Search This Blog

FCO Travel Advice

Bangladesh Travel Advice

AFRICA Travel Widget

Asia Travel Widget

Thursday, June 24, 2010

বান্দরবানে আড়াই ঘন্টা : জাদি ও স্বর্ণ মন্দির দর্শন

বান্দরবানে আড়াই ঘন্টা : জাদি ও স্বর্ণ মন্দির দর্শন

যে প্রোগ্রামের উছিলায় গত রাতে লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) এসেছি সেটা হবে আজ দুপুরে। আমরা কি দুপুর পর্যন্ত ফাও বইসা থাকার পাবলিক ! সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বের হয়ে পড়লাম, উদ্দেশ্য বান্দরবান। কেরানীর হাট থেকে বাসে উঠে সকাল নয়টার দিকে বান্দরবান হাজির হলাম। হাতে সময় ঘন্টাখানেক তাই বেশী দূরে যাওয়া যাবে না, শহরের আশে পাশেই থাকতে হবে।
রিক্সা দিয়ে প্রথমে গেলাম রাজার বাড়ি, বাড়িটি ১৯৩৪ সালে নির্মিত। সেখানে এক ভদ্র মহিলার সাথে দুই/একটা কথা হলো, পরে রিক্সা ওয়ালা জানালো উনি রাজার বড় মেয়ে (মাম্যাচিং) বর্তমানে ইউ.পি চেয়ারম্যান। এতটু দুরেই ছোট্ট একটা টিলার উপর জাদি বৌদ্ধ মন্দির। আজ সেখানে পুজা উৎসব চলছে। দলে দলে বিভিন্ন বয়সের বৌদ্ধ ধর্মম্বলীরা খাদ্য-দ্রব্য, ফুল নিয়ে খালি পায়ে সিড়ি বেয়ে উপড়ে উঠছে।
গতবার বান্দরবন থেকে ফিরে স্বর্ণ মন্দিরের কথা শুনে আফসোস করছিলাম। এইবার আর সেই সুযোগ মিস দেই নাই। সাঙ্গু নদী পার হয়ে শহর থেকে বেশ খানিকটা পথ দুরে পাহাড়ে চুড়ায় স্বর্ণ মন্দির অবস্থিত। দূর থেকে স্বর্ণ মন্দিরের সোনালী চুড়া যেকোন আগন্তুককে আকর্ষন করবেই। আমরা পাহাড় বেড়ে উপরে উঠলাম। মুল স্বর্ণ মন্দিরের প্রবেশ গেট থেকে ১৫২টা সিড়ি খাড়াখাড়ি ভাবে উপরে চলে গেছে। আমরা উঠলাম। শীতের সকালের মিষ্টি রোদ আমাদের সাথী। গেরুয়া কাপড় পরিহিত স্বর্ণ মন্দিরের পুরহিতের কথা শুনে হতাশ হতে হলো। তিনটার পর দর্শনার্থীরা মুল স্বর্ণ মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে আর এখন পুজারী ও যারা দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করতে পারবে তারাই প্রবেশের অনুমতি পাবে।
জিজ্ঞাস করলাম- শ্রোদ্ধা নিবেদন কি ভাবে করে ?
- আমি তোমাকে দেখিয়ে দেব কিভাবে।
ইতিমধ্যে পুরহিতের কথা শুনে ৫/৭ জন (খুব সম্ভবত ইসলাম ধর্মের) লোক দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করার জন্য ভেতরে প্রবেশ করলো এবং শ্রোদ্ধা শেষে মুল স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পেলো। আমি বাইরে দাড়িয়ে দেখলাম।
আমার ট্যুর পার্টনার আরিফ ভাই আর মীর ভাই এতোক্ষনে সিড়ি বেয়ে এখানে এসেছে। আরিফ ভাইকে বললাম, এরা যে নিয়ম বলছে আমাদের তো পালন করা সম্ভব না। হাত জোর করে বৌদ্ধদেবের সামনে মাথা নত করে শ্রোদ্ধা করতে হবে।
এবার আরিফ ভাই আর মীর ভাই পুরহিতের সাথে কথা বললো।
পুরহিতের এবারো জানালো, যারা এখন দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করবে বা পুজা করবে শুধু মাত্র তারাই স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবে। দেখলা না, এখন যারা মন্দিরে প্রবেশ করলো তাদের মধ্যে একজন শুধু হিন্দু আর বাকি সবাই মুসলিম ধর্মের ছিল। তারা তো দেবতাকে শ্রোদ্ধা নিবেদন করে মন্দিরে প্রবেশ করলো। বুঝছি তোমরা শ্রোদ্ধা নিবেদন করতে পারবা না। তোমরা এখন চলে যাও, তিনটার পর আসো তখন ভেতরে যেতে পারব। [ওনার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা হয়েছিল, আমি সেদিকে যাচ্ছি না ]
আমরা মন খারাপ করে সিড়ি বেয়ে নীচে চলে আসলাম। পাহাড়ি পথ দিয়ে আমরা আরো উপড়ে উঠলাম। এদিকটা প্রায় সমতল। এক পাশ থেকে স্বর্ণ মন্দির স্পষ্ট দেখা যায়। আমি আরো উপরে যাওয়া পথ খুজছি। ভেতরের দিকে একটা ছোট্ট খোলা ঘরে বৌদ্ধদেব মুর্তির সন্ধান পেলাম। যেটার পেছনে রয়েছে বন্ধ জলাশয় ! প্রায় দেড়/দুই হাজার ফিট উপরে এই ছোট পুকুর দেখে আমিতো অবাক। এটাই এ পাহাড়ের শেষ প্রান্ত উপরে ওঠার কিছু নাই। এবার ফেরার পালা, স্বর্ণ মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারার কষ্ট নিয়ে বান্দরবান ত্যাগ করলাম।
স্মৃতি : ০৪ জানুয়ারী ২০০৮ইং / শুক্রবার।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৬

Source:www.somewhereinblog.net, নতুন দিনের মিছিলে

Thursday, June 10, 2010

বগালেক, রূমা, বান্দরবান

বগালেক, রূমা, বান্দরবান

By: Anisuzzaman Russell
বগালেক বা বগা হ্রদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির একটি হ্রদ।
ড্রাগনের লেক বা বগালেকের অবস্থান বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে। বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। রুমা বাজার থেকে দুইভাবে বগা লেকে যাওয়া যায়। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী প্রিয় হন তো হেঁটে রওনা দিতে পারেন অথবা শুস্ক মৌসুমে যেতে পারেন চাঁন্দের গাড়ি করে। আপনি যে ভাবেই যান না কেন, রুমা বাজার থেকে বাধ্যতামুলক ভাবে সাথে অন্তত একজন গাইড নিতে হবে এবং রিপোর্ট করতে হবে রুমা আর্মি ক্যাম্পে।

গাইডকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে দিতে হবে। চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করলে আড়াই হাজার টাকা পড়বে।

হাঁটা পথে ঝিরিপথ ধরে গেলে সময় লাগবে ৫ ঘন্টার মত। এই পথে আপনাকে পাড় হতে হবে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়ি ধিরি। আর শুস্ক মৌসুমে চাঁন্দের গাড়িতে গেলে সময় লাগবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত। পথে পরবে অনেক ছোট বড়ো টিলা। কোন কোন সময় চাঁন্দের গাড়ি এতটাই বাঁকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে যে, তখন সামনে আকাশ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। শুস্ক মৌসুমে সাঙ্গু নদীতে পানি না থাকা এক সময় চাঁন্দের গাড়ি সাঙ্গু নদী ও পাড় হবে। যাওয়ার পথে কখনো পড়বে বিশাল পাহাড়ি কলার আর নাম না জানা অনেক ফলের বাগান। বগা লেকের নিচ থেকে ট্রাকিং করে উপরে উঠতে আপনার সময় লাগবে ৪৫ মিনিটের মতন। প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাকৃতিক ভাবে পাহাড়ের চূড়ায় এই লেক তৈরি হয়। এর আয়তন ১৫ একর। এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। এই শৃঙ্গগুলো আবার সর্বোচ্চ ৪৬ মিটার উঁচু বাঁশঝাড়ে আবৃত। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৫৭ মিটার ও ৬১০ মিটার উচ্চতার মধ্যবর্তী অবস্থানের একটি মালভূমিতে অবস্থিত।

বগালেকের প্রথম দর্শন আপনার সারা জীবনের মনে রাখা ঘটনা গুলোর মধ্যে একটি হবে। দূর থেকে গাঢ় নীল রং এর বগালেক এর পাশে যে গ্রামটিকে দেখতে পাবেন ওটি নাম বগা মুখ পাড়া। এটা বমদের গ্রাম। আর্মি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে সরু পথ ধরে আপনি চলে আসবেন বগালেক সমতলে। এখানে পৌছানোর পর আপনাকে বগা আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে।

অদ্ভুদ সুন্দর এই নীল রঙ্গের লেকের সঠিক গভীরতা বের করা যায়নি। স্থানীয়ভাবে দুইশ' থেকে আড়াইশ' ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এই লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে ঘোলাটে হয়ে যায়। আর লেকের সাথে সাথে আসে পাশের নদীর পানিও ঘোলাটে রং ধারন করে। কারণ হিসেবে মনে করেন এর তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে। এই প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় হ্রদের পানির রঙ বদলে যায়। প্রচুর বিশালকায় মাছে ভরা। প্রচুর জলজ লতাপাতা আর খাঁড়া পাথরের পাড়ের জন্য চমৎকার তাপমাত্রার এই পানিতে সাঁতার কাটার সময় একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন।


থাকা এবং খাবার জন্যে লারাম বম, সিয়াম বম (স্থানীয় স্কুল টিচার সিয়াম দিদি) সহ কয়েকটি দোকান আছে। প্রতিদিন ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে রাতে থাকার ও তিন বেলা খাবার ব্যাবস্থা হয়ে যাবে। আছে একটি স্কুল ও একটি গির্জা। এখানে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। মাঝে সাঝে গ্রামীনফোন মোবাইল নেটওয়ার্ক মিলবে গির্জার আর আর্মি ক্যাম্পের কোনায়।

১) বগালেক প্রথম দর্শন ২) বগালেক আর্মি ক্যাম্প ৩) সিয়াম দি'র কটেজ ৪) বমদের গ্রাম ৫) মুরংদের গ্রাম
বমদের গ্রামটা খুব একটা বড় নয়। হাতে সময় নিয়ে আপনি ঘুড়ে দেখতে পারেন পুরো গ্রাম। ছবি তোলার নেশা থাকলে সাথে ক্যামেরা নিন। তবে সাবধান, পাহাড়ি এলাকায় অবশ্য পালনীয় কিছু নিয়মের ভিতর একটি নিয়ম হলো “পাহাড়িদের বিশেষ করে মেয়েদের বিনা অনুমতিতে ছবি নেবেন না”। এই এলাকা এতই দুর্গম যে এইখানে অনেকে বাংলা বলতে পারে না। গোত্র বিশেষে এখনও অনেক গোত্রের মেয়েরা অল্প কাপড় পরিধান করে, কিন্তু খৃষ্টান মিশনারীদের উল্ল্যেখযোগ্য ভুমিকার কারনে শিক্ষার আলো এখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

বগা লেকের জন্ম ইতিহাস নিয়ে স্থানীয় আদিবাসী গ্রামগুলোয় একটি মজার মিথ প্রচলিত আছে, সেইটি অনেকটি এই রকম - “অনেক অনেক দিন আগে একটি চোঙা আকৃতির পাহাড় ছিল। দুর্গম পাহাড়ে ঘন অরণ্য। পাহাড়ের কোলে বাস করত আদিবাসীর দল। ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা। পাহাড়ি গ্রাম থেকে প্রায়ই গবাদিপশু আর ছোট বাচ্চারা ওই চোঙ্গা আকৃতির পাহাড়টিতে হারিয়ে যেত। গ্রামের সাহসী পুরুষের দল কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে দেখতে পায়, সেই পাহাড়ের চূড়ার গর্তে এক ভয়ঙ্কর দর্শন বগা বাস করে। বম ভাষায় বগা মানে ড্রাগন। কয়েকজন মিলে ড্রাগনটিকে আক্রমণ করে হত্যা করে ফেলে। ফলে ড্রাগনের গুহা থেকে ভয়ঙ্কর গর্জনের সঙ্গে আগুন বেরিয়ে আসে। নিমিষেই পাহাড়ের চূড়ায় মনোরম এক পাহাড়ি লেকের জন্ম হয়”

বাংলাদেশের ভূ-তত্ত্ববিদগণের মতে বগাকাইন হ্রদ (বগা লেক) মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ কিংবা মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ডের পতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আবার ভূমিধ্বসের কারণেও এটি সৃষ্টি হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন।

বমদের গ্রাম ছাড়াও লেকের উলটা দিকে পাহাড়ের নিচে আরেকটা গ্রাম আছে মুরংদের। বগালেক থেকে ২০ মিনিট নিচে পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে এই গ্রাম। শিক্ষার তুলনা করলে বমদের থেকে এরা অনেক পিছিয়ে। তবে ছবি তোলার আশা আপনার আপাতত এখানে বাদ দিতে হবে কারন মেয়েরা তো অনেক পরে, ছোট্ট ছেলে মেয়েরাও ক্যামেরার সামনে আসে না।

মুরংদের গ্রাম থেকে বগালেক ফিরার পথে উপরের দিকে উঠতে যেয়ে এবার আপনার সময় প্রায় ২০ মিনিট বেশী লাগবে।

সারাদিন আলোছায়ার খেলা শেষে আপনার সামনে বগালেক হাজির হবে আগুল ধরা সন্ধ্যা নিয়ে। লেকের পানিতে মৃদু ঢেউ এর খেলা আর পশ্চিম দিগন্তে গোধুলীর রক্তিম আভা।


ভাগ্য ভাল হলে ভরা পূর্নিমাতে বগালেককে আবিস্কার করবেন নতুন এক রুপে। বগালেকের পিছনের পাহাড়গুলো বগালেক থেকে উঁচু হওয়ায় চাঁদ উঠার অনেক পরে আলো পড়ে লেকের পানিতে। নিকোশ কালো অন্ধকার থেকে হঠাৎ করেই উজ্জল আভা। বগালেকের অবস্থান অনেক উপরে হওয়ায় চাঁদ অনেক বড় মনে হয়। গির্জা ছুঁয়ে চাঁদটা যখন আস্তে আস্তে উপরে উঠতে থাকে তখন আবছায়া আলোয় গির্জার ক্রুশটা এক ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।


বগালেকের সবচেয়ে সুন্দর হল রাত। সিয়াম দিদির হাতে রান্না করা রাতের খাবার শেষে কিছুক্ষন বগালেকের পাড়ে পাথরের উপর বসে থাকুন। রাতকে আরো গভীর হতে দিন। সবসময়ই পরামর্শ একা একা কোথাও না যাবার জন্য। সবাই ঘুমায়ে গেলেও আর্মি ক্যাম্পে রাতভর আর্মি টহল চলে। চারদিকে সবাই ঘুমিয়ে গেলে ছোট একটা দল নিয়ে আপনি গির্জার ডান দিকে সরু পথ ধরে পিছনের পাহাড়ের ঢালের বনের দিকে চলে যান। পুর্নিমা থাকলে চাদের আলোয় পথ দেখে চলুন। অল্প কিছুদূর যাবার পর আপনি একটি শুকনো ঝরনা দেখতে পাবেন। ছোট বড় পাথর পড়ে আছে বিছিন্ন ভাবে। যেকোন একটি পাথরের উপর কোন শব্দ না করে বসে থাকুন কিছুক্ষন। কিছুক্ষনের ভিতর সমস্ত বন জেগে যাবে। চোখ বন্ধ করে শুনুন সে শব্দ। নিশ্তব্ধতার ভিতরে ঝিঝি পোকার ডাক, নাম না জানা নিশাচর পাখির ডাক। অনুভব করুন, মনে হতে থাকবে শব্দগুলো ক্রমশ আপনার দিকে এগিয়ে আসছে। এ রকম রাত বোধ হয় জীবনে একবার ই আসে।


সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে প্রতি বেলায়ই বগা লেক নতুন রূপে ধরা দেয়। বগালেক থেকে কেওকারাডাং খুব কাছেই। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার ভ্রমন তালিকায় যোগ করতে পারেন।



পাহাড়ি এলাকায় যাবার পূর্বে অবশ্য পালনীয় কিছু নিয়ম
পাহাড়ে সবসময় আইন মেনে চলবেন, কখনও পাহাড়ি কালচারের প্রতি অসম্মানজনক কোনো আচরণ বা মন্তব্য করবেন না, বন্য জীবজন্তু বা পরিবেশের ক্ষতি করবেন না, পাহাড়িদের বিশেষ করে মেয়েদের বিনা অনুমতিতে ছবি নেবেন না এবং কোনো অবস্থাতেই গাইড ছাড়া একা কোথাও যাবে না।

Tuesday, April 27, 2010

বান্দরবান প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে পর্যটন লীলাভূমি

বান্দরবান প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে পর্যটন লীলাভূমি
বান্দরবান পার্বত্য পর্যটন নগরী হিসাবে কোন দেশ চেয়েই কমতি নেই বলা চলে। শৗত মৌসুমের বান্দরবান পার্বত্য জেলা পর্যটন নগরীতের হাজার হাজার দর্শনার্থীরা বান্দরবান প্রাকৃতি অনুভব করতে চলে আসেন।
এই জেলা আদিবাসীদের মধ্যে বসবাস করেন ১৩ টি নৃতাক্তিজাতির সহ বাঙ্গালীরা গোষ্ঠী ও জীবনচিত্র দেখে আমরা মুদ্ধ হই প্রতিনিয়ত। প্রাকৃতিকে কাছ থেকে দেখতে না পারায় কখনো কখনো অসহায় বোধ করি শহরবাসী।আমাদের অনেকেরই জানা নেই আমাদের দেশের প্রাকৃতিক রুপময়তার কথা।
একবার ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেই আসুন জীবনানন্দের রুপসী বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ -বিশ্ব কবির সোনার বাংলা রুপের যে তা নেইকো শেষ ,এ ভুমি যে কি পরিমান রুপ রস ঐশ্বর্য্য আপন বুকে লূকিয়ে রেখেছে তা না দেখে কল্পনাই করা যায়না। এই রুপের কোন মানুষ যদি স্বাদ গ্রহন করতে চান তবে চলে আসুন বান্দরবান পার্বত্য জেলা শহরের।
প্রাকৃতির নি:স্বগের চিরসবুজ শৈল শ্রেনীর পাদদেশে গড়ে ওঠা অর্পূব লীলাভ’মি বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রকৃতি রুপ আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বান্দরবান প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটনপিপাসুদেরও অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে । বান্দরবান পার্বত্য জেলা আদিবাসীদের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত স্থান হিসাবে সুযোগ পাওয়া যায়।
এখানে বিভিন্ন আদিবাসীরা বসবাস করে থাকেন-মারমা, ম্রো খুমী, লুসাই, বম, পাংখো, চাক,খীসা, ত্রিপুরা, চাকমা, টঞ্চগ্যা। এদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতি নীতিমালা নিজ সাংস্কৃতিক নিয়ে জীবন যাত্রা। তাই বান্দরবান পার্বত্য জেলা আদিবাসীদের মধ্যে মারমা আদিবাসীরা সংখ্যা দিক দিয়ে বেশি বলা চলে।
বাংলাদেশের যে কয়েকটি স্থান পর্যটকদের স্থান হিসাবে আকৃষ্ট করে তাদের মধ্যে নি:সন্দেহে বান্দরবান অন্যতম। শহরের কোলাহল, যানজট, যান্ত্রিক নগরী থেকে একটু স্বস্তি পেতে পারেন বান্দরবান এলাকায় বেড়ানো।

বান্দরবান জেলা নাম করণ করা হয়েছি অতীতে এই জেলা ছিল বানর ও জীবন বিচিত্র ভরপুর। এতে বানর ছিলেনঅন্যতম/ভরপুর তা কারনে বান্দরবান নাম করণ করা হয়। বর্তমানে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত।
কিভাবে যাবেন:
বান্দরবান পার্বত্য জেলা বন্দর নগরী চট্রগ্রাম থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর। পূরবী-পূর্বানী ও মাইক্রোবাস যোগের যাওয়া যায় জন প্রতি ৭৫ টাকা ভাড়ায়।
চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবান ২ ঘন্টা মধ্যে বান্দরবান শহরের গাড়ী/বাস টি শহরের পৌছানো ব্যবস্থা করে দিবেন। এখানে সবুজ বনানী ঘেড়া বান্দরবানের হোটেল মোটেল গুলোর অতিথেয়তায় সত্যিই মুদ্ধ হবেন আপনি। মধ্যম মান থেকে উচচ মানের এ সব অতিথিশালায় নন এসি /এসি রুমে রাত্রি যাপনের সুযোগ থাকছে বিভিন্ন হোটেল গুলোতে।

এখানে রয়েছে পর্যটন মোটেল, শেঘলা পর্যটন, হোটেল রয়েল, জেলা পরিষদ রেষ্ট হাউজ,হোটেল পূরবী, হোটেল পূর্বাণী, হোটেল গ্রীন হিল, হোটেল মাষ্টার , হোটেল থ্রী ষ্টার ,হোঠেল ফর ষ্টার, মিলন চড়ি, সাকুরা হিল সাইড রিসোর্স সহ অন্যতম। এছাড়া রয়েছে বান্দরবানে অন্যতম পর্যটন ষ্পট নীলগিরি যার অবস্থিত রুমা উপজেলা ৩৫৫ নং সেপ্রু মৌজা।
সেখানে প্রকৃতির অপারুপ লীলা ভ’মিতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে সহজ ও জীপ যোগের আরামদায়ক হওয়ার কারনে এ শহরে একবার ভ্রমনবার বার পাহাড় এর দর্শন পেতে সাধ জাগবে আপনার।

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবান আসার পথে চোকে পড়বে মেঘলা, হলিডে ইন সহ বিভিন্ন ষ্পট গুলো। বান্দরবান শহর থেকে ৩( তিন) কিলোমিটার দূরে মেঘনা অবস্থিত।

যার চার পাশে পাহাড় বিশিষ্ট যার বাধঁ কেন্দ্র করে ঝলন্ত সেতু নিমার্ণ করা হয়েছে । বর্মমানে জেলা প্রশাসন তত্বাবধানের জেলা পরিচালিত হয়ে আসছেন। মেঘনা যার আয়তনে ৩০ একর এলাকায় বিস্থিত অবস্থান।
পাশে রয়েছেন জেলা পরিষদ ভবন ও পর্যটন মোটেল গুলোতে রাত্রি যাপন করতে পারেন আপনিও। নীলগিরি যাওয়া পথে চিম্বুক পর্যটন যেখানে কুয়াশার চাদরে শীত কালে ঢাকা থাকে প্রতিনিয়ত বলা। আকাশের সেই সারি সাি মেঘ খন্ড কার মন না চায় ধরতে। চিম্বুকের পাহাড়ের চুড়া থেকে মেঘের পরশ পাওয়ার অনুভ’তি সত্যি আপনাকে বিমোহিত করবে।
চিম্বুক পাহাড় থেকে কক্সবাজার সহ সু নীল জলরাশি। পাহাড়ের পাহাড়ের ম্রো আদিবাসীদের জীবন ধারা দেখতে পারেন। প্রান্তিক লেক বান্দরবান শহরের পাশে হলুদিয়া নামক স্থানে ২০০ একর জায়গার পাহাড়ের ঘেড়া প্রান্তিক লেক ও ন্যাচারাল পার্ক সহ আর্কষনীয় স্থান রয়েছে সেখানে নীলাচল বান্দরবান শহরের যৌথ খামার এলাকায় টাইগার হিলে অবস্থিত যার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে।
জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে পরিচালিত এ পর্যটন কেন্দ্রটি অত্যন্ত মেনামুগ্ধকরা ও আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে পরিচিত লাভ করছে দিন দিন। যেখান থেকে বান্দরবান শহর কে দেখতে পারেন।রুমা জলপ্রপাত রুমা উপজেলা থেকে ৬ কিলোমিটার দুুরে সু-উচচ পাহাড় থেকে শঙ্গ নদীতে পতিত হয় সারা বছরে ধরে পানি।
স্বর্ণ মন্দির বান্দরবান শহরের পাশে বালাঘাটা আদুরের অবস্থিত। সেখানে বৌদ্ধ ধর্ম লম্বীদের জন্য স্বর্ণ মন্দির বিখ্যাত হয়ে পড়ে আছেন।
তাই বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রাকৃতিক- পরিবেশ রক্ষা সহ উপযোগী পর্যটন নগরীতে পরিণত করা সম্ভাবনা অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দারিয়েছে।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ প্রতিনিধি/ ই এইচ/ আই এইচ
বান্দরবান, ৭ এপ্রিল, রেডটাইমস বিডি ডটকম:

Tuesday, April 6, 2010

বৈসাবিতে স্বাগতম

বৈসাবিতে স্বাগতম



আপনি কি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী বন্ধুর আমন্ত্রণ পেয়েছেন? আসবেন না আদিবাসীদের বৈসাবিতে? সময় ও সুযোগ হলে চলে চলে আসুন রাঙামাটি, বান্দরবান অথবা খাগড়াছড়িতে। বাংলা বছরের শেষ দিনটি সবার জন্য সব আদিবাসীর বাড়ির দুয়ার থাকে খোলা। সারা দিন চলে আপ্যায়ন ও খানাপিনা। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে, গ্রাম থেকে গ্রামে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের মানুষ, শোনা যাবে ‘হে হে হু হু হু রেং’ (আনন্দ ধ্বনি)।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। তবে উৎসবটির নাম সম্প্রদায়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবার উদ্যাপন রীতি ও সময় এক। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, বৃহত্তর বাঙালি সংস্কৃতির সান্নিধ্যে এসে চৈত্র সংক্রান্তির আদলে আদিবাসীরা এ উৎসবকে নিজস্ব আঙ্গিকে ধারণ করেছে।
চৈত্র মাস শুরু হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ের গাছগাছালিতে বসে একটি পাখি মধুর সুরে ডাকে বি-ঝু, বিঝু, বিঝু। এই পাখির ডাক শুনে আদিবাসীরা উৎসবের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। অবশ্য এ উৎসবকে চাকমারা বিঝু নামে ডাকলেও বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন নামে অভিহিত করে থাকে। তবে সব সম্প্রদায়ের উৎসব উদ্যাপনের রীতি প্রায় একই। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিনে চলে উৎসব।

বৈচিত্র্যময় তিন দিন
আদিবাসীদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবের যেমন ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে, তেমনি উৎসবের তিনটি দিনের নামও আলাদা। ত্রিপুরারা উৎসবের প্রথম দিনকে হারি বৈসুক, দ্বিতীয় দিনকে বিসুমা ও তৃতীয় দিনকে বিসিকাতাল, একইভাবে মারমারা সাংগ্রাই আকনিয়াহ্, সাংগ্রাই আক্রাইনিহ্ ও লাছাইংতার এবং চাকমারা ফুলবিঝু, মূলবিঝু ও গোজ্যেপোজ্যে দিন বলে। উৎসব উদ্যাপনের সময় একই হলেও বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায় বর্মী পঞ্জিকা অনুসারে দুই দিন পর উৎসব শুরু করে। অবশ্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মারমারা চাকমা এবং ত্রিপুরাদের সঙ্গেই উৎসব উদ্যাপন করে।
উৎসবের প্রথম দিন ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এ দিন পাহাড়ি ছড়া, ঝরনা বা নদীতে ফুল ভাসিয়ে দিয়ে ‘মা গঙ্গা’কে পূজা করে গোসল করা হয়। এ ছাড়াও পাড়ার যুবক-যুবতীরা নদী থেকে পানি তুলে প্রবীণদের গোসল করিয়ে আশীর্বাদ নেন। অনেক এলাকায় দল বেঁধে বৌদ্ধ মূর্তিগুলোকেও গোসল করানো হয়। এর পর সারা দিন প্রস্তুতি চলে পরবর্তী দিন বা উৎসবের মূল দিনের খানাপিনা আয়োজনের।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রত্যেক বাড়িতে নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। তবে ২০ থেকে ২৫ বা তারও বেশি আনাজপাতি দিয়ে তৈরি ‘পাজন’ এবং পানীয় পরিবেশন করা হয়। নানা বয়সী লোকজন সারা দিন দল বেঁধে ‘হে হু হু হু’ রেং (আনন্দ ধ্বনি) দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। চাকমাদের একটা কথা প্রচলন আছে, যে ব্যক্তি কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে বিঝু খাবে না সে পরবর্তী জনমে শূকর হয়ে জন্মাবে।
তৃতীয় দিনে দল বেধেঁ মন্দিরে গিয়ে নতুন বছরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়। এ দিন অনেকে পাড়ার বয়স্ক মুরব্বিদের বাড়িতে ডেকে ভালো কিছু খাবার দেন। আর অনেকে উৎসবের তিন দিন মন্দির, বাড়ির আঙিনা, নদীর ঘাট, সবুজ গাছের নিচে এবং গোয়াল ঘরে বিভিন্ন দেব-দেবীর উদ্দেশে মোমবাতি জ্বালান।
তবে উৎসবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের কিছু বিশেষ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান থাকে। এর মধ্যে চাকমাদের ‘বিঝু নৃত্য’, ত্রিপুরাদের ‘গরাইয়া নৃত্য’ ও মারমাদের ‘পানি খেলা’ রয়েছে। তবে একমাত্র মারমাদের পানি খেলা ছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায় আর তেমনভাবে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে না। অনেক সময় কিছু এলাকায় বিশেষভাবে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার এবং পটুয়াখালীর রাখাইন সম্প্রদায়ও বর্ষবিদায় এবং বরণ উৎসব পালন করে থাকে। তারা এ উৎসবকে ‘মাহা সাংগ্রেং’ বলে অভিহিত করে। এ ছাড়াও ভারতের আসাম, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওসসহ বেশ কয়েকটি দেশে একই সময় অর্থাৎ ইংরেজি মাস এপ্রিলের ১৩-১৪ তারিখে উৎসবটি পালন করা হয় বলে বিভিন্ন গবেষকের লেখায় জানা যায়। এ উৎসব আসামে ‘বিহু’, মিয়ানমারে ‘ছিংগায়ান’ এবং থাইল্যান্ডে ‘সংক্রান’ নামে পরিচিত। কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বাদ দিলে উৎসবটি সব দেশে পালনের রীতি একই বলে জানা যায়।
বৈসাবিকে উপলক্ষ করে এ সময়টা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে পারেন। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কটা দিন ভালোই লাগবে।

হরি কিশোর চাকমা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, এপ্রিল ০৬, ২০১০