Search This Blog

FCO Travel Advice

Bangladesh Travel Advice

AFRICA Travel Widget

Asia Travel Widget

Thursday, November 11, 2010

উত্তর সুন্দরবন ও বাঘ

উত্তর সুন্দরবন ও বাঘ

লিখেছেন:
দীপেন ভট্টাচার্য
Font size

বাঘের ওপর ফরিদ আহমেদের (ব্যাঘ্র শিকারি সারমেয়) ও কাছিমের ওপর বিপ্লব রহমানের লেখাদুটোতে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্রের বছর উপলক্ষে এই ফটো-লগটা দিচ্ছি। এই বছরের প্রথম দিকে আমার সুন্দরবন যাবার কিছু ছবি দিলাম, তারপরে বাঘ-সংক্রান্ত কিছু হৃদয় বিদারক তথ্যও দিলাম। যদি সময় না থাকে আমি পাঠকদের অনুরোধ করব, এই লেখা না পড়ে, একদম শেষে আল-জিজিরার লিঙ্কের ভিডিওটা দেখুন। শেষের দুটো গুরুত্বপূর্ণ ছবি (নাইমুল ইসলাম অপুর তোলা) ছাড়া অন্য ছবিগুলো আমার তোলা।

sundarban1
সুন্দরবনের উত্তর প্রান্ত

sundarban2

খুলনা ও মঙ্গলার মধ্যে শুধু হচ্ছে চিংড়ি চাষ। নদী থেকে লবণাক্ত জল পাম্প করে চাষযোগ্য জমিতে জমিয়ে চিংড়ির উপযোগী করা হচ্ছে।

sundarban3

শীতের বকেরা খাবার খুঁজছে শুকিয়ে-যাওয়া চিংড়ির ঘেরে। এই জমিগুলো আর চাষযোগ্য নয়, বরং এই জমি পুরো এলাকার দূষণের উৎস।

sundarban4

মঙ্গলার কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে, শ’য়ে শ’য়ে জেলে খুব সূক্ষ্ম জাল দিয়ে মাছ ধরছে। এই জালের ছিদ্র এতই ছোট যে কোন ধরণের পোনা মাছই বের হতে পারবে না। জেলেরা নিজেরাই জানে এই ধরণের মাছ চাষের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে।

sundarban5

এই কনকনে শীতের ভোরে, এই মহিলা চিংড়ির পোনা (মীন) খুঁজছেন ঘন্টার পর ঘন্টা। সেই মীন বিক্রী হবে উত্তরের চিংড়ির ফার্মে।

sundarban6

জেলেদের গ্রামগুলোর এই অবস্থা, কোন রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই।

sundarban7

এই দৃশ্যটা খুবই রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে, কিন্তু জোয়ার আর ভাটার মধ্যে এটা একটা কর্দমাক্ত অস্তিত্ব। এখানে বনের অবশিষ্টাংশ টিকে আছে।

sundarban8

একটা খাল পেরিয়ে সংরক্ষিত বন শুরু হল। কিন্তু জাহাজ ও বার্জ থেকে নিষ্কাশিত বর্জ্য তেল গোলপাতার ওপর একটা কালিময় রেখা টেনে দিয়েছে।

sundarban9

কিন্তু তার পর একটা কুয়াশায় ঢাকা একটা রহস্যময় বন আমাদের আহ্ববান করে। একটা বাইন গাছ এক কোণায় কোনরকমে দাঁড়িয়ে। জোয়ার দক্ষিণ থেকে পলিভরা জল নিয়ে আসে। ঘোলাটে জলে আমরা একটা শুশুককে লাফাতে দেখি, কিন্তু ক্যামেরায় ধরতে পারি না।

sundarban10

এখানে বন খুবই ঘন, পথ না করে দিলে হাঁটা যাবে না। হারবারিয়ায় আমরা একজন সশস্ত্র রক্ষীকে অনুসরণ করি। সুন্দরী গাছের মূল মাটি থেকে জেগে থাকে। এখানে অনেক সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত।

sundarban11

অবশেষে বাঘের পদচিহ্ন। নাইমুল ইসলাম অপু বাঘের পায়ের স্কেল বুঝতে চাচ্ছেন।

sundarban12

গোলপাতা ঝোপের মধ্য দিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ চলে গেছে। গোলপাতার নাম হয়েছে তার গোল ফলের জন্য। বাওয়ালীরা গোলপাতা দিয়ে ঘরের ছাউনী দেয়।

sundarban13

শেষাবধি আমি এইরকম একটা ছবি মনে রাখার চেষ্টা করি, একটা বন যা কিনা রহস্যময়, কিন্তু খুবই নাজুক। ঐতিহাসিক ভাবে বন থেকে সম্পদ আহরণ করা গেছে চিরাচরিত প্রথায়, কিন্তু তার সীমান্তে জনসংখ্যার চাপে সেই বন আজ ঝুঁকির মুখে।

আমি ফিরে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই একটি বাঘ পার্শ্ববর্তী গ্রামে ঢুকলে তাকে গ্রামবাসীরা ঘেরাও করে। সারাদিন পুলিস ও বিডিআর বাঘটাকে রক্ষা করলেও সন্ধ্যের পর হাজার হাজার গ্রামবাসী জড়ো হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। লোকেরা দড়ি-দাও-ঢিল-পাটকেল-লাঠি মেরে বাঘটাকে মেরে ফেলে। বাঘ একটা আটক পড়েছে শুনে নাইমুল ইসলাম অপু ঢাকা থেকে চলে যায়, তার পৌঁছানর কিছুক্ষণ আগেই বাঘটা মারা যায়। অপুর তোলা মৃত বাঘের ছবি দিলাম।

sundarban14

মৃত বাঘের ছাল নাকি ছাড়ান হয় কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে। এক বছরে প্রায় ৭টা বাঘ মারা গেল মানুষের হাতে। ধরা হয়ে থাকে এখন ৪০০টির মত বাঘ বাংলাদেশের সুন্দরবনে আছে। কিন্তু এই সংখ্যাটা নিচে ২৫০-২৭৫ থেকে ওপরে ৪৫০ পর্যন্ত হতে পারে।

sundarban15

কিন্তু আপনারা যদি সত্যিই দেখতে চান বাঘকে মানুষ কি ভাবে মারে, তাহলে নিচের লিঙ্কটি দেখতে পারেন (সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্টের এডাম বারলোর পাঠান)। শেষ পর্যন্ত দেখবেন, যা দেখবেন তা বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। সবাই এটা নাও সহ্য করতে পারেন।

Wednesday, November 10, 2010

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সুন্দরবন রক্ষা করে চলেছে তাদের নেই ঝুঁকি ভাতা, রয়েছে লোকবল ও জলযান সংকট

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সুন্দরবন রক্ষা করে চলেছে তাদের নেই ঝুঁকি ভাতা, রয়েছে লোকবল ও জলযান সংকট

Abu Hossain Sumon
November 22, 2010, 3:30 am
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সুন্দরবন সংরক্ষণ করার দায়িত্ব পালন করে তাদের কোন ঝুঁকি ভাতা নেই। নেই যাতায়াতের সুব্যবস্থা। দুর্গম অঞ্চলের বেশির ভাগ লোকজনই থাকেন মারাত্মক ঝুঁকিতে। রয়েছে হিংস্র প্রাণীর ভয়। তার ওপরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সব মিলে দুর্বিষহ এক জীবন যাপন তাদের। এই বন সংরক্ষনকারীদের নূন্যতম চাহিদাটুকুও পূরণ হয় না তাদের বেতন-ভাতায়।

সুন্দরবন ঘুরে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা শুধু বেতনই পান। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করেও ঝুঁকি ভাতা পান না। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বন সংরক্ষণকারীদের হিল এলাউন্স রয়েছে। যদিও পার্বত্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সুন্দরবন। অসংখ্য নদী-খাল দিয়ে ঘেরা সুন্দরবন পাহার দেয়ার জন্য যে পরিমাণ নৌযানের প্রয়োজন সেই পরিমান নৌকা নেই তাদের।

একটা বিট অফিসে মাত্র ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। আর ক্যাম্পগুলোতে ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। কিন্তু এই ক্যাম্প, বিট ও রেঞ্জ অফিসের আওতায় রয়েছে বনের বিশাল এলাকা। বনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পাহারা দিতে অন্তত ১০ হাজার লোকবলের প্রয়োজন। কিন্তু গোটা সুন্দরবন সংরক্ষণ করছে মাত্র ১ হাজার লোকবল।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, চাঁদপাই রেঞ্জের আওতায় ৪টি ষ্টেশন ও ২১টি টহল ফাঁড়িতে কর্মরত লোকবলের সংখ্যা ২'শ। কিন্তু এ রেঞ্জের প্রায় ১ লাখ হেক্টরের বিশাল সুন্দরবনে কম হলেও ৩ শতাধিক জনবলের প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিটি টহল ফাঁড়িতে ২টি করে ট্রলার ও ১টি করে ডিঙ্গি নৌকার প্রয়োজন থাকলে ২১টির মধ্যে ১০টিতেই কোন জলযান নেই। আর যে সকল ষ্টেশন ও ক্যাস্পে ১টি করে ট্রলার রয়েছে সেগুলোতে রয়েছে তীব্র জ্বালানী সংকট। প্রতি মাসে ১টি ট্রলারের বিপরীতে সাড়ে ৩শ থেকে ৫শ লিটার জ্বালানী তেলের চাহিদা থাকলেও কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে থাকে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ লিটার। সুন্দরবনের একটি ষ্টেশনে ১৫ জন আর একটি টহল ফাঁড়িতে ৮ জন করে লোক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে অর্ধেক। একজন বনরক্ষীর বেতন ২ হাজার টাকা। দুর্গম এলাকায় যারা আছেন তাদের খাবার খেতেই দেড় হাজার টাকার ওপর খরচ হয়। বেশির ভাগ বন প্রহরী তাদের বাড়ীতে কোন টাকা পাঠাতে পারে না।

কয়েকজন বন কর্মচারী বলেন, যে বেতন পাই তাতে নিজেদেরই চলে না- সংসার চালব কি করে। আমাদের যদি ঝুঁকি ভাতা থাকত, স্যালাইন ভাতা ও রেশন দেয়া হতো তাহলে বনজ সম্পদ রক্ষা ও গাছ চোরদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করতাম। কেউ কোন গাছ কাটতে পারত না। আমাদের একজন বনরক্ষী আবু সাইদ সিডরের আঘাতে মারা গেছেন। তাকে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে চাঁদা তুলে। সরকারীভাবে তার জন্য কিছুই করা হয়নি। দেয়া হয়নি তার পরিবারকে আর্থিক কোন সুবিধা। যে চাকরিতে জীবনের নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন সেই চাকরি করে আমাদের কোন সঞ্চয় থাকেনা।

এমনও জায়গা আছে যেখান থেকে মংলা বা খুলনা আসাতে ১১ থেকে ১৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়। এই যাতায়াতের জন্য বন সংরক্ষকদের অনেক টাকা লাগে। বনকে রক্ষা করতে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আকর্ষনীয় বেতন ভাতা দিতে হবে। চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন আরো বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন ষ্টেশন ও টহল ফাঁড়িগুলোতে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের অধিকাংশই পঞ্চাশোর্ধ। ফলে বনের দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘ বছরের পর বছর বনবিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ না থাকায় যারা কর্মরত আছেন তারা অনেকটা ঠেকেই দায় এড়াচ্ছেন। এ সকল সমস্যা নিরসনে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে সুন্দরবন সংরক্ষণ ব্যবস্থা যুগের পর যুগ চলে আসছে। এখান থেকে উত্তরনের কোন পদক্ষেপ রাজনৈতিক সরকারগুলো নেয়নি।

Source: www.bangladeshfirst.com

Tuesday, November 9, 2010

সাকিন সুন্দরবন

সাকিন সুন্দরবন
- মাহবুব লীলেন

- দেও দিকিনি। এইটাতে কিছু চার দেও তো

বাপ্পী ভাই একটা গামলা ছুঁড়ে মারল লোকটার নৌকায়। গামলাটা তার কোলের কাছে পড়লেও অনেকক্ষণ সেদিকে তাকালই না লোকটা। হাঁটুতে মাথা গুঁজে থাকলেও বাপ্পী ভাইর তার দিকে তাকিয়ে থাকা অনুভব করছিল সে। এবার বাপ্পী ভাইর দিকে তাকিয়ে গামলাটা টেনে নিজের গামলা থেকে বেছে বেছে কেজি দেড়েক চিংড়ি আর বারোয়ারি মাছ তুলে দিয়ে বাপ্পী ভাইর হাতে দেবার জন্য যখন উঠে দাঁড়াল তখনই- অ্যাহ। এইটাতে কী হবে? ওর ওখান থেকেও কিছু দেও...

লোকটা হাত গুটিয়ে বসে পড়ার আগেই আমরা তাকে গামলা ধরে পোজ দিতে বললাম। জেলের হাতে তরতাজা মাছ। দারুণ সমৃদ্ধির প্রতীক... ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাকে দিয়ে ছবির পোজ দেয়ালাম। তারপর ছেড়ে দিলে লোকটা নিজের জায়গায় বসে গামলাটা নৌকার ভেতর দিয়ে ঠেলে দিল অন্য গলুইয়ে বসা গোঁয়ার ছেলেটার দিকে- দ্যাও। কী দেবা দেও। স্যাররা কিছু চার চায়...

একটু পরে আরো কিছু মাছ নিয়ে গামলাটা তিন মাথার কাছে ফিরে এলে সে বাড়িয়ে দিলো বাপ্পী ভাইকে। খেঁকিয়ে উঠল বাপ্পী ভাই- কী দিলা এইসব? আরো কিছু দেও। আমারাও তো মাছ ধরব...

লোকটা নিজের গামলা থেকে আরো কয়েকটা মাছ তুলে দিলো আমাদের গামলায়। বাপ্পী ভাই অতগুলা মানুষের মাছ ধরার জন্য আরো কিছু চার চায়। লোকটা এবার আর নড়ে না। আমাদের গামলা আর তার নিজের গামলার দিকে তাককায়। তার গামলায় টোপের পরিমাণ আমাদের গামলার অর্ধেক। লোকটা মরিয়া হয়ে উঠে আতঙ্কে- স্যার। আর দিলি আমাগের চার হবে না স্যার...

বহুক্ষণ সে আর নিজের বঁড়শিগুলোতে চার গাঁথার সুযোগই পায় না। নৌকা সামনে নিয়ে- পেছনে ঠেলে- সোজা-ব্যাঁকা বানিয়ে চাহিদামতো পোজ দিতে থাকে আমাদের ছবির...

- মাছ নাই তোমাদের সাথে?
সুন্দরবনের মাঝির বৈঠাধরা হাতও কি কেঁপে উঠে এবার?

লোকটা চমকে উঠে একটা হাসি দেয় শুধু
- কই দেখি। কী মাছ দেখাও তো?

লোকটা মুখের বঁড়শিগাঁথা হা-টাকে আরো বড়ো করে এবার- এই নৌকায় নাই স্যার। পেছনের নৌকায়
- ওরা কই?
- এখানেই আসবে স্যার...

ওর কাছ থেকে পাওয়ার মতো সবগুলো ফ্রেম শেষ হয়ে যাওয়ায় ফটোগ্রাফাররা ওকে ছাড়ে আর আর বাপ্পী ভাইর চোখ পড়ে আইলাভাঙা ফরেস্ট ছাউনির দিকে- এই ওহাব। যা তো দেখি ওখান থেকে কিছু জ্বালানি কাঠ নিয়ে আয়

ওহাব কুড়াল নিয়ে ছাউনির আড়াল থেকে একটা ঘুণে ধরা শুকনো খুঁটি ভেঙে নিয়ে আসে
- বাড়া একটা ভূতে চুদা তুই। কী নিয়া আসছিস এইটা?

- মাছ কোন নৌকায়?

কেউ উত্তর দেয় না। তিনমাথা নতুন নৌকায় ইশারা দেয়। একটা ছেলে নামে। দীর্ঘ সুঠাম আর টানটান। কালো টিশার্টের নিচে প্রায় স্কিনটাইট একটা শর্টস। ছেলেটা কাছে এলে তিনমাথা কানে কানে কিছু বলে। একটা গামলা নিয়ে ছেলেটা এগিয়ে যায় বিড়ালের পাশে ভেড়ানো অন্য নৌকার দিকে...

শুনেছি বাঘের গতিকে ক্ষিপ্রগতি বলে। গামলা হাতে ছেলেটা যখন ঝপাস ঝপাস পানি ভেঙে এগোচ্ছিল তখন একবারও মনে হয়নি তার পায়ের নিচে পা কামড়ানো কাদাও আছে হাঁটু সমান। একটু সামনে ঝুঁকে ছেলেটার এগিয়ে যাওয়া আমাকে মনে করিয়ে দেয় ছোটবেলায় পড়া গালিভারের গল্প। আমি পরিষ্কার দেখি বিপক্ষ দেশের যুদ্ধ জাহাজগুলোকে সুতায় বেঁধে হাঁটুপানি সমান সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে গালিভার। সুন্দরবনের সব নদীই এই টানটান ছেলের হাঁটুপানি সমান...

কিন্তু বিড়াল নৌকার পাশে গিয়ে হঠাৎ ছেলেটা তিনমাথা হয়ে যায়। শরীরটাকে মুচড়ে কুঁকড়ে গামলা হাতে ঢুকে পড়ে ছইয়ের ভেতর

কিছুক্ষণ পর গামলাসহ একটা হাত বের হয় নৌকার বাইরে। হাত দেড়েক লম্বা চারটা আইড় জাতীয় লোনাপানির মাছ। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজন একেকটা অনুমান। বরফের বাষ্প উড়ছে মাছগুলো থেকে। খোলের ভেতরে বরফ দিয়ে রাখ ছিল মাছগুলো

- এইটা কী দিলা। অতগুলান মানুষ আমরা...
ছেলেটা বের হতে হতে আবার ঢুকে যায়। আরেকটু বড়ো সাইজের আরেকটা মাছ রাখে গামলায়। সেখানে বসেছিল আরেকজন। একটু মোটাসোটা কিন্তু চেহারা সেই তিন মাথাওয়ালার। কিছুই দেখছিল না সে অতক্ষণ। এবার কোঁকিয়ে উঠে- স্যার মাছ পাই নাই তেমন। মাহাজনের ট্রলার আসলি দিতি পারব না কিছুই...

ঠিক তখনই কেউ আবিষ্কার করে বিনিমাগনায় মাছগুলো উঠছে আমাদের ট্রলারে...

- এই মাছগুলোর দাম কত?

বোকার মতো তাকায় মোটা তিনমাথা। গামলাটা সেখানেই রেখে সেই ছেলেটা ঝপঝপ পানি ভেঙে আবার চলে গেছে নিজের নৌকায়। কিন্তু মাছের দাম বলে না কেউ
- এই মাছ আমরা খাবো না। বলেন মাছের দাম কত?
- আপনারা এইসবে নাক গলান কেন? পয়সা দিতে হলে আমি দেবো। আপনারা আপনাদের ছবি তোলেন

নেংটি পরা শরীরের উপর আধা সেকেন্ডের জন্য ঝিলিক দিয়ে চোখদুটো আবার মরা ইলিশের চোখ হয়ে যায়। হাতদুটোকে জোড়হাতে মাপ চাওয়ার মতো প্রশ্নকারীর দিকে তুলে মুখ খোলে- না না দাদ-দাদ-দাম ককককিসের? এই মাছ আপনাগের পাপ-পাপ-পাওনা। ফফফরেস্টারের পাপ-পাওনা এই মাছ

হয়ত বা লোকটা এমনিতেই তোতলা। অথবা তোতলাচ্ছে সে। তোতলাতে তোতলাতেই যোগ করল- এই মাছের দাম নেয়া তাদের জন্য পাপ। তারা গিয়ে মহাজনকে বলবে আমাদের মাছ দেয়ার কথা। কারণ ফরেস্টের লোক হিসেবে এই মাছ আমাদের পাওনা...

মাছের দাম নেয়া পাপ। সততার এই শব্দগুলো শুনতে পায় সবাই। কারো ফ্রেমেই ধরা পড়ে না দাম জিজ্ঞেস করার সময় জেলেটার দিকে বাঘের চোখ রাঙানি করা দুইজোড়া চোখের ছবি। ফরেস্টারের কাছে টাকা চাইলে সুন্দরবনে জেলের জীবন কতটা পানির নিচে ডুবতে পারে জেলেটার সেই ভয় পড়তেও পারে না কেউ। জানতেও পারে না ওজন করে ট্রলারে তুলে দেবার আগে পর্যন্ত কোনো মাছের হিসাবই উঠে না মহাজনের খাতায়। এই মাছ দাদনে বান্ধা খাওয়া জেলের বাঘ- কুমির- কামটের ঘর থেকে তুলে আনা মাছ। এই মাছ দিয়ে দাদনের দায় শোধ হয় তার...

....

আগেরদিন লুকিয়ে রাখা আধা বোতল ভদকায় পানি ঢেলে এক পেগ করে খেয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকি রান্নার। খাবার তৈরি হলে ভাতের সাথে আসে সব্জি। সবজির সাথে আঙুল সাইজের চিংড়ি। ছোটমাছ। আমরা খাই। বড়ো বড়ো টুকরো মাছ আসে। আমরা খাই। খেতে খেতে লোনা পানির মাছের টেস্ট শরীরের চর্বি আর মাছেদের নাম নিয়ে আলাপ করি আমরা

সন্ধ্যার পরে ক্যামেরাগুলো অকেজো তাই ফটোগ্রাফাররা বেকার। তখন তালে মাতালে বিভিন্ন গল্প। তারপর সবার ঘুম। শুধু নিজের জায়গায় শুয়ে বিড়ি টানছি আমি। আর জেগে আছেন আপনি। কথা বলার নেশায় পেয়েছে আপনাকে। আপনার ভার্সিটি লাইফ... রউফুন বসুনিয়া...

বসুনিয়া গুলি খাওয়ার সময় তার ঠিক পাশেই ছিলেন আপনি। মরার আগের শেষ কথাটা আপনিই শুনেছেন শুধু। আমরা তাকে চিনতাম সে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিথ হয়ে যাবার পরে। তার নামে বক্তৃতা ছড়া কবিতা কলাম শ্লোগান ব্যানার দেয়ালের চিকা করে নিজেদের শহীদ হবার বাসনা প্রমাণ করতাম আমরা। মোহন রায়হানের মধুর ক্যান্টিনে যাই কবিতা আমাদের মুখে মুখে সবার। নিজেও লিখে ফেলি একটা; শেষ বাক্যে বসুনিয়া- বন্দুকের একটা গুলি পাল্টাতে যতটা সময় লাগে/ততটা সময়ে এই বাংলা দিতে পারে জন্ম লক্ষ বসুনিয়া/ আমি যাচ্ছি হে স্বৈরাচার কিন্তু তুমি ঠিক করে রাখো/ এর পরে কয় লক্ষ বসুর বুকে তাক করবে তোমার একটা বন্দুক....

আমি ঝিম মেরে শুনছিলাম আপনার কথা। বসুনিয়াকে না চিনেই তার মুখে বসিয়ে দেয়া আমার কথাগুলোর সাথে মিলাচ্ছিলাম সত্যি সত্যি বসুনিয়ার শেষ বাক্য- শুয়োরের বাচ্চা গুলি করছে...

হা হা মুস্তাফিজ ভাই। যতই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন বসুনিয়ার শেষ কথা হিসেবে এই কথাটাকে পাবলিককে খাওয়াতে পারবেন না আপনি। বসুনিয়া বীর। বীরের মুখ থেকে আমরা বীরত্ব কিংবা ত্যাগের কথা শুনতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি বাচ্চাপোলা ক্ষুদিরাম ফাঁসির দড়িতে দাঁড়িয়ে গেয়েছিল তত্ত্বকথার গান- একবার বিদায় দে মা...

পাবলিকের খাদ্য তালিকাটাই এরকম। জীবনী থেকে কিংবদন্তিতে রুচি বেশি আমাদের। সুন্দরবনের জেলেদের সততাই খাবে পাবলিকে বেশি। কিন্তু বসুনিয়ার শেষ সময়ে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও আপনি কি অনুমান করতে পারেন যখন বাধ্য হয়ে তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা মাছগুলো তুলে দিচ্ছিল তখন মনে মনে ঠিক কী বলতে পারে এইসব মাঝিরা?

পরেরদিন সকালে শুরু হলো গণ-ডায়রিয়া আমাদের। দুবার টয়লেট-প্যারেড করে একটা ঘুম দিয়ে দুপুরে খেতে বসলাম ভাত। এখনও সেই গতকালের মাছ। এক কোষ ভাত মুখে তুলেই প্লেট রেখে দিয়ে উঠে গেলাম নৌকার কোনায়। আপনি তাকালেন- কী হলো?
- কিছু না। আসছি

দৌড়ে নৌকার কোনায় গিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেই- ওয়াক...

ভেতর থেকে বের হয়ে এলো নাড়িভুঁড়ি ছেঁড়া বমি- ওয়াক...

গতকালের যা কিছু সকালেই তা অবিরল ধারায় কমোড বেয়ে সুন্দরবনের নদীতে গেছে। বাকি যে গন্ধটুকু ছিল তাও বের হয়ে এলো। কিন্তু আমি বুঝলাম না কিছুই। কুলি করে আবার এসে খেতে বসলাম। পাশের টুলে রেখে গিয়েছিলাম ভাতের প্লেট। প্লেটটা তুলতে গিয়ে দেখি প্লেটটা ওখানে নেই। পড়ে গেছে। বোকার মতো আমি জিজ্ঞেস করলাম- প্লেটটা কি আমিই ফেলেছি?

আমি ছাড়া আর ফেলবে কে। এটাই ছিল সবার চোখের উত্তর। কিন্তু আমি জানি টুলের ওপরে রাখা প্লেটটায় আমার স্পর্শও লাগেনি একবার...। প্লেটটা আমি ফেলিনি। সুন্দরবনের প্রকৃতি ফেলেছে এই প্লেট। এই ডায়রিয়া- এই বমি- এই ভাতের পাত ফেলে দিয়ে সুন্দরবনের প্রকৃতি আমাকে বারবার জানিয়ে দিচ্ছিল- মাছ নয়; মাছ নয়; মাঝিদের মাংস এইসব খাবার...

হাঃ হাঃ হাঃ মুস্তাফিজ ভাই

আপনারা কেউ সাক্ষী না থাকলে আমি কিন্তু ডায়রিয়া-বমি-ভাত তিনটাকে একই ব্লেন্ডারে ফেলে একখান সততা-শিক্ষার মডেল বানিয়ে ফেলতে পারতাম নিজেকে। কিন্তু এক টয়লেটে সবার ঠেলাঠেলিতে সকালেই আবিষ্কার হয়ে গেছে গতরাতের প্রচুর মসলামাখা তরকারিই ছিল ঝামেলার কারণ

পড়ে যাওয়া ভাত গলুইয়ের নিচে আটকানো মুরগিগুলোকে দিয়ে ওহাব আবার ভাত এনে দেয় আমাকে। ...সেই মাছ। খেলাম আবার...

তখন নৌকা এসে দাঁড়াল ভুলে যাওয়া নামের আরেকটা ফরেস্ট ফাঁড়ির সামনে। প্রায় আট দশ ফুট বেজের উপরে ইটের বাংলো টাইপ দালান। ওখানে মোবাইলের অ্যান্টেনা আছে। ফোন করার জন্য হুড়মুড় করে নেমে গেলো সবাই। কেউ ফোন করল আর কেউ বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে গেলো যাদের ফোনের তাড়া নেই। আমিও বসলাম বারান্দায়। এবং এক দৌড়ে নেমে গেলাম নিচে। ঘাসের কাছে- ওয়াক...

দ্বিতীয়বারে খাওয়া পুরো ভাত ঢেলে দিলাম ঘাসে। ভরা পেটে বমি করা বেশ আরাম। প্রতিটা ধাক্কায় শ্যালো পাম্পের মতো মুখ ভরে বের হয়ে আসে বমি। কিন্তু খালি পেটের বমিতে জান বের হয়ে আসে। একেকটা ধাক্কায় নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে আসতে চায় কিন্তু এক দু চামচ শ্লেষ্মা ছাড়া পড়ে না কিছুই...

...তখনও আমি বুঝে উঠতে পারিনি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভাষা। প্রকৃতি তার নিজের ভাষায় আমাকে দুবার নিষেধ করলেও আমি অনুবাদ করতে পারেনি বনের শব্দমালা। আমি আবারও ভরপেট সেই মাছ খেয়ে বাংলোর ব্যালকনিতে বসে বিড়ি ধরিয়েছি। যতদূর চোখ যায় সামনে নিজের নিয়মে সাজানো সুন্দরবন। জোয়ারের পানি তখন সন্ধ্যার আগে পা ধুইয়ে দিচ্ছে বৃক্ষরাজির...

তাকিয়ে থাকতে থাকতেই হঠাৎ আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। পাশে বসা কাউকে দেখতে পাই না আমি। আমার চোখ আটকে আছে নদীর অন্যপাড়ে দূরের একটা বিশাল কেওড়া গাছে। প্রথমে কেওড়া গাছটা তার নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে একটু নড়ে উঠে। তারপর এক ঝটকায় মাটি থেকে নিজের শেকড়গুলো খুলে নিয়ে নদীর উপর দিয়ে হাঁসের মতো ভাসতে ভাসতে আসতে থাকে আমার দিকে। আমি স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি। একটুও নড়তে পারছি না আমি। হাতের বিড়িতেও পারছি না টান দিতে। একজন ঋষি মানুষের মতো ঝাঁকড়া কেওড়াগাছটা নদী পার হয়ে এসে বাংলোর ব্যালকনির নিচে সিঁড়ির কাছে দাঁড়ায়। আমি তাকিয়ে আছি। সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে গাছটা একটা দীর্ঘ ডাল বাড়িয়ে ব্যালকনিতে বসা আমাকে পেঁচিয়ে ধরে গলায়। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না তখন। গাছটা আমাকে টানতে টানতে নিচে নামিয়ে নিয়ে যায় তার গোড়ায়। তারপর আমাকে ধরে রেখেই হরিণে সবগুলো পাতা খাওয়া কাঠির মতো আরেকটা ডাল সোজা এনে নলের মতো ঢুকিয়ে দেয় আমার মুখের ভেতর। মুখ থেকে গলা বেয়ে পাকস্থলীতে গিয়ে থামে ডালটা। তারপর পেটের ভেতরে ডালের মাথাটা একটু বাঁকিয়ে হঠাৎ এক হ্যাঁচকা টানে প্যান্টের পকেট ঝাড়ার মতো করে আমার পুরো পাকস্থলীটাকে বের করে নিয়ে আসে মুখের বাইরে। হুড়মুড় করে গাছের গোড়ায় ছিটকে পড়ে পেটের ভেতর যা কিছু ছিল সব। ...চাবানো মাছ। পানি। গলে যাওয়া ভাত...

তারপর অনেকগুলো ছোট ছোট পাতাওয়ালা ডাল এগিয়ে এসে পুরো পাকস্থলীটা মুছে দিতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেখানে একটা টুকরো মাছের গন্ধও থাকে। তারপর আবার এক ধাক্কায় পাকস্থলীটা ভেতর ঢুকিয়ে আমাকে ছেড়ে দিয়ে গাছটা নদী পার হয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে এক ঝটকায় আবার সাধারণ গাছ হয়ে যায়। আর ঘোর ভেঙে আমি নিজেকে আবিষ্কার করি বাংলোর সিঁড়ির নিচে বমিতে মাখামাখি। ... আর ঠিক তখনই আবিষ্কার করি- সুন্দরবনের এই প্রকৃতি চায় না মাঝিদের মাংস মাখা মাছের কোনো গন্ধ আমার ভেতরে যাক... মাছ নয়। মাছ নয়; মাঝিদের রক্তের দলা এই সব;

বলেন তো দ্বিতীয় বমিটাকে এভাবে বর্ণনা করলে জিনিসটা কোথায় দাঁড়াতো? পুরো একটা আদর্শবাদী সাহিত্য হয়ে যেত কাহিনীটা। কিন্তু আফসোস। আপনারা সবাই ওখানে বসা ছিলেন দিনের আলোয়। আপনারা সবাই দেখলেন আমি বাপ্পী ভাইর কাছ থেকে গ্যাসের টেবলেট আর খাবার স্যালাইন নিলাম

এই বমিটার সাথে কিন্তু প্রথম বমির পরে একজনের একটা কমেন্ট যোগ দিয়ে রীতিমতো শ্রেণিসংগ্রাম আর শ্রেণিশোষণ বিষয়ক ওয়াজ মাহফিলের লেকচার বানিয়ে ফেলা যায়;

সুপ্রিয় কমরেডগণ আপনারা জানেন। নিপীড়িত নির্যাতিত আমার কমরেড জেলে ভাইদের রক্ত জল করা মাছ যখন সামন্তবাদী চক্রান্তে আমার পেটে গিয়ে শ্রেণিসংগ্রামের প্রতিশ্রুতির কারণে উগলে বেরিয়ে আসছিল বমি হয়ে। তখন একজন আমাকে বলে- কুত্তার পেটে ঘি ভাত হজম হয় না

মানে কী বুঝছেন কমরেডগণ? না বোঝেন নাই। আপনারা ভাবছেন সেই লোক মাছ খাওয়ার খোঁটা দিয়েছে আমাকে? না ভুল। জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেড়ে নিয়ে খাওয়াকে ওরা জায়েজ করে ফেলেছে বহু শতাব্দী ধরে। ওইটা এখন আর মাথায়ও নাই তাদের। সে ইঙ্গিত করেছে গতকালের খাওয়া বিদেশি মদের

কমরেডগণ। আপনারা জানেন এইসব সাম্রাজ্যবাদীরা মানুষকে লোভ দেখিয়ে; সুবিধা দিয়ে নিজের দলে ভিড়াতে চায়। আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চায়। কারণ মানুষ যত বিভক্ত হবে ততই তাদের লাভ। ততই মুনাফা তাদের। ঐতিহাসিক সেই পুঁজিবাদী চক্রান্তের নীল নকশায় তারা আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মদের আসরে নিয়ে যায়। গ্লাসের মধ্যে ঢেলে দেয় আমাদের আদিবাসী কমরেডদের ঘরে তৈরি করা চুয়ানির মতো স্বচ্ছ সাদা পানি। আমি সরল মনে তা মুখে দেই। গন্ধটা চুয়ানি থেকে একটু কম ছিল বলে আমি ধরে নেই সুন্দরবনের খোলা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেছে চুয়ানির সুবাস

কিন্তু কমরেডগণ। পরিকল্পিতভাবে তারা আমাকে মদের বোতল দেখায় না। যখন আমি পুরাপুরি টাল তখন তারা আমাকে বোতল দেখায়। বোতল দেখেই চমকে উঠে নেশা কেটে যায় আমার। মুহূর্তের মধ্যে আমি ধরে ফেলি মুনাফাখোর সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের নীল নকশার ছক। আমি চিনে ফেলি এরা কারা। কেন তারা গেলাস বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গেই আমি ধরে বসি এমএম মানে মদ-ম্যানেজারকে। কাউকে বাদ দেই না আমি। তিন তিনটা সেমিঅটোমেটিক রাইফেলের সুরক্ষিত পাহারা তুচ্ছ করে একে একে সবার মুখোশ উন্মোচিত করি আমি। রাইফেলকে কেন ভয় পাব আমি? কাকে ভয় পাব আমি? আমার একার জীবনের কী দাম যদি না একটা শ্রমিকের এক এক ফোঁটা রক্তকে শোষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারি?

যখন তারা দেখল তাদের মুখোশ খুলে গেছে। তখন লেজ গুটিয়ে মদের সবগুলো বোতল লুকিয়ে ফেলল নৌকার গলুইয়ের ভেতর। আর পরের দিন যখন তাদেরই চক্রান্তে জলমজুরের প্রাণের মাছ খেয়ে বমি করছি আমি; তখন আমাকে দুর্বল আর একা পেয়ে তারা প্রমাণ করতে চাইল যে বাংলামদ খাওয়া আমার পেটে বিদেশি মদ হজম হয়নি তাই বমি করছি আমি...

কমরেডগণ। এরা সেই শ্রেণীর মানুষ। যারা শ্রমিকের রক্ত খেয়ে রক্তশূন্যতার দায় শ্রমিকের ঘাড়ে চাপায়। তারা জেলের কাছ থেকে মাছ ছিনতাই আড়াল করতে বমির দায় আমার হজমশক্তির উপর চাপায়। কিন্তু আপনারাই বলেন মদ খেয়ে কি সতেরো-আঠারো ঘণ্টা পরে বমি করে কেউ? আমি বমি করেছি কারণ আমি চিনতে না পারলেও আমার প্রতিটা রক্ত কণিকা ঠিকই চিনতে পেরেছ এই মাছ আমার কমরেডের রক্তের ফোঁটায় তৈরি মাছ। তাই আমার শরীর উগরে দিয়েছে এই মাছ...

কিন্তু আমি সেই যুক্তির ধারে কাছেও যাই না কমরেডগণ। আমি বলি- সত্যিই তো। বিদেশি মদ তো আমার পেটে হজম হবার কথাই নয়। কারণ আমার প্রতিটা রক্ত কণিকা জানে এই এক বোতল মদের দাম আমার একটা শ্রমিকের এক মাসের মজুরির সমান। আমার চাষির; আমার শ্রমিকের রক্ত পানি করা টাকা কেড়ে নিয়ে কারা রাতের অন্ধকারে মাতাল হবার জন্য এইসব মদ আমদানি করে আমি জানি। তাই এই মদ হজম হয় না আমার। আমার পেটে এইসব মদ হজম হয় না কারণ আমি জানি এইসব লাল-সাদা পানির জন্য প্রতিবছর যত টাকা বিদেশে পাচার করা হয় রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে... সেই টাকায় অত হাজার শ্রমিকের জন্য বাড়ি হয় প্রতি বছর। মাত্র অত বছর বিদেশ থেকে এইসব মদ আমদানি বন্ধ করলে আমার দেশের প্রতিটা কৃষক নিজের গাড়ি নিজে চালিয়ে ধান ক্ষেতে গিয়ে লাঙ্গল চালাতে পারে... আমি জানি এইসব। তাই এই মদ আমি চিনতে না পারলেও আমার প্রতিটা রক্ত কণিকা জানে এইটা মদ নয়। আমার ভাইয়ের রক্ত আর ঘাম...

আহারে...
আবারও মিস করলাম দুর্দান্ত একটা লেকচারের টপিক। এ জীবনেও আর শ্রেণিসংগ্রাম বিষয়ক একটা লেখা তৈরি করা হলো না আমার...

শ্রেণিসংগ্রাম আসোলেই একটা অসাধারণ স্কুল। যেখানে গিয়ে খুব সহজেই শিখে আসা যায় মানুষের ঠিক কোন জায়গায় শিঙা লাগালে একটানে সবগুলো রক্ত শুষে নেয়া যায়। দেখেন না এ যাবতকালে দেশে যতগুলো সরকার হয়েছে তারা নিজেরা শ্রেণিসংগ্রামি না হলেও প্রতিবারই মন্ত্রীপরিষদ ভর্তি থাকে শ্রেণিসংগ্রামের ইস্কুল পাশ করা লোকে? এরা শ্রেণিসংগ্রামের নামে মানুষের ভেতর গিয়ে জেনে এসেছে ঠিক কোন জায়গায় কামড় দিলে মানুষ মরার আগে আর টুশব্দও করতে পারে না জীবনের মতো। এইজন্যই একা ইলেকশনে দাঁড়ালে পাঁচশো ভোট না পেলেও সব সরকারেই এদের অত বেশি দাম...

এই লেকচারটাও কিন্তু যেকোনো সময়ের যেকোনো বিরোধী দলের সড়কবক্তৃতার খসড়া হিসেবে বিক্রি করে দেয়া যায়। বাংলাদেশে সব সময়ই এই বক্তৃতাটা ফিট করে দেয়া যাবে একটু এদিক সেদিক ঘুরিয়ে। কিন্তু সেই সুযোগটাও নাই আমার। কারণ নিজেকে শ্রেণিদরদি হিসাবে প্রমাণ করতে পারিনি আমি। না পত্রিকায় লিখেছি কিছু। না কোনো পোস্ট দিয়েছি ব্লগে শ্রেণিসংগ্রামের পক্ষে। তাই কেউ খাবে না আমার এই ড্রাফট। আফসোস...

এজন্যই কি আপনি আমাকে সুন্দরবন যেতে বলেছিলেন? এসব কি আপনারও চোখে পড়েছিল? চোখে পড়েছিল কি মাঝিদের কাছ থেকে কেজি দুই টোপ নিলেও আব্দুল ওহাব আর এমদাদ বঁড়শি বাইছিল মুরগির নাড়িভুঁড়ি দিয়ে? চোখে পড়েছিল কি এই চার আর মাছ খাইয়ে বাপ্পী ভাই চারটা মুরগি সেভ করে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল ফেরত? ওসবের কি কোনো ছবি তুলেছিলেন আপনি?

ধুত্তুরি...

২০০৯.০৮.২৫-২৬ মঙ্গল-বুধবার

Monday, November 8, 2010

সুন্দরবন পাহারা দেবে ৭৬ গ্রামের মানুষ

বন থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্ধেক দেওয়া হবে গ্রামবাসীকে

সুন্দরবন পাহারা দেবে ৭৬ গ্রামের মানুষ

ইফতেখার মাহমুদ | তারিখ: ২৪-১১-২০১০

সুন্দরবনসংলগ্ন ৭৬টি গ্রামের মানুষ বন বিভাগের পাশাপাশি বনের প্রাকৃতিক সম্পদ পাহারা দেবে। বন সংরক্ষণে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে গ্রামবাসীকে সুন্দরবন থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্ধেক দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন বিভাগ ও গ্রামবাসীর এই যৌথ বন পাহারা কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সুন্দরবন সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য সরকার নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্র জানায়, সুন্দরবনে পর্যটন বাবদ বর্তমানে বছরে এক কোটি টাকা আয় হয়। প্রাথমিকভাবে এই টাকার অর্ধেক গ্রামবাসীকে দেওয়া হবে। বনের মধু ও গোলপাতা আহরণের মাধ্যমে যে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা আসে, শিগগিরই তারও অর্ধেক গ্রামবাসীকে দেওয়া হবে। অর্থ বিভাগের কাছ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার মানুষের এই বনের সম্পদের ওপর কোনো আইনগত অংশীদারি নেই। অথচ এসব মানুষের একটি অংশ বনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বন বিভাগের জনবল কম হওয়ায় সুন্দরবন রক্ষা তাদের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আবার অসাধু চক্রের সঙ্গে মিলে বেআইনিভাবে বনের বিভিন্ন সম্পদ চুরিতে জড়িয়ে পড়ছে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী জেলার ছয়টি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের দুই লাখ ২৭ হাজার ৭২৭ জন অধিবাসীকে বন সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। প্রতিটি গ্রামে আট থেকে ১০ জনের একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবার থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই কমিটির সদস্য করা হবে। বন বিভাগ এসব কমিটির কাজ তদারক করবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিহির কান্তি মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, বনজীবীদের দিয়ে বন রক্ষা করার এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে সফল হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামের মানুষ সফলভাবে বন রক্ষা করলে বন থেকে আসা রাজস্বের অর্ধেক তাদের দেওয়া হবে। এ ছাড়া সামাজিক বনায়নের জন্য তাদের জমিও (প্লট) দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বন রক্ষা করতে গিয়ে কোনো গ্রামবাসী ডাকাত ও বণ্য প্রাণীর হাতে মারা পড়লে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালাও তৈরি হচ্ছে।
গ্রামবাসী মূলত সুন্দরবনের ভেতরে কোনো গাছ চুরি, বণ্য প্রাণী হত্যা বা পাচারের ঘটনা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে। বন প্রহরীদের সঙ্গে টহলেও তারা যোগ দেবে, তবে তাদের হাতে কোনো অস্ত্র দেওয়া হবে না। কোন দিন ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে, তা গ্রামবাসীই ঠিক করবে।
সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক ফিলিপ গাইন প্রথম আলোকে বলেন, বনজীবীদের সম্পৃক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বন বিভাগের দুর্নীতি কমাতে না পারলে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা অংশের অনেক জমি চিংড়ি চাষিদের দখলে। বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষের কারণে ওই এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিতভাবে নিঃস্ব হয়ে ক্রমাগতভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। চিংড়ির চাষ টিকিয়ে রেখে সুন্দরবন রক্ষা করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, সুন্দরবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকা নিয়ে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা করা দরকার।
২০০৪ সালের বননীতিতে বলা ছিল: ‘বন খাতের উন্নয়নে বনায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মহিলাসহ জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ ১৯২৭ সালের বন আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে: ‘সরকার কোনো গঠিত সংরক্ষিত বনে বা উহার উপর সরকারের অধিকার কোনো গ্রামীণ সম্প্রদায়ের উপর অর্পণ করতে পারেন এবং এরূপ অর্পণ বাতিল করতে পারেন।’
সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূল বনভূমির পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত গ্রামবাসীকে তিন ভাগে ভাগ করে বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো ঘরবাড়ি ও জমি নেই এবং জীবিকার জন্য বছরের বেশির ভাগ সময় সুন্দরবনের মধ্যে অবস্থান করে—এমন মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া গ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের এই উদ্যোগে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের উপকারভোগীদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হবে। তবে গ্রামবাসীর জন্য কোন ধরনের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা গ্রামবাসী নিজেরাই ঠিক করবে।
সূত্র বলছে, বন বিভাগ থেকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ৬৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি তদারকিতে ২৯ সদস্যের আরেকটি কমিটি কাজ করবে।
Source:

Prothom Alo


Thursday, November 4, 2010

নিসর্গের সৌন্দর্যভূমি নেত্রকোনা

নিসর্গের সৌন্দর্যভূমি নেত্রকোনা

মোঃ জাভেদ হাকিম
ইতিহাস-ঐতিহ্যের ও পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা নেত্রকোনা। ভ্রমণপিপাসু সংগঠন ‘দে ছুট’ ছুটি পেয়েই ছুটেছে সেখানে। নেত্রকোনা শহরের বড় বাজারের আপন সুজের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা নির্বিঘ্নে ভ্রমণের সব প্রস্তুতি করে রেখেছিলেন। পুরনো শহর, মগ্রা নদীর তীরে অবস্থিত। এক সময়কার প্রমত্তা মগ্রা এখন কোনো কোনো স্থানে হেঁটেই পার হওয়া যায়। বুকের ভেতর হাহাকার করে ওঠে যেন বলার কেউ নেই। দেখা হলো শতবর্ষী বটবৃক্ষ, সুফি আঃ জব্বার (রহ.) স্থাপিত ঐতিহাসিক বড় বাজার জামে মসজিদ। শহরে বড় বড় কয়েকটি দীঘি রয়েছে। যেগুলো দ্বারা শহরটি হয়েছে সমৃদ্ধ। মসজিদ-মন্দিরগুলো পাশাপাশি, যা কিনা সম্প্রীতির সাক্ষী। জেলার নামকরা খাদ্য বালিশ (মিষ্টি)। বড় বাজারের সুধীজন হাজী মোঃ আশ্রাফ আলী ‘দে ছুট’ দলকে আপ্যায়ন করালেন। দেখা হলো সুসং দুর্গাপুরের বিজয়পুর গ্রামের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়া চীনা মাটির ন্যাড়া পাহাড়। যে মাটি দেশের সিরামিক শিল্পের জন্য ব্যবহৃত হয়।
চারদিকে সবুজ বৃক্ষে মোড়ানো পাহাড়, মাঝে সমতল ভূমি। পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী। দু’তীর সিলিকন বেলাভূমি। স্বচ্ছ টলটলে নদীর জলের তলদেশ। ১৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের পাহাড় থেকে দুর্গাপুরের সৌন্দর্য দু’নয়ন ভরে উপভোগ করা যায়। সুসং দুর্গাপুরে অবস্থিত ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়া উপজাতি টঙ আন্দোলনের মহান নেতা মণি সিংহের স্মৃতিসৌধ, আরও আছে আদিবাসী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আগে থেকেই যোগাযোগ করলে গারো আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য উপভোগ করা সম্ভব।
রানীকং দুর্গাপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এবার যাচ্ছি লেঙ্গুরা। পিচ করা রাস্তা, পানি কেটে চলা, সুড়ঙ্গ পথ, কখনও ধুলোর আস্তরণ, খড়খড়া সুড়কি, কখনওবা সোঁদা মাটির গন্ধ শুঁকে মোটরসাইকেল সামনে এগিয়ে চলা। দুর্গম অঞ্চল, প্রচণ্ড কষ্টে গুটিকয়েক বন্ধুর চিত্কার, ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর, দু’একজনের এলোমেলো কথা তখন সিদ্ধান্ত নেই এদের নিয়ে আর ভ্রমণে আসব না, কিন্তু যখন ওরা প্রকৃতির নতুন কোনো এক রূপ আবিষ্কার করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলে, ‘দোস্ত তোর জন্যই আমাদের এ প্রাপ্তি’ তখন নিমিষেই সব ভুলে যাই। পথের দু’পাশের দৃশ্য বাংলার চিরায়িত সৌন্দর্যের রূপ। অগ্রহায়ণ মাস, পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে মন আনচান। ফসলের মাঠে কৃষাণ-কৃষাণির হাসির সঙ্গে আমরাও একাত্ম হয়ে যাই। উপজাতি মেয়েরা মনের আনন্দে ধান কাটছে। পাহাড়ের ঢালুতে গভীর বন। কোনো কোনো স্থানে রক্ত জমাট হওয়ার মতো হিম ঠাণ্ডা। আদিবাসীদের বসতভিটা সে এক অন্যরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি। সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যটন বিভাগ আন্তরিক হলে নেত্রকোনা জেলাকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রে যখন পর্যটক আকর্ষণে কৃত্রিম স্থাপনা তৈরিতে ব্যস্ত তখন আমরা চোখ মেলে ঘুমিয়ে। ‘দে ছুট’-এর এবারের ভ্রমণ সঙ্গী জসিম, কচি, কালাম এবং অলরাউন্ডার টুরিস্ট আক্তার। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা সাড়ে ৭টার মধ্যে কিছুক্ষণ পরপর বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া গেটলক ২০০ টাকা। শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের মধ্যে আল নূর রাতযাপনের জন্য যথেষ্ট ভালো। ভাড়া ডাবল বেড ৩৫০ টাকা। খাওয়ার জন্য স্টেশন রোডের আলেফ খাঁর হোটেল ও বিকালের নাস্তার জন্য বড় বাজারের ইসমাইলের হোটেল। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনির জন্য বিখ্যাত। দুর্গাপুর, লেঙ্গুরা যাওয়ার জন্য লোকাল বাস আছে। বেবিট্যাক্সি আছে, তবে মোটরসাইকেল উপযুক্ত বাহন। সারাদিনের জন্য মোটরসাইকেল প্রতি এক হাজার টাকা ভাড়া, যাবতীয় খরচ তাদের। মোটরসাইকেল ভাড়া করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যে, চালক অভিজ্ঞ কিনা। আর একটি বিষয় এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো চালক যেন মাদকাসক্ত না হয়। সীমান্ত এলাকায় গিয়ে আপনাকে গাইড না করে সে নিজের নেশাদ্রব্যের আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে এমন সতর্কতা আমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন অনেকে। দু’দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি ২ হাজার ২শ’ টাকা হলেই যথেষ্ট। বসন্তে হালকা শীতেই ভ্রমণ পিপাসু বন্ধুরা ঘুরে আসুন প্রকৃতি কন্যা নয়ন জুড়ানো নেত্রকোনা।
ছবি : লেখক

ভ্রমণেও থাকুন সুস্থ

ভ্রমণেও থাকুন সুস্থ

বেড়াতে যাওয়ার প্রায় দিন পনের আগে থেকে শুরু হয়ে গেল মারিয়ার ব্যস্ততা। কী কী জিনিস সঙ্গে নেবে বা নেয়া প্রয়োজন, কী বাঁধলে আবার বোঝা হবে—এ নিয়ে তার টেনশনের শেষ নেই। নিজে তো ব্যস্ত হলোই, আশপাশের মানুষও তার ব্যস্ততা থেকে রক্ষা পেল না। এতসব আয়োজন, ব্যস্ততা—সবই ভণ্ডুল হয়ে গেল যখন বেড়াতে যাওয়ার দিন সকালে তার জ্বর এসে গেল।
বেড়াতে যাওয়ার অতি উচ্ছ্বাস আর আনন্দেও কিন্তু অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কিছু কিছু বিষয় খেয়াল করলে বেড়াতে যাওয়ার আগে তো বটেই, এমনকি ভ্রমণের পুরো সময়টাতেই ভালো ও সুস্থ থাকা যায়। ফলে আপনার ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
অনেকেই আছেন যাদের ধারণা, বেড়ানোর অর্থই হলো সবকিছুতে অনিয়ম করা। ঘড়ির কাঁটা নয়, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে তখন মন নামক বিষয়টি। কিন্তু যারা এমন করেন ভ্রমণের সময় তারাই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন; বরং নিয়ম-শৃঙ্খলার ভেতরে থেকে ঘুরে বেড়ালে সবকিছুই থাকে একদম ঠিক।
ভ্রমণের সময় কিছু কিছু সমস্যা আছে যেগুলো কম-বেশি সবারই হতে পারে। যেমন—মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, ঘুমের অসুবিধা, সর্দি-কাশি, জ্বর-বমি ইত্যাদি। এর মধ্যে পেটের সমস্যায় অধিকাংশ মানুষ ভোগে। এর প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো খাবার-দাবার ও পানি। ভ্রমণের সময় সবচেয়ে ভালো হলো সেদ্ধ খাবার খাওয়া। এর সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে ফলমূল ও শাক-সবজি; বিশেষত যেসব ফল খোসা ছাড়িয়ে বা কেটে খেতে হয়, যেমন—কলা, আম, তরমুজ, পেঁপে ইত্যাদি।
ভ্রমণের সময় বিশুদ্ধ পানি পানের প্রতিও নজর দিন। অসুস্থ হয়ে পড়ার মূলেই থাকে এই পানি। যেখানে সেখানে পানি পান করবেন না। ভ্রমণের সময় যেহেতু পানি ফুটিয়ে পান করার কোনো সুযোগ নেই, তাই চেষ্টা করুন ভালো কোনো কোম্পানির বোতলজাত পানি পানের। আবার সবখানে বোতলজাত পানির নামেও নোংরা পানি বিক্রি হয়। এ ঝামেলা এড়াতে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি জীবাণুমুক্ত করে নিন। শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, হাত-মুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ, কনট্যাক্ট লেন্স পরিষ্কার, বাসনপত্র ধোয়ার কাজেও এ পানি ব্যবহার করুন।
ভ্রমণের সময় সঙ্গে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ রাখুন। এর মধ্যে থাকতে পারে বেদনানাশক ওষুধ, জ্বরের ওষুধ, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ইনসুলিন, ইনহেলার, স্যালাইন, কুইক ব্যান্ডেজ, স্যাভলন, মশার ক্রিম ইত্যাদি। এছাড়াও সঙ্গে রাখুন ছুরি, কাঁচি, দিয়াশলাই, টর্চ, মোমবাতি, নেলকার্টার ইত্যাদি।
ভ্রমণ মানেই হলো পেছনের যত অবসাদ আছে তা ঝেড়ে ফেলে সামনের কাজের জন্য শক্তি সঞ্চয় করা। তাই ভ্রমণের সময় অসুখ বাঁধিয়ে সামনের দিনগুলো যেন নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। সবকিছু সুন্দর করে গুছিয়ে, সুন্দর মনে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ুন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে।

Wednesday, November 3, 2010

হারিয়ে যাওয়া রাঙামাটি শহর

পাহাড়, হ্রদ আর জঙ্গলের মেলবন্ধন

পাহাড়, হ্রদ আর জঙ্গলের মেলবন্ধন

পাহাড়, হ্রদ আর জঙ্গলের মেলবন্ধন

বাংলাদেশে পাহাড় ও হ্রদ একসঙ্গে দেখ যাবে—এ রকম জায়গা খুব কম, এর মধ্যে রাঙামাটি একটি। আগে রাঙামটি ঘুরে দেখলেও পাহাড়ি গ্রাম বা আদিবাসীদের জীবনযাত্রার পরিচয় পাইনি। আমরা কয়েকজন বন্ধু লোকালয় থেকে একটু দূরে এমন কোনো জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম, কোথায় যাব ভাবছি। এ সময় রাঙামাটির বিলাইছড়ি থেকে এক বন্ধুর দাওয়াত পেয়ে হাতে যেন চাঁদ পেলাম।
আমরা সাত বন্ধু- দুই জোড়া দম্পতি ও তিনজন ব্যাচেলর বিলাইছড়ি রওনা দিলাম। রাতে সরাসরি কাপ্তাইয়ের বাসে রওনা দিয়ে সকাল আটটার মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেলাম। খবর নিয়ে জানা গেল, সাড়ে নয়টায় বিলাইছড়ির ট্রলার যাত্রা শুরু করবে, এরপর প্রতি ঘণ্টায় ট্রলার আছে। আমরা প্রথম ট্রলারেই রওনা দিয়ে ১১টার দিকে পৌঁছে গেলাম বিলাইছড়ি।
এখানে রাস্তা তেমন নেই। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়া ঘুরতে গেলেও নৌকা লাগে, তবে এখন কয়েকটি সেতু হয়েছে। আমরা নৌকা নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের গাইড হলো স্থানীয় একজন চাকমা। জানা গেল, বিলাইছড়ি উপজেলার নাম হয়েছে একই নামের ঝরনা থেকে। ছড়ি অর্থ ঝরনা আর বিলাই মানে স্থানীয় ভাষায় বাঘ। অনেক আগে প্রথম লোকবসতি শুরুর সময় এখানে ছড়ি থেকে পানি আনতে গিয়ে এক পাহাড়ি বধূ বাঘের সামনে পড়ে যায়, তখন থেকে ওই ঝরনার নাম হয়ে যায় বিলাইছড়ি এবং সংলগ্ন লোকালয় একই নামে পরিচিত হয়ে যায়। ‘তবে এখন সেই রামও নাই এবং অযোধ্যাও নাই’-এর মতো এখানে কোনো বাঘ নেই। তবে এখনো ওই ঝরনা বা ছড়ি দেখা যায়।
কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষে পাহাড়, নদী, জঙ্গল ও হ্রদ নিয়ে সুন্দর একটি উপজেলা বিলাইছড়ি। অপ্রতুল যোগাযোগব্যবস্থা, তেমন প্রচার না হওয়ায় এই এলাকা এখনো লোকজনের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠেনি। গাড়ির হর্ন, কোলাহল ও নাগরিক জীবনের অপ্রিয় কিন্তু এড়ানো সম্ভব নয়,—এ ধরনের সব জিনিস এখানে এসে ভুলে থাকা যায়। অলস ঘুঘুডাকা দুপুর এখনো পাওয়া যায়। এখানে দেখার মতো প্যাগোডা, কমলা বাগান, পাহাড়, নদী, হ্রদ আছে। তবে এখানকার সহজ-সরল আদিবাসীদের সঙ্গে না ঘুরলে বা কথা না বললে ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যাবে।
বিলাইছড়িতে গেলে বাজার অবশ্যই ঘুরবেন, আদিবাসীদের নানা রকম পাহাড়ি বনজ ও অপ্রচলিত খাবার, যেমন—আদা ফুল, হলুদ ফুল, বাঁশের খোড়ল, শামুকসহ নানা রকম পাহাড়ি ঢেঁকিশাক দেখতে পাবেন। তবে সবজি দেখতে সুন্দর হলেই যে খেতে ভালো হবে, এই ধারণা নিয়ে বাজারে গেলে এবং আগে এ ধরনের খাবার না খেলে কিঞ্চিত অসুুবিধায় পড়তে হতে পারে। আমাদের সহযাত্রী মেয়েরা এই সুন্দর ফুল দেখেই কিনে ফেলল এবং খাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিল। কিন্তু একবার মুখে দেওয়ার পর মনে হলো, ফুল হাতে এবং চুলেই ভালো, রান্নাঘরে বা খাবার প্লেটে নয়।
বিলাইছড়িতে খাবারের খুব ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজেরা বাজার করে হোটেল থেকে রান্না করিয়ে নেওয়াই ভালো। কাপ্তাই লেকের মাছ না খেলে ভ্রমণের মজা অন্তত বারোআনাই মাটি। আমরা মাছ ধরার চেষ্টাও চালিয়েছি ধার করা বড়শি দিয়ে, কিন্তু ভাগ্য বিরূপ। কাঁকড়াও পেলাম না, শেষ পর্যন্ত বাজারই ভরসা।
বিলাইছড়িতে গেলে প্রথমেই ঘোরা উচিত ভিন্ন উপজাতিদের পাড়াগুলো। প্রতিটি উপজাতির আছে আলাদা ঐতিহ্য, আলাদা কাহিনি। এ ছাড়া কমলা বাগান, কাজুবাদামের বাগান ঘুরে দেখা যায়। তবে কাপ্তাই হূদ ও নদী অবশ্যই সময় নিয়ে দেখা উচিত। এ জন্য নৌকা নিয়ে ভ্রমণ করা যায়।
এ ছাড়া আশপাশের বেশ কিছু লোকালয় আছে, যেগুলো দিনেই ঘুরে আসা যায়। কিছুটা দূরে ফারুয়া বাজার আছে, পুরো দিন হাতে থাকলে সকালে বেরিয়ে বিকেলে চলে আসা যায়। এ ছাড়া আরও কিছু নাম না জানা পাহাড় আছে। বিলাইছড়ির পাহাড় কাপ্তাই বাঁধের অংশ হিসেবে কাজ করে। তাই মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এক পাশে গভীর গিরিখাদ, অপর পাশে পানিভরা হ্রদ চোখে পড়ে। এটাও দেখা উচিত হ্রদের গভীরতা বোঝার জন্য।
এই মৌসুমে যাওয়ার আগে অবশ্যই রোদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টুপি নিয়ে যেতে হবে। সাঁতার কাটার ইচ্ছা থাকলে কাপড় নিতে হবে। আর টর্চলাইট নিতে ভুলবেন না। কারণ, বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকতে হবে।

কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন
বিলাইছড়ি যাওয়ার আগে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে যাওয়া উচিত। বিলাইছড়ি বাজারে কাঠের দোতলা হোটেল আছে, যদিও থাকার জন্য খুব একটা ভালো বলা যাবে না। এ ছাড়া উপজেলা অফিসের একটি বাংলো আছে, যেখানে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে গেলে ভালো হয়। হোটেলের ভাড়া খুবই কম।
ঢাকা থেকে বিলাইছড়িতে যেতে হলে সরাসরি বাসে কাপ্তাই গিয়ে, সেখান থেকে ট্রলারে বিলাইছড়ি যাওয়া যায়। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। আবার সরাসরি রাঙামাটি বাসে গিয়ে, সেখান থেকে ট্রলারে দুই-আড়াই ঘণ্টা ভ্রমণ করে বিলাইছড়ি পৌঁছা যায়। ট্রলার ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ টাকা প্রতিজনের জন্য। আর পুরো ট্রলার ভাড়া নিতে মোটামুটি ৫০০-৬০০ টাকা লাগবে। ঢাকা থেকে সরাসরি রাঙামাটি যায় এমন বাস আছে—এস আলম, ডলফিন, শান্তিসহ বেশ কিছু পরিবহন সংস্থার।

আসিফ মাহফুজ
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ২৫, ২০১০