacri man laughed when we asked him why he hunts when he does not have any shortage of protein sources. After all, life is harsh in these remote hills.

“My father did it. I do it too,” he said in broken Bangla.

Although rations have arrived and farming has taken a timid root, tradition and instincts persist. The laws prohibiting hunting make no sense in these villages. People just laugh when told a law makes it punishable to kill wildlife.

At Remacri, they said they kill one or two deer every day once the Jhum harvest is over. Monkeys, pheasants and red jungle fowl are hunted regularly. There is no check or balance. No one has any idea what the animal population is of deer, monkeys or anything for that matter. No one knows if any population is at a harvestable level.

But signs suggested the numbers are few. All along this nine-hour journey, we sighted only a single pair of cotton pigmy goose. They surely were new to this place to have escaped the eyes of the Marmas. There were a lot of wagtails and a few river lapwings, too. But they are not worth eating. We walked 22 kilometres to and around Nafakhum, yet found no hoof prints of deer or signs of monkeys.

Only at Tindu did we hear a deer at dusk, its call lonely and mysterious, as mists swirled around the hills in a mystical way. And at Remacri, we heard some holook gibbons calling from the mountains on the other side of the river.

Not all hope is lost for the wildlife in this wilderness. Dr Reza Khan, a long-time visitor to these forests and a nature lover, feels the introduction of eco-tourism holds promise. Offers to sight gibbons, deer and other wildlife for tourists would mean extra income for the hill people. They can be compensated for capping hunting sustainably.

“An effort to stop hunting was very successful at Kaeng Krachan National Park in Thailand where hunting by the ethnic groups was sending many species to extinction,” says Ronald Halder, a wildlife photographer. “Then an NGO took initiative to convince the hunters to build hides for photographers to snap wildlife. Now hunting has topped there and the ethnic people make more money by helping photographers.”

At Remacri, this also seems possible. Already, tourists are pouring in and bottled water has arrived. Some Marma offer stays at their shanties for Tk 50 a night and food at Tk 80 a meal. Boats are also available at Tk 2,500 a day.

But these are not organised efforts with any links to conservation. And without this, it would be a miracle if the gibbons lived to see many more dawns.

Sunday, December 19, 2010

পর্যটকের ঢল নেমেছে পাহাড় কন্যা বান্দরবানে

পর্যটকের ঢল নেমেছে পাহাড় কন্যা বান্দরবানে

০০ বান্দরবান সংবাদদাতা

পর্যটকের ঢল নেমেছিল পাহাড়কন্যা বান্দরবানে। টানা তিনদিনের ছুটিতে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে বান্দরবানে ছুটে আসে পর্যটকরা। পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। কোথাও তীল ধারণের ঠাঁই নেই। হোটেল-মোটেল, রেস্টহাউস এবং গেস্টহাউসগুলোতেও সীট না পেয়ে পর্যটকরা রাস্তায় রাস্তা্য় ঘুরে বেড়ায়। গভীর রাতেও পর্যটকদের সাঙ্গু বীজ, বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। রুমা এবং থানছি উপজেলায় পর্যটকরা হোটেল-মোটেলে সীট না পেয়ে পাহাড়ী গ্রামগুলোতে আদিবাসীদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নেয়।

প্রতিবছর শীতের শুরুতে বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটে। পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সমপ্রতি যুক্ত হয়েছে ক্যাবলকার। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মেঘলা পর্যটন কমপ্ল্ল্লেস্নক্সে আরো রয়েছে একই লেকের উপর দু'টি ঝুলন্ত সেতু, মিনি সাফারী পার্ক এবং চিড়িয়াখানা। এছাড়াও পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টাওয়ারে উঠে পাহাড়ের সমুদ্র দেখছে পর্যটকরা। পাহাড়ের সাথে আকাশ মিতালী গড়েছে নীলাচলে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা নীলাচলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রয়েছে বাংলার দার্জিলিংখ্যাত চিম্বুক পাহাড় এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত স্বপ্নীল নীলগিরি পর্যটন স্পট। যেখানে অনায়াসে মেঘের ছোয়া পাওয়া যায়। অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে নির্মিত নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র যেন মেঘে ভাসছে। মুহূর্তে মেঘ এসে এখানে ছুঁয়ে যাচ্ছে কটেজগুলো। জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলগিরি স্পটটি স্বাস্থ্যকর স্থানও। শহরের অদূরে অবস্থিত শৈলপ্রপাতের স্বচ্ছ ঠান্ডা পানিতে গা ভাসায় পর্যটকরা। পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি বয়ে চলেছে অবিরাম ধারায়। পাশে বসেই আদিবাসী তরুণীরা কোমর তাঁতে তৈরি কাপড় বিক্রি করছে। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক লীজা ও তানিয়া জানান, অপরূপ সৌন্দর্যে গড়া বান্দরবান। পাহাড়, প্রাকৃতিক লেক, অজস্র ছোট-বড় ঝর্না, ঝুলন্ত সেতু, ক্যাবলকার এবং দেশের সবের্াচ্চ পর্বতচূড়া সাকাহাফংসহ অসংখ্য পাহাড়। সত্যিই অসাধারণ বান্দরবান জেলা। কিন্তু ভাঙ্গা সড়ক আর অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই সৌন্দর্যকে অনেকাংশে মস্নান করে দিচ্ছে। অন্যদিকে বালাঘাটায় নির্মিত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান নামে পরিচিত বৌদ্ধ ধাতু স্বর্ণজাদি জেলায় পর্যটনের ক্ষেত্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক।
Source: Daily Ittefaq, 19-12-2010

Related Links:

পর্যটন শিল্পে নতুন সংযোজন : বান্দরবানের মেঘলায় কেবল কার উদ্বোধন

Friday, December 10, 2010

Thanchi to Boro Mowdok waterway, Bandarban

Thanchi to Boro Mowdok waterway

Contributor: Fazlay Rabby


Geographical Information:

Trail Name: Thanchi to Boro Mowdok waterway

Data measured by/ or source:

Garmin GPSMAP60Cx with external antenna


General Information

Route- Thanchi- Tindu- Boro Pathor- Ramakri/Yangrai- Choto Mowdok/ Choto Modhu- BoroMowdok/ Boro Modhu

Additional information:

You need permission from BDR to use this route. Normally permission upto Tindu and Boro Pathhor is easy to get. getting permission for Mowdok is a bit hard in times. After Boro Mowdok the Sangu Reserve Forest or Andhar Manik Reserve Forest is situated.

How to go:

Dhaka to Bandarban: by Bus

Bandarban to Thanchi: by Bus or Chandergari

Thanchi to Boro Mowdok: By boat or canoe.

In one boat 4 to 5 person can sit comfortably with their Backpack (without any bag 9 can sit easily). Food and snacks for the boatman is on you.

Where to stay:

You can stay in your tents or use the below places:

1. Thanchi: Thana rest house

2. Tindu: In the Hotel/Resturant/ Tribal’s home upstair.

3. Ramakri: Resthouse/Tribal’s Home

4. Boro Mowdok: In local places in the Bazar.

What to eat (food):

It is advisable to take your ingredients with you and cook yourself. You can go to any of the Bazar and buy food there but is of unknown quality and taste. You can drink the river water.

Tips/advise for traveler:

1. Take your sleeping bag with you.

2. Take plenty of tea/coffee and biscuits.

3. Write down the detail in a paper and submit to BDR camp:

Name, Father’s Name, permanent address, mobile number, home telephone number,

4. Pack everything in a poly bag before packing your backpack.

5. Have electrical torch light.

6. Can take precaution for Malaria.


Thanchi to Boro Mowdok waterway:

Source: www.banglatrek.org